একজন গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে সবথেকে বড় উৎসাহ এবং জানার বিষয় হচ্ছে তার পেটের সন্তান ছেলে নাকি মেয়ে। এটি প্রত্যেকটা দম্পতি এবং সন্তান সম্ভবা নারীর ক্ষেত্রে একই রকম উচ্ছ্বাসের বিষয়। আপনার সন্তান ছেলে না মেয়ে সেটা আপনি ছোট ছোট কিছু বিষয় খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন। আদিমকাল ও প্রাচীনকাল থেকে কিছু কিছু বিষয় আছে যেগুলো দ্বারা সম্ভাব্য একটি ধারণা করা হতো এবং তাদের ধারণা গুলো বেশিরভাগ সময়ই সঠিক হত। আজকে আমাদের আলোচনায় আমরা সে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব। আমাদের এই পোস্টটি সম্পুর্ণ বিজ্ঞানসম্মত এবং একজন ডাক্তার কর্তৃক প্রদানকৃত। Read in English

লক্ষন দেখে বুঝুন ছেলে সন্তান ছেলে না মেয়ে

আমাদের আজকের বিষয় যে ৭টি লক্ষণ দেখলে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার গর্ভে পুত্র সন্তান রয়েছে অর্থাৎ ছেলে সন্তান হওয়ার প্রধান সাতটি লক্ষণ । অনেকেই জানতে চেয়েছেন কিভাবে বুঝতে পারা যায় গর্ভের সন্তান ছেলে নাকি মেয়ে? কেননা গর্ভবতী হওয়ার পর এটা খুব স্বাভাবিক যে প্রতিটি গর্ভবতী মায়ের এটা জানতে ইচ্ছা করে যে আমার গর্ভে যে বাচ্চাটি বেড়ে উঠছে সেটি ছেলে নাকি মেয়ে। আবার অনেকে নাম নির্ণয়ের জন্য কৌতুহলী হয়ে ওঠেন। আসলে এটা শতভাগ নিশ্চিত করে বলা তো যাবে না। আবার আলট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্ট ও শতভাগ সঠিক হয় না তবে অনুমান করা যায় অনেকাংশেই অনুমানটি সঠিক হয়।

১. পেটের অবস্থান

পূর্বে মানুষরা বা আমাদের দাদী নানীরা একটা ধারণা করত সেটি প্রচলিত আছে যে আপনার পেটটা যদি নিচের দিকে বেশি ঝুলে যায় তাহলে আপনার গর্ভে পুত্র সন্তান রয়েছে আর যদি ওপরের দিকে থাকে তাহলে মেয়ে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

২. ত্বকের অবস্থা বা সৌন্দর্য

অনেকেই মনে করেন আবার প্রচলিত রীতি অনুযায়ী বলা ‘হয় মেয়ে সন্তান মায়ের রূপ নিয়ে যায়। অর্থাৎ সৌন্দর্য কমে যায় এবং পুত্র সন্তান মায়ের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়। অর্থাৎ আপনার গর্ভে যদি ছেলে সন্তান থাকে তাহলে আপনার মুখে ব্রণ বা মেছতা হবে না। আপনার চুল ধরে যাবে না বরং লম্বা এবং সুন্দর হবে বা হতে পারে আপনার গর্ভে কন্যা সন্তান থাকলে আপনার পেটের ওপরে গারো দাগ পড়তে পারে এই দাগটি তলপেট থেকে নাভি পর্যন্ত হতে পারে আর ছেলে সন্তান হলে হালকা দাগ পড়ে এবং শেষ তিন মাসে সেই দাগটিও মিশে যায়।

৩. প্রাত-কালীন অসুস্থতা বা মর্নিং সিকনেস

বলা যায় গর্ভে মেয়ে সন্তান থাকলে হরমোনের প্রবাহ বেড়ে যায়। যার ফলে গর্ভবতী মায়েরা সকালে নিজেদেরকে অতিরিক্ত অসুস্থ অনুভব করে। আর যদি পুত্র সন্তান থাকে তাহলে মায়েরা সকালে তুলনামূলকভাবে সুস্থ ফিল করে। দ্য ল্যানসেট এর প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় জানা গেছে যে গর্ভবতী অবস্থায় যে সকল মেয়েরা সকালে গুরুতর অসুস্থ ছিলেন তাদের মেয়ে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

৪. বাচ্চার মুভমেন্ট বা নড়াচড়া

ছেলে সন্তান থাকলে কম নড়াচড়া করে এবং মেয়ে সন্তান থাকলে হরমোনের কারণে ছেলের তুলনায় অধিক নড়াচড়া করে। যার ফলে মায়ের পেটের আকার বা আকৃতি পরিবর্তন হতে থাকে কখনো সুন্দর আবার কখনো অদ্ভুত দেখতে লাগে।

৫.মুখের স্বাদ

গর্ভে যদি কন্যা সন্তান থাকে তাহলে চকলেট বা মিষ্টিজাতীয় খাবার বেশি পছন্দনীয় হয়ে ওঠে। আর ছেলে সন্তান থাকলে নোনতা বা ঝাল জাতীয় খাবার বেশি পছন্দ হয়।

৬.পেটের আকার

প্রচলিত আছে যে পেটে মেয়ে সন্তান থাকে সেই পেট লম্বাটে অর্থাৎ তরমুজের মতন আর ছেলে সন্তান থাকলে পেট গোলাকার হয় অর্থাৎ বলের মতন দেখতে হয়।

৭.বাচ্চার হার্ট রেট

অনেকেইবলে পুত্র সন্তান হলে বাচ্চার হার্ট রেট কম থাকে অর্থাৎ আপনার গর্ভের বাচ্চার হার্টবিট যদি ১৪০ বা ১৪০ এর কম থাকে তাহলে আপনার পুত্র সন্তান হতে চলেছে।।

এই লক্ষণগুলো আপনাকে গর্ভকালীন অবস্থায় বুঝতে সাহায্য করবে যে আপনি পুত্র সন্তানের মা হতে চলেছেন কন্যা সন্তানের মা হতে চলেছেন।

আপনি যদি  একজন সন্তান সম্ভবা হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আজকের এই পোষ্ট টি আপনার জন্য।  যদিও কন্যা সন্তান পুত্র সন্তান সম্পূর্ন আল্লাহ পাকের দেয়া একটি বড় নেয়ামত তবুও একজন গর্ভবতী মায়ের ক্ষেত্রে তার সঙ্গে থাকা অস্তিত্ব ছেলে না মেয়ে সেটা জানার জন্য আগ্রহ বেশি থাকে। সর্বোপরি বলতে চাই আপনাকে লক্ষণ দেখে বুঝে নিন আপনার অনাগত সন্তানকে পুরুষ নাকি মহিলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.