সৌদি আরবের নারী বলতে আমরা যা বুঝি বড় বড় হিজাবের আড়ালে লুকায়িত নারী। সৌদি আরবসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি ইসলামিক রাষ্ট্রে নারীদের চাকরি করার  পুরুষদের মত অবাধে চলাফেরা সুযোগ-সুবিধা বা স্বাধীনতা নেই। সৌদি আরব বরাবরই নারীদের হিজাব ও পর্দার আড়ালে রাখতে পছন্দ করে। কিন্তু বর্তমানে এর থেকে বেরিয়ে আসছে সৌদি আরব এবং পুরুষের পাশাপাশি নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের নিয়োগ দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সৌদির একটি কোম্পানি তাদের এক বিজ্ঞাপনে প্রকাশ করেন রেল চালক পদের জন্য ৩০ জন নারী চালক নিয়োগ দিবেন তারা। এরই জের ধরে ৩০ জন নারী চালকের পরিবর্তে সেই কোম্পানিতে মোট আবেদন জমা পড়ে প্রায় ২৮ হাজার নারীর। প্রতিষ্ঠানটি জানান বাছাইকৃত নারীরা তাদের এক বছরের প্রশিক্ষণ শেষে পবিত্র মক্কা ও মদিনা শহরের মধ্যে উচ্চ গতিসম্পন্ন ট্রেন চালানোর সুযোগ পাবেন। নারীর ক্ষমতায়নের দিক থেকে বরাবরই পিছিয়ে রয়েছেন সৌদি আরব। Read in English

রেলে নারীদের চাকরি

বর্তমান সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছেন নারীর ক্ষমতায়নের এবং নারীর অবস্থার পরিবর্তনের জন্য। পূর্বে সৌদি আরবে সকল পদের জন্য কোন নারীর অংশগ্রহণ ছিলো না। কিন্তু বর্তমানে সৌদি যুবরাজ যে নারীর ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, উক্ত রেলে নারীর অংশগ্রহণ সৌদি যুবরাজের নারী ক্ষমতায়নের জন্য কাজের একটি নমুনা মাত্র। পূর্বে সৌদি আরবে নারীদের গাড়ি চালানোর পরও নিষেধাজ্ঞা ছিল। কিন্তু বর্তমানে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে এর থেকে বোঝা যায় সৌদি আরবে দিন দিন নারীর ক্ষমতায়ন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে নারীর অংশগ্রহণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, বিগত পাঁচ বছরে সৌদি আরবের নারীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অংশগ্রহণের হার এই  দেশটির জনশক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণ বর্তমানে ৩০ শতাংশ বেশি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুরুষের তুলনায় নারীর দক্ষতা বিচক্ষণতার শহীত প্রমাণ করে আসছে।

বিবিসির সূত্রমতে সৌদি আরবে চিকিৎসা বিয়ে-তালাক সহ বিভিন্ন সমস্যার জন্য একটি নারীকে পুরুষের উপর নির্ভরশীল হতে হয়। কারণ সৌদি আরবের বেশিরভাগ চাকরি থেকে শুরু করে ব্যবসা সবকিছুই পুরুষদের  দখলে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছে।

সৌদি আরবে নারী ক্ষমতায়ন

হয়তোবা সেই দিনটার দূরে নয় যেদিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশে নারীরা যেভাবে দেশ তথা জাতির কল্যাণে নিবেদিত করছে। সৌদি আরবেও সেটি লক্ষ্য করা যাবে। অন্যান্য দেশে নারীদের যেভাবে ক্ষমতার সুযোগ আছে সৌদি আরবের সেটি নেই। যদি অন্যান্য দেশের মতো নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য সৌদি সরকার একটু শিথিলতা প্রদর্শন করে তবে অন্যান্য দেশের মতো নারীরাও দেশের উচ্চ পর্যায়ে গিয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সকল কাজে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে পারবে। বর্তমানে সৌদি যুবরাজ নারীর ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

সেখান থেকে আমরা বলতে পারি সেই দিন দূরে নয় যখন সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ আসনে আমরা নারীদের দেখতে পাব ব্যবসা-বাণিজ্যসহ প্রতিটা সরকারি ক্ষেত্রে যে নারীদের অবদান আছে সেটা আমরা যতক্ষণ তাদের সুযোগ না দেবো বুঝতে পারব না। চিকিৎসা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা সহ নানাবিদ এমন কার্যক্রম আছে যেখানে আমরা নারীদের পরিপূর্ণভাবে অংশগ্রন করাতে পারি। সৌদি আরবে নারীদের যেমন পর্দার আড়ালে কাজ করতে হয় এমন অনেক ক্ষেত্র আছে যেখানে তাদের পরিপূর্ণ পর্দার সহিত কাজ করার সুযোগ-সুবিধা আছে সে ক্ষেত্রে একদিকে যেমন ইসলামিক শাসন কায়েম হবে তেমনি ভাবে আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগ্য নারীদের তাদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ করে দিতে পারব।

Leave a Reply

Your email address will not be published.