পায়খানা করতে গেলে ব্যথা করে, সাথে রক্ত যায়, পায়খানার রাস্তায় গোটা গোটা কি যেন হয়েছে, সমাধান কি?? Read in English

আপনাদের বুঝিয়ে বলি পায়ুপথ কি? পায়ুপথ বলতে বোঝায় শরীর থেকে যেখান দিয়ে পায়খানা বের হয়ে যায়। পায়ুপথের মুখ সাধারণত বন্ধ থাকে। আমাদের যখন প্রয়োজন পড়ে তখন আমরা চাপ দিয়ে সেই পায়ুপথের মুখ খুলে পায়খানা বা মাল বের করে দেই। পায়ুপথের মুখ বন্ধ রাখতে সেখানে বেশ কিছু জিনিস একসাথে কাজ করে। তার মধ্যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হলো- এনাল কোশ্চেন। এটা তিন দিক থেকে চাপ দিয়ে পায়ুপথের মুখ বন্ধ রাখতে সাহায্য করে। যদি কোনো কারণে তিন দিকের এই কুশন গুলো ফুলে যায়, সেগুলো থেকে রক্তক্ষরণ হয় এবং নিচের দিকে ঝুলে আসে, পায়ুপথের চারপাশের গোটার মতো দেখা যায় তখন আমরা সেটাকে পাইলস বা অর্শ্ব বলি।

পাইলস হলে আপনার শরীরে কেমন প্রভাব ফেলতে পারে

১. পায়খানার সাথে রক্ত যেতে পারে। উজ্জ্বল রঙের রক্ত। সাধারণত দেখা যায় সেখানে রক্তের ফোঁটা লেগে আছে অথবা কমোড এবার টয়লেটে রক্তের ছোপ। উজ্জ্বল লাল রক্ত কেন বের হয়? পায়খানা বের হওয়ার পথে একদম শেষের দিকে রাস্তার মুখে কোশ্চেনগুলো থেকে রক্ত বের হচ্ছে সে রক্ত এখনও তাজা জমাট বাঁধার সুযোগ পায়নি তাই উজ্জ্বল লাল দেখা যায়। পক্ষান্তরে রক্তক্ষরণ যদি আগে হত ধরণ পাকস্থলীতে রক্তক্ষরণ হয়েছে সে রক্তনালীর গ্রুপে আসতে আসতে জমাট বাঁধে তখন সেই রক্তের রং পায়খানার সাথে মিশে পায়খানার রং হয় আলকাতরার মত কালো। এমন হলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে কারণ পরীক্ষা করে দেখা দরকার কি হয়েছে।

২. কুশন গুলো ফুলে পায়ুপথ দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারে তখন নরম গোটার মতো মনে হয়। সেগুলো সাধারনত মলত্যাগের পরে বেরিয়ে আসে এবং নিজের নিজের ভেতরে ঢুকে যায় বা আঙ্গুল দিয়ে ঢুকানো যেতে পারে আবার দেখা যায় কারও কারও ক্ষেত্রে পাইলস আঙুল ঢোকানো সম্ভব হয় না।

৩. অনেকে মনে করেন এ রোগের ব্যথা কেমন হবে? সাধারণত ব্যথা হয় না তবে কখনো কখনো তীব্র ব্যথা হতে পারে, যেমনঃ পায়ুপথের বাইরে যদি নরম গোটা থাকে এবং সেগুলো আঙ্গুল দিয়ে ভেতরে ঢোকানোর সম্ভব হয় না যার ফলে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়।

৪. আপনার পায়ু পথ চুলকাতে পারে পায়ুপথ দিয়ে পিচ্ছিল কিছু জিনিস বের হতে পারে। যেটা দেখে ফ্ল্যাশ বার মত যার ফলে মলত্যাগ করার পরও মনে হয় যে আপনার পেট পরিষ্কার হয়নি আবারও মলত্যাগ করতে হবে।

পাইলস ঔষধ এবং ঘরোয়া পদ্ধতি

পাইলসের সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা। এজন্য অনেকেই ইসবগুলের ভুষি খেয়ে থাকেন। আমরা অনেকেই এই ঔষধটি সম্পর্কে জানি কিন্তু সঠিক ব্যবহার বা সাবধানতা অনেকেরই অজানা। সেটা কখন খাবেন কিভাবে খাবেন এবং কতটুকু খাবেন সে সম্পর্কে একটু ধারনা দিয়ে দিচ্ছি আপনাদের। প্যাকেটের গায়ে দেয়ার নির্দেশনা অনুযায়ী পরিমাণমতো পানিতে ইসবগুলের ভুষি মিক্স করবেন যাতে করে এটা দেখতে স্বচ্ছ একটু ঘোলাটে দেখায়। বানানোর পর রেখে দিবেন না সাথে সাথে খেয়ে ফেলবেন। সাধারনত দিনে খেতে হয় খাবার পর পর এবং ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার পর দিনে অন্তত দুই লিটার পানি পান করতে হবে। তবে রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে ইসবগুলের ভুষি কখনোই খাবেনা, পেটে ব্যথা বা বমি অনুভূত হলে খাওয়া যাবেনা, পায়ুপথের মুখ বন্ধ থাকলে যদি আপনার মলত্যাগের অভ্যাসে হঠাৎ করে পরিবর্তন হয়।

এই পরিবর্তন দুই সপ্তাহের বেশি হলে পায়ুপথ দিয়ে রক্ত গেলে এবং সেটার  কারন জানা না গেলে তবে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া আপনারা কখনোই নিজে নিজে এই ইসবগুলের ভুষি খাওয়া উচিত না। এতে ডায়রিয়াসহ এর আরো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তিন দিন ব্যবহারের পরে কোষ্ঠকাঠিন্যের কোনো পরিবর্তন না হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন। ব্যথা হলে ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল খেতে পারেন এবং বিভিন্ন ধরনের মলম আছে যেগুলো ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারেন। তবে পাইলস হলে কিছু কিছু ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যাবে না।

পাইলস হলে কি কি ওষুধ খাওয়া যাবে না

আসুন জেনে নেই সেগুলো কি কি?

১. ট্রামাডল

২. আইবুপ্রোফেন

ঔষুধের পাশাপাশি ঘরোয়া পদ্ধতিতে কিভাবে পাইলসের ব্যথা কমাবেন আসুন জেনে নেই দশটা উপায় এর মাধ্যমেঃ

 ১. ব্যথার জায়গাটা কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখতে পারে।

২. একটা প্যাকেট এর কিছু বরফ নিয়ে সেটা একটা ত্যানা দিয়ে মুড়িয়ে পায়ুপথের গোটাগুলো ওপর দিতে পারেন।

৩. পিছনে শুয়ে পা উঁচু করে রাখতে পারেন এতে গোটা গুলোর রক্তচলাচল সহজ হবে।

৪. পায়ুপথ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং শুষ্ক রাখবেন।

৫. মলত্যাগ করার সময় খুব জোরে চাপ দেওয়া যাবে না।

৬. অনেক সময় ধরে মলত্যাগ করা যাবে না।

৭. পায়খানার চাপ আসলে সেটা আটকে রাখবেন না।

৮. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে খাদ্যের যথেষ্ট পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ নিশ্চিত করবেন এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করবেন।

৯. নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করবেন।

১০. অতিরিক্ত ওজন হলে সেটা কমিয়ে ফেলুন।

পাইলস হলে কখন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে?

১. যদি সাত দিন বাসায় চিকিৎসা করে পাইলস এর কোনো উন্নতি না দেখেন।

২. যদি বারবার পাইলস হতে থাকে।

৩. বয়স যদি ৫৫ এর বেশি হয় এবং প্রথমবারের মতো পায়েল দেখা দেয়।

পাইলস হলে কখন দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে

১. যদি পাইলস থেকে পুঁজ বের হতে থাকে।

২. যদি গায়ে খুব জ্বর আসে কাঁপুনি হয় এবং শরীর খুব দুর্বল লাগে।

৩. যদি অনবরত রক্তক্ষরণ হতে থাকে।

৪. যদিও অনেক বেশি রক্ত যায় যেমন কোমরের পানি লাল হয়ে গেছে এবং চাকা চাকা রক্ত যাচ্ছে।

৫. যদি খুব তীব্র ব্যথা হয়।

৬. যদি পায়খানা আলকাতরার মত কালো হয়।

উপরে বর্ণিত নিয়মগুলো অনুসরণ করলে বিনা সার্জারিতে দেখা যায় অনেক সময় পাইলস থেকে মুক্তি পাওয়া যায় ।তাই আমরা সবসময় বলে থাকি যারা পাইলসের রোগী তারা এই নিয়মগুলো অনুসরণ করে চলবেন এতে করে আপনাদের জীবনযাত্রার মান সুস্থ এবং সুন্দর হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.