মসুর ডাল বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান খাদ্য শস্যের মধ্যে একটি। আবার এটিকে বাঙালি রান্না ঘরের একটি সুপরিচিত খাদ্য বলা যেতে পারে। বাংলাদেশে অধিকাংশ কিছু পরিবার আছে যে পরিবারগুলোয় মসুর ডাল ছাড়া একদিন চলে না। যারা বাঙালি এবং মসুর ডাল চেনেন না এমনটা হতেই পারেনা। Read in English

বাসাবাড়ি হোস্টেল কিংবা মেস প্রতিস্থানে মসুর ডালের ব্যবহার মাত্রাতিরিক্ত ভাবে বেশি। মসুর ডাল কে সব ডাল এর রানী বলা যেতে পারে। মসুর ডালের খাদ্যগুণাগুণ এবং এর স্বাদ অন্যান্য সকল ডাল থেকে ভিন্ন এবং অনেক বেশি। মসুর ডাল পছন্দ করেন না এমন বাঙালি হয়তো কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। কারণ প্রতিটি বাঙালির রান্না ঘরে এটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। উৎস আমিষসমৃদ্ধ মসুর ডাল দিয়ে আমাদের দেহে একাধিক রোগ উপশমে উপকারী এবং দেহের বিভিন্ন ধরনের আমিষের অভাব পূরণ করে থাকে। কিন্তু তবুও আমরা অনেকেই ডালের গুনাগুন সম্পর্কে অজ্ঞাত আসুন জেনে নেই মসুর ডালের উপকারিতা সম্পর্কে।

মসুর ডালের উপকারিতা সমুহ

ওজন নিয়ন্ত্রণে

মসুর ডালে আমরা উচ্চমাত্রায় ফাইবার পেয়ে থাকি যা আমাদের ওজন কমানোর পাশাপাশি বেশি শক্তিশালী করে তোলে এবং শরীর থেকে বিভিন্ন ধরনের কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কমাতে সহায়তা করে। আয়রনের অন্যতম একটি উৎস হল মসুর ডাল আয়রনের একটি অন্যতম উৎস হওয়ায় মসুর ডাল আমাদের শরীরের বিপাকে সক্রিয় করে খাবারকে হজমে সহায়তা করে যার ফলে ওজন কমতে থাকে। তাহলে বলতে পারি মসুর ডাল আমাদের শরীরের খাদ্যগুণাগুণ সম্পূর্ণ রাখার পাশাপাশি ওজন কমাতে সাহায্য করে।

হৃদযন্ত্র সচল রাখতে এবং কোলেস্টেরল কমাতে

মসুর ডাল আমাদের হৃদযন্ত্র সচল রাখে এবং শরীর থেকে খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে। প্রোটিন এবং ফাইবার জাতীয় পদার্থ থাকায় মসুর ডাল আমাদের যথাযথ অক্সিজেন গ্রহণ করে থাকে এবং শরীরকে সুস্থ এবং সবল রাখতে সহায়তা করে। হৃদযন্ত্রে চর্বি জমা থেকেও আমাদেরও কাপড়ে মসুর ডাল।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে মসুর ডাল একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। রক্তের শর্করা পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে মসুর ডালের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বাড়তি শর্করার উপাদানকে প্রতিরোধ করে এবং রক্তপ্রবাহের শর্করার পরিমাণ কমিয়ে রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এটি হজমে একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করে থাকে। ডায়াবেটিস বর্তমানে আমাদের দেশে এত বেশি হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে যে সেখান থেকে বলতে পারি মসুর ডাল অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার।

হজমে সহায়তা করে

উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ খাদ্য হওয়ায় মসুর ডাল খাদ্যকে সহজে হজম করতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর সহ পাচনতন্ত্র কে পরিষ্কার করে পেট পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে মসুর ডাল

শরীরের অনাক্রম্যতা বৃদ্ধিতে সহায়ক

শরীরের অনাক্রম্যতা বৃদ্ধিসহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে উন্নত করতে মসুর ডালের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

ক্যান্সার প্রতিরোধে

ক্যান্সারের মতো জটিল রোগ প্রতিরোধে মসুর ডাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে । ডালে উপস্থিত পলিফেনোল গুলি ক্যান্সারের সুরক্ষা এবং ক্যান্সারের চিকিৎসায় সহায়ক হিসেবে কাজ করে থাকে।

দাঁত এবং হাড়ের সুরক্ষায়

পুষ্টি উপাদানের বিভিন্ন উৎসব মধ্যে মসুর ডাল একটি এটি প্রোটিন এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান এর সর্বোচ্চ উৎস হওয়ায় মসুর ডাল আমাদের শরীরকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে তুলতে সহায়তা করে।

মানসিক বিকাশে

বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান গুলি মসুর ডালের মধ্যে উপস্থিত থাকায় এটি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যকে ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করে।

গর্ভবস্থায়

গর্ভবতী মায়েদের শরীরে প্রোটিনের চাহিদা অনেক বেশি থাকে আর এই চাহিদা পূরণে সহায়তা করে থাকে মসুর ডাল। মসুর ডালের পাশাপাশি গর্ভবতী মায়েদের অন্যান্য পুষ্টি উপাদান গুলি নবজাতকের বৃদ্ধি এবং তার শরীর গঠনে সহায়তা করে।

সুতরাং পরিশেষে আমরা বলতে পারি মসুর ডাল আমাদের খাদ্য তালিকার বড় একটি উপাদান। নিজের শরীরকে সুস্থ সবল রাখতে গর্ভবতী মায়ের ক্ষেত্রে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে মসুর ডালের প্রয়োজনীয়া অনেক। তাই আমাদের খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন মসুর ডাল রাখার চেষ্টা করব অথবা সপ্তাহে চারদিন মসুর ডাল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published.