ডায়াবেটিস কি এবং ডায়াবেটিস এর লক্ষণ : মানুষের শরীরে অতিমাত্রায় গ্লুকোজের আধিক্যকে ডায়াবেটিস বলা হয়। বর্তমান সময়ে ডায়াবেটিস একটি আতংকের নাম। এখন প্রায় প্রতি প্রতিটি পরিবার ডায়াবেটিস এর সাথে পরিচিত। শরীর যখন একবারে ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না অথবা তৈরি করলেও সেটা যথেষ্ট পরিমাণে হয় না তখন আমাদের শরীর থেকে ডায়াবেটিসের উপসর্গগুলো প্রকাশ পেতে থাকে। আমরা যে খাবারগুলো গ্রহণ করি তার বেশিরভাগই শক্তিতে রূপান্তরিত হয় গ্লুকোজ মাধ্যমে। আর রক্তের মাধ্যমে শরীরের প্রতিটি কোষে গ্লুকোজ পৌঁছে যায়। কষে কষে এই শক্তির পৌঁছানোর যে প্রক্রিয়া সেখানে ইনসুলিন নামক হরমোনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বিদ্যমান। ইনসুলিন গ্লুকোজ এর জন্য কোষের দরজা খোলার চাবি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। Read in English

ডায়াবেটিস কি এবং ডায়াবেটিস এর লক্ষণ

আমাদের শরীরে ইনসুলিন যখন পরিমাণ কমে যায় বা ঠিকমতো কাজ করতে পারে না তখন রক্তে থাকা গ্লুকোজ গুলো কোষে পৌঁছাতে পারে না। তখনই রক্তে অতিরিক্ত পরিমাণ গ্লুকোজ এর আধিক্য দেখা যায় এবং ডায়াবেটিস তৈরি করে।

ডায়াবেটিস কি এবং কেন ডায়াবেটিস হয় এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আজকের এই পোস্টের মাধ্যমে আপনারা জানতে পারবেন। আপনারা যারা ডায়াবেটিস সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে চান তাদের আজকের এই আলোচনাটি মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য অনুরোধ করা হলো। ডায়াবেটিস কি এবং ডায়াবেটিস এর লক্ষণ

ডায়াবেটিস কি এবং ডায়াবেটিস এর লক্ষণ

ডায়াবেটিস এর প্রকারভেদ

সাধারণত তিন ধরনের ডায়াবেটিস হয়ে থাকে। এগুলো হলো –

  • টাইপ ওয়ান (Type- 1)
  • টাইপ টু (Type- 2) এবং
  • গ্যাসটেসনাল (gastational)

টাইপ ওয়ান (Type- 1)

যেকোনো বয়সে এই ধরনের ডায়াবেটিস হতে পারে। তবে শিশু এবং তরুণরাই বেশি ক্ষেত্রে এই ধরনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়। যখন কারো টাইপ 1 ডায়াবেটিস হয় তখন শরীরে ইনসুলিন তৈরি বন্ধ হয়ে যায়। আর তৈরি হলেও খুব অল্প মানে পরিমাণে হয় যা স্বাভাবিক শরীর কোন প্রকার কাজে আসে না। এক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত উক্ত রোগীর দেহে ইনসুলিন প্রদান করতে হয়। ডায়াবেটিস কি এবং ডায়াবেটিস এর লক্ষণ

টাইপ টু (Type- 2)

সচরাচর বয়স্কদের এই ধরনের ডায়াবেটিস বেশি হয়ে থাকে। সাধারণ ক্ষেত্রে আমরা যে সকল ডায়াবেটিসের কথা শুনে থাকি তার ৯০ শতাংশই টাইপ টু (Type- 2)। এই ধরনের ডায়াবেটিস এর ক্ষেত্রে রক্ত ইনসুলিন তৈরি হলো ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। তাই নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের ম খাদ্যাভাস ঠিক রাখার মাধ্যমে সুস্থ থাকা সম্ভব। টাইপ টু (Type- 2) ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে শারীরিক পরিশ্রম, খেলাধুলা, হাটাহাটি গুরুত্বপূর্ণ। এই সমস্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সুস্থ থাকা যায়। কিছু ক্ষেত্রে এই ধরনের ডায়াবেটিস রোগীদের বিভিন্ন প্রকার ঔষধ খেতে হয় এবং ইনসুলিন নিতে হয়।

গ্যাসটেসনাল (Gastational)

সাধারণত প্রসূতি মায়েদের এই ধরনের ডায়াবেটিস হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে মায়ের রক্তে প্রচুর পরিমাণে গ্লুকোজ জমা হয় যা মা এবং সন্তান দুইজনের জন্য বিপদ ডেকে আনে। এক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। এবং এই রোগের পরবর্তী সম্ভাবনা হিসেবে মা এবং সন্তানের টাইপ টু ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ডায়াবেটিসের লক্ষণ

অনেক ক্ষেত্রেই ডায়াবেটিসের লক্ষণ প্রকাশ পেতে দেরী হয়। আবার অল্প বিস্তর লক্ষণ প্রকাশ হলেও অনেকেই অবহেলা করে থাকেন। আমাদেরকে অবশ্যই ডায়াবেটিসের লক্ষণ গুলোর দিকে নজর দিতে হবে। নিম্নোক্ত লক্ষণগুলো দেখা দিলে বুঝতে পারবেন যে আপনার ডায়াবেটিস হয়েছে- ডায়াবেটিস কি এবং ডায়াবেটিস এর লক্ষণ

What-is-Diabetes-and-the-Symptoms-of-Diabetes

  • ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া
  • তুলনামূলক দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া
  • ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া
  • ওজন কমে যাওয়া
  • দুর্বল লাগা ও ঘোর ঘোর ভাব হওয়া
  • পিপাসা লাগা
  • মিষ্টি খাবারের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যাওয়া
  • মেজাজ খিটখিটে হওয়া
  • ক্ষত বা কাটাছেঁড়া তাড়াতাড়ি না সেরে ওঠা
  • সময় মত খাবার না খেলে অসুস্থতা অনুভব করা
  • চামড়ায় শুষ্ক খসখসে ও চুলকানি ভাব হওয়া

উপরের লক্ষণগুলো দেখলে আপনি অবশ্যই সর্তকতা গ্রহণ করবেন। যাদের নিকট আত্মীয় যেমন মা-বাবা-ভাই-বোন বা কারো ডায়াবেটিস রয়েছে তাদের তুলনামূলকভাবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তাই ডায়াবেটিস থেকে বেঁচে থাকতে হলে কায়িক পরিশ্রম এবং পরিমিত খাদ্য গ্রহণ অত্যন্ত জরুরী। ডায়াবেটিস থেকে বিরত থাকতে নিয়মানুবর্তী কার কোন বিকল্প নেই। ডায়াবেটিস কি এবং ডায়াবেটিস এর লক্ষণ

ডায়াবেটিস শনাক্ত হলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। ডায়াবেটিস নিরাময় করা সম্ভব নয় তাই এটিকে নিয়ন্ত্রণে ঢাকা সবথেকে বেশি জরুরি। ডায়াবেটিস রোগীদের মানসিকভাবে শক্ত থাকতে হবে একই সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে। মনে রাখবেন ডায়াবেটিস এর প্রভাবে শরীরের অন্যান্য রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে। ডায়াবেটিস কি এবং ডায়াবেটিস এর লক্ষণ

কেন ডায়াবেটিস ভয়ঙ্কর হতে পারে

প্রাথমিক পর্যায়ে ডায়াবেটিস ধরা পড়লে তা সহজে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণ করা না হলে তা মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বৃষ্টির কারণে হূদরোগ কিডনি সমস্যায় অঙ্কিত পর্যন্ত হতে পারে। ডায়াবেটিস এর প্রভাবে আমাদের শরীরের নানা ধরনের অসুস্থতা ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই আমাদের ডায়াবেটিস বিষয়ে আগে থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। ডায়াবেটিস কি এবং ডায়াবেটিস এর লক্ষণ

আমাদের আজকের এই আলোচনার মাধ্যমে আপনার ডায়াবেটিস কি এবং ডায়াবেটিস রোগের লক্ষণসমূহ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করেছি। আলোচনার পরলাম সব বুঝতে সমস্যা হলে অথবা আলোচনা সম্পর্কিত যে কোন প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে আমাদের জানাবেন। আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.