ভিটামিন ই শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন ই এর অভাব থেকে পেশির দুর্বলতা বা চলাফেরায় সমস্যা হতে পারে। সাধারণভাবে বলা হয় ভিটামিন-ই দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থেকে শুরু করে কোষের ক্ষয় দূর করতে এবং রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। ভিটামিন ই শরীরে আরো অনেক কাজ করে থাকেন। আমরা জানি শরীরে প্রতিটি উপাদানই খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয়। সাধারণত অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক কোনো সমস্যা থেকে শরীরে ভিটামিন ই এর অভাব দেখা দিতে পারে। ভিটামিন ই এর অভাবে বিভিন্ন উপায়ে এর মাধ্যমে বোঝা যেতে পারে। অভাব বুঝতে পারলে অবশ্যই আমাদের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। Read in English

নিচের লক্ষণগুলো থেকে আমরা শরীরে ভিটামিন ই এর অভাব বুঝতে পারি। তখন অবশ্যই আমাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

পেশির দুর্বলতা

শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ই না থাকলে অথবা ভিটামিন ই এর অভাব দেখা দিলে পেশীতে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস দেখা দিতে পারে। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস পেশিতে দুর্বলতা সৃষ্টি করে। যার ফলে আমাদের হাঁটাচলায় সমস্যা হয় অথবা নড়াচড়া করতে সমস্যায় পড়তে হয়। অনেক সময় অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এর কারণে আমাদের শরীরে পেশিতে বিভিন্ন স্থানে ব্যথার সৃষ্টি হয়। আকস্মিক এই ব্যথার কারণে অনেক সময় বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয়। এমন পেশির দুর্বলতা জনিত কারণ দেখা দিলে আমরা বুঝতে পারি শরীরে ভিটামিন ই এর ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

নড়াচড়ায় সমস্যা

আমরা জানি যে প্রত্যেকটা কাজের সাথে মস্তিস্ক জড়িত। মস্তিষ্ক কোন একটি সিগন্যাল প্রেরণ করার পরেই আমরা সেই কাজটি করতে পারি। ভিটামিন ই এর অভাবে মস্তিষ্কের বিশেষ স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই স্নায়ুর মাধ্যমেই মস্তিষ্ক শরীরের বিভিন্ন স্থানে সংকেত প্রেরণ করে। শরীরে ভিটামিন ই এর অভাব হলে মস্তিষ্ক সঠিকভাবে সিগন্যাল প্রেরণ করতে পারেনা। আর সংকেত না পাওয়ার কারণে আমরা বিশেষ অঙ্গ নাড়াচাড়া করতে পারিনা। বলা হয় যখনি স্নায়ুগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন সাধারণ নড়াচড়া থেকে হাঁটাচলা তো আমাদের সমস্যায় পড়তে হয়।

দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

Weak-immunity
দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

শুধুমাত্র ভিটামিন সি নয়, ভিটামিন-ই রোগ-প্রতিরোধক্ষমতা অক্ষয় রাখতে ত্রিশাল গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে মানুষ সহজে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। এবং রোগ থেকে সেরে উঠতে ও অনেক সময় লাগে। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অক্ষুন্ন রাখতে ভিটামিন-ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ভিটামিনের অভাব দেখা দিলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে শুরু করে।

দৃষ্টি ক্ষমতায় প্রভাব

Vision-Problems
দৃষ্টি ক্ষমতায় প্রভাব

আমাদের চোখের রেটিনার যে অংশটি আলোক গ্রহণ করে সেটি ও ভিটামিন ই এর অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই অভাবের কারণে চোখে ঝাপসা দেখা যেতে পারে। ভিটামিন ই এর অভাবে চোখে ঝাপসা দেখা গেলে রোগীর বিভিন্ন কাজ করতে সমস্যা হয় অথবা হাঁটাচলা করতে ও সমস্যায় পড়তে হয়।

অভ্যাস এর কারণ

খাদ্যাভ্যাসের কারণে ভিটামিন ই এর অভাব খুব কম ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। পারিবারিক এবং বংশগত কারণ অথবা বিভিন্ন রোগের কারণে বেশিরভাগ সময় ভিটামিন ই এর অভাব দেখা যায়। শরীর ঠিকমতো চর্বি হজম বা গ্রহণ করতে  না পারলেও ভিটামিন ই এর অভাব হতে পারে। ভিটামিন ই চর্বিতে দ্রবণীয়। শরীর যেভাবে চর্বি গ্রহণ করে থাকে একইভাবে ভিটামিন ই ও চর্বি গ্রহণ করে। তারপর চর্বির কোষ এবং যকৃতে সংরক্ষিত রাখে।

ভিটামিন ই এর অভাবে শরীরে বিভিন্ন রোগ হতে পারে। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে ভিটামিন ই এর অভাব না হলেও অনেক সময় নড়াচড়ায় সমস্যা, পেশির দুর্বলতা বা চোখে ঝাপসা দেখা শুরু হলে আমাদের গুরুত্ব দিয়ে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত।

ভিটামিন ই এর উৎস

নিম্নোক্ত খাবার থেকে আমরা ভিটামিন ই পেতে পারি। যেমন – সূর্যমুখীর বীজ, কাঠবাদাম, পিনাট বার, চিনাবাদাম পালং শাক এবং ব্রোকলি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.