ত্বকের নানা রকম অ্যালার্জির কারণে মৃদু চুলকানি থেকে শুরু করে একজন মানুষের প্রাণনাশী অ্যানাফাইল্যাক্সিস পর্যন্ত পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়াও ত্বকের সাধারণ কিছু অ্যালার্জি রয়েছে। ত্বকের সাধারণ এলার্জি জনিত রোগ গুলো হল – একজিমা, আরকিটেরিয়া, এনজিওইডিমা এবং কনটাক্ট ডারমাটাইটিস ইত্যাদি। Read in English

বিভিন্ন ধরণের অ্যালার্জি

একজিমা: একজিমা সাধারণত শিশু বয়স থেকেই শুরু হয়ে থাকে। ডিটারজেন্ট, রাসায়নিক, ধুলাবালি, এবং পশুপাখির মলমূত্রের সংস্পর্শে এলে একজন মানুষের ত্বক লাল হয়ে যায়, শুষ্ক হয়ে পড়ে অথবা কখনও কখনও ফেটে যায় এবং চুলকাতে থাকে। এগুলোই একজিমার লক্ষণ।

আরকিটেরিয়া/ হাইভস : সাধারণত যেকোনো ধরনের খাবার, ওষুধ বা পোকামাকড়ের কামর থেকে এই সমস্যা হতে পারে। ত্বকের জায়গায় জায়গায় ফুলে ওঠা এবং কখনও কখনও প্রচন্ড চুলকাতে পারে। আর কি টেরিয়া ত্বকের উপরের অংশের প্রদাহ হয় এবং ত্বকের নিচে অবস্থিত রক্তনালী থেকে লিক হয়। এবং লাল হয়ে ফুলে যায়।

এনজিওইডিমা: কোন কারণে ত্বকের ভেতরের অংশে ব্যথা হলে তাকে বলা হয় এনজিওইডিমা। কখনো কখনো আরকিটেরিয়া বা হাইভস হিসেবে শুরু হয়ে এনজিওইডিমা তে রূপ নেয়। সময় সাপেক্ষে এটি একজন মানুষের জন্য গুরুতর হতে পারে। আবার ফুলে যেতে পারে চোখ ও মুখ।

কনটাক্ট ডারমাটাইটিস: ধুলাবালী, প্রাণীর লোম, কোন উদ্ভিদ, নিকেলের গয়না, বিশেষ রাসায়নিক যুক্ত লোশন, ক্রিম, সাবান ইত্যাদির সংস্পর্শে এলে কারো ত্বক লাল হয়ে যায়, জ্বালা করে ও চুলকাতে থাকে এবং জায়গায় জায়গায় ফুলে ওঠে। ত্বকের সরাসরি সংস্পর্শে আসলে এই সমস্যাটি হয়ে থাকে বলে একে কনটাক্ট ডারমাটাইটিস বলে। অনেক মানুষের ক্ষেত্রে সরাসরি সংস্পর্শে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না হয় ১২ ঘন্টা থেকে তিন দিনের মধ্যে হতে পারে।

অ্যালার্জি নির্ণয়

ঠিক কোন খাবার বা কোন বস্তু অ্যালার্জির জন্য দায়ী তা সঠিকভাবে নির্ণয় করতে প্রয়োজন সতর্ক ইতিহাস পর্যালোচনা আর সামান্য কিছু পরীক্ষা। যেসকল দিনে আপনার ত্বকে এ ধরনের সমস্যা হয়েছে সেই দিনে আপনি কোন বস্তুর সংস্পর্শে এসেছেন এবং কি খাবার খেয়েছেন কোথায় গেছেন বা তাকে কি লাগিয়েছেন এসব বিষয় মনে করতে থাকুন। আপনি প্রয়োজনে আপনার স্মার্টফোনে নোটপ্যাড অথবা ডায়েরি ব্যবহার করে এ সকল তথ্য লিখে রাখতে পারেন। এর মাধ্যমে আপনার কোন ধরনের সমস্যা হয়েছে বা কোন এলার্জি হয়েছে সেটি বুঝতে সুবিধা হবে।

প্রচলিত পদ্ধতিতে অ্যালার্জি স্থান ফুটো করে সেখানে অ্যালার্জেনের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং কতক্ষণ পর ওই জায়গায় অ্যালার্জির প্রতিকার শুরু হচ্ছে তা পরীক্ষা করা হয়। অ্যালার্জির কারণে কতটুকু স্থান ফুলে উঠেছে তা ও পরিমাপ করা হয়। এছাড়াও রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে অ্যালার্জির নির্দেশক অ্যান্টিবডি সনাক্ত করা হয়ে থাকে।

অ্যালার্জির চিকিৎসা

অ্যালার্জির নানা ধরনের আধুনিক চিকিৎসা এখন খুব সহজেই পাওয়া যায়। উপসর্গ অনুযায়ী অ্যান্টিহিস্টামিন ও স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ দেয়া হয়ে থাকে। এছাড়াও অ্যালার্জি থেকে দ্রুত উপশম হিসেবে ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে। যেমন উপশম পেতে ঠান্ডা সেঁক দেওয়া, ঠান্ডা পানিতে চুবিয়ে রাখা, ক্যালামিন লোশন ও গাঢ় মশ্চোরাইজার ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে। সাধারণত নানা মাত্রায় স্টেরয়েড ক্রিম অ্যালার্জি থেকে দ্রুত উপশম দেয় তবে গুরুতর ক্ষেত্রে মুখে খাবার ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সকল পদ্ধতি অবশ্যই একজন বিশেষ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.