ছয় ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। এদেশের অর্ধেক সময় থাকে শীত আর অর্ধেক সময় থাকে গরম। আজ ফাল্গুন মাসের 29 তারিখ। কিন্তু কে বলবে ভালো গুণ মাস বাইরে যে কাঠাল পাকা দুষ্টের প্রচণ্ড তাপ । বোঝাই যাচ্ছে, এবছর বসন্ত এসেছে গ্রীস্মের হাত ধরে। ঘর থেকে একটু বের হলেই টের পাওয়া যায় গরমের প্রভাব। এই গরমে কি খাব কি করব এই বিষয়গুলো আমরা কমবেশি সকলেই জানি। এখন দেখে নেওয়া যাক গ্রীষ্মে জীবনযাপনের প্রস্তুতি হিসেবে আমরা কি কি করতে পারি। Read in English

প্রচণ্ড গরমে কি খাওয়া উচিত

অন্য যে কোন ঋতুর তুলনায় যেহুতু গ্রীষ্মকালে গরম অনেক বেশি সেহেতু এ সময়ে পানির চাহিদা অনেক বেশি থাকে। সুতরাং পানির পাশাপাশি খাবার স্যালাইন, লেবুপানি এবং কচি ডাবের পানি পান করা উচিত। কারন শরীরে পানি শূন্যতা হয়ে যায় প্রচন্ড গরমে এবং প্রতিদিন অন্ততপক্ষে ১০২০ গ্লাস পানি পান করা উচিত। শুধু পানি নয় পানি পাশাপাশি তেতুল কাঁচা আম এইসব খাওয়া উচিত। কারণ এগুলো শরীরকে স্নিগ্ধ ও শীতল রাখতে সাহায্য করে। আবার এই সময়ের কিছু মৌসুমী ফল যেমন আম, জাম, কলা এগুলো খাওয়া উচিত। খাবার হিসেবে চিড়াকলাদই, সিদ্ধ ডিম, সিদ্ধ আটার রুটি, পাউরুটি, সাদা সবজি, জেলি নরম, লেবু, পুদিনা পাতার শরবত ইত্যাদি রাখা যেতে পারে। এগুলো শরীর কে ঠান্ডা রাখে। এসবের পাশাপাশি সবজি ও ফল হিসেবে কাঁচা আম, শসা, লাউ, ঝিঙে, পটল, কলমি শাক, সবুজ শাক খাওয়া যেতে পারে। আবার পান্তা ভাতও খাওয়া যেতে পারে। ki-khaben-ki-khaven-na

কারণ পান্তাভাত পেটকে ঠান্ডার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। অনেকেই এই গরমে পান্তাভাত খেতে অনেক পছন্দ করে। আবার আম, জাম, তরমুজ, জামরুল, তালশ্বাস, বাঙ্গি, পাকা পেঁপে, বেল খাওয়া উচিত।যদিও আম, জাম, তরমুজ, জামরুল এই গুলো সারা বছরই পাওয়া যায় না কিন্তু সারাবছর পাওয়া যায় এমন পানিযুক্ত ফল খাওয়া উচিত । কারণ গ্রীষ্মকালে প্রচুর পানি যুক্ত ফল খেলে শরীর থেকে ঝরে যাওয়া প্রয়োজনীয় ভিটামিনের অভাব দূর করে। প্রচণ্ড গরমে সকালে উঠে প্রথমেই গ্রিন টি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ভালো। গ্রিন টি এর সাথে মধু আর লেবুর রস যোগ করা যায় এতে গরমে শরীরে ফ্রেশ অনুভুতি হয়।

গরমের সময় যে গুলো খাওয়া উচিত নয়

গরমকালে অবশ্যই শরীর গরম হয় এমন ফল খাওয়া উচিত নয় যা শরীরে অনেক গরম অনুভূত সৃষ্টি করবে। গরমকাল শরবত ব্যবসায়ীদের সময় তাও মৌসুমি ফল দিয়ে তৈরি শরবত। দেখা যায় যে এই সময়ে বিভিন্ন জায়গাতে শরবত এর দোকান দেওয়া থাকে। বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে জুসের বিক্রি বেড়ে যেতে দেখা যায়। তবে একদিকে এগুলো না খাওয়াই উচিত। কারণ এগুলোতে শরীরের মারাত্মক ঝুঁকি থাকে। এসব নিয়ে অনেক প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে পানি দিয়ে এগুলো বানানো হয়। তবে যে পানি দিয়ে এইসব শরবত বা জুস তৈরী তা স্বাস্থ্যের জন্যে মোটেও ভালো নয়। এইসব পানি ভাল ও নিরাপদ পানি হয় না। আবার দৈনন্দিন মসলাযুক্ত ও তৈলাক্ত খাবার বাদ দেয়া ভালো। কারণ অতিরিক্ত তেলযুক্ত এবং মসলাযুক্ত খাবার শরীরে প্রচন্ড গরম এবং ঘামের সৃষ্টি করে। এই গরমে রেড মিটখাবার একদম স্বাস্থ্যকর নয়। কারন এইসব খাবার শরীরে প্রচন্ড গরমের তাপের সৃষ্টি করে। আবার চাকফি খাওয়াও উচিত নয়। কারন চাকফি শরীর রুক্ষ এবং পানিশূন্যতা করে দেয়। শরীরে ডিহাইড্রেটিং বাড়ায় শুকনো ফল তাই গরমে শুকনো ফল খাওয়া উচিত নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বিভিন্ন ধরনের জাঙ্ক ফুড, ভাজাপোড়া, পোলাও, বিরিয়ানি এবং বিভিন্ন ধরনের কোল্ড ড্রিংকস না খাওয়া উচিত। এগুলো শরীরে তাপ উৎপন্ন করে গরমের অনূভুত করে। বিশেষ করে গ্রীষ্মে গরমে থেকে আরাম পেতে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি খাওয়া উচিত নয়। এতে শরীরে অতিরিক্ত ঘাম ঝরিয়ে পানি শূন্যতা সৃষ্টি করে।গরমে ডিম সিদ্ধ ছাড়া পোচ বা ভাজা খাওয়া উচিত নয়। কিন্তু বেশি ডিম খাওয়াও ঠিক না। তাই খুব কম পরিমানে খাওয়া ভালো।

কি করা উচিত, কি করা উচিত না

গরমের দিনে বাসায় থাকাই বেশি ভালো কোনো কাজ না থাকলে বা প্রয়োজনের বাইরে বের হওয়া উচিত নয়। কারন রোদের প্রখর তাপ যেমন শরীরের জন্য ঠিক নয় তেমনি স্বাস্থ্যের পক্ষেও ভালো না। যদিও কর্ম ক্ষেত্রে বের হওয়া হয় তবে অবশ্যই ছায়াযুক্ত স্থান দিয়ে চলাফেরা করার চেষ্টা করা উচিত। gorom

গরমের দিনে সবই অশান্তি কর একটা বিষয় তবে ঘরেবাইরে এমন কাপড় পড়া উচিত যা নিজেকে স্বস্তি দিবে। যেমনঢিলেঢালা, নরম ধরনের কাপড়, যা ঘাম শোষণের পাশাপাশি একটু স্বস্তি ঠান্ডা অনুভূত করে। এমন গরমে বাইরে গেলে অবশ্যই অবশ্যই সান্সক্রিন মাখা ভাল রোদ থেকে মুখ ভালো রাখা যায়। আবার চুল ঢেকে বাইরে যাওয়াও ভালো কারন ধুলাবালি তে চুল নোংরা হয় অনেক। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যে সাথে অবশ্যই চশমা ও ছাতা রাখা। প্রতিদিন নিয়ম করে গোসল করা ভালো। তবে গরম থেকে স্বস্তি পেতে একাধিকবার গোসল করা ভালো না সর্বোচ্চ দুইবার করা যায় কিন্তু তার বেশি নয়। গরমের সময় রান্না টা খেয়াল করে করা উচিত। এইসময় খুব তাড়াতাড়ি তরকারি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাই বাসি খাবার বা খাবার নষ্ট হওয়ার আগেই খেয়ে নেয়া ভালো। নিয়ম করে দৈনন্দিন হাটা ভালো রোদ থেকে বাচতে।তবে সেটাও অবশ্যই একবার সূর্যাস্তের আগে আর সূর্যাস্তের পরে একবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published.