বিনিয়োগ করার আগে যেসব বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন তা নিচে বর্ননা করা হলো। Read in English

১. নিরাপদ ঝুঁকি গ্রহণ করা: কোথাও বিনিয়োগ করলে অবশ্যই সেটাতে ঝুঁকি থাকে শতভাগ । কিন্তু আপনি কতটা ঝুঁকি নিতে পারবেন সেটা আপনার উপরে নির্ভর করবে সেটা হবে আপনার ব্যক্তিগত বিষয় । কোন একটি বিনিয়োগে যদি অস্বাভাবিক হারে যুক্ত থাকতে হয় তবে সেক্ষেত্রে সে বিনিয়োগে না যাওয়াই উত্তম। অযথা বেশি ঝুঁকি নেয়াটাও নেহাৎ বোকামির কাজ। এমন জায়গায় বিনিয়োগ করবেন যেখানে তুলনামূলক ঝুঁকি কম থাকে এবং লাভ আসে কিছু হলেও। এমন জায়গায় বিনিয়োগ করবেন না যেখানে বিনিয়োগ করার পরে আপনার রাতের ঘুম হারাম হয়ে যাবে এবং জীবনের ঝুঁকি পর্যন্ত বেড়ে যায়। তবে আপনি চাইলে সরকারি বিভিন্ন সেকশনে বিনিয়োগ করতে পারেন, কারণ এগুলোতে ঝুঁকির বিষয়টা অনেকটাই কম থাকে।

যে ১০টি কাজ আপনার কখনও করা উচিত নয়

২.আর্থিক অবস্থা যাচাই-বাছাই: আপনি কোন জায়গায় বিনিয়োগ করবেন তা করার আগে অবশ্যই আপনার লাইফ স্টাইল বা আর্থিক বিষয়টি খেয়াল রাখবেন। কোথাও বিনিয়োগ করতে গেলে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যে আপনার লাইফস্টাইলে অল্প হলেও চেঞ্জ বা পরিবর্তন আসবে। আর সেটা স্বেচ্ছায় মেনেও নিতে হবে। তবে যদি সামান্য হয় তাহলে অসুবিধা নেই, কিন্তু এই চেঞ্জ যদি অস্বাভাবিক হয় সেক্ষেত্রে মনে করবেন এই বিনিয়োগটি আপনার জন্য অবশ্যই সুবিধা হবে না। আপনার লাইফস্টাইল যদি বিনিয়োগ করতে গিয়ে বেশি খারাপের দিকে চলে যায় সে ক্ষেত্রে ওই বিনিয়োগের দিকে না যাওয়াই উত্তম।

৩.বিনিয়োগ বিন্যাস: আপনার সারা জীবনের কষ্টের অর্জিত টাকা কখনো এমন কোন এক জায়গায় বিনিয়োগ করতে যাবেন না। যেখানে আপনার বিনিয়োগ থেকে কিছুর আশা থাকবে না।আপনার টাকাগুলো সব এক জায়গায় রাখবেন না অবশ্যই। বিভিন্ন জায়গায় অল্প অল্প করে বিনিয়োগ করার চেষ্টা করবেন এতে লাভবান হওয়া যায় অনেক। কারণ বেশি টাকা এক জায়গায় বিনিয়োগ করা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। কোন কারনে যদি আপনি যেখানে বিনিয়োগ করেছেন সেটার সমস্যা হয় তাহলে আপনি অন্য জায়গার টাকা ব্যবহার করতে পারবেন নিশ্চিন্তে কিন্তু বিকল্প হলে কিছু করার থাকবে না ।

সফল উদ্যোক্তা হওয়ার ৮টি উপায়

৪.উদ্দেশ্য ঠিক করা: কোন একটি জায়গায় বিনিয়োগের আগে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে সেটার উদ্দেশ্য ঠিক করা খুবই জরুরী। আপনার উদ্দেশ্যের উপর অনেক কিছুই নির্ভর করবে। আপনি কোথায় বিনিয়োগ করবেন, কেমন বিনিয়োগ করবেন এইসব আর কি। মনে করেন, আপনি যদি আপনার সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বিনিয়োগ করতে চান তখন কিন্তু সেটা হবে লাইফ ইনভেস্টমেন্ট বা দীর্ঘ সাময়িক ধরনের বিনিয়োগ। আবার অন্যদিকে বিভিন্ন প্রয়োজনে কম সময়ে লাভ পাওয়ার জন্য বিনিয়োগকে শর্ট টাইম ইনভেস্টমেন্ট বা কম সময়ে বিনিয়োগও বলা হয়। তাই বলা যায় বিনিয়োগের উদ্দেশ্য ঠিক করে তবে আপনি কি পরিমান বিনিয়োগ করবেন, কেমন বিনিয়োগ করবেন এবং কোথায় বিনিয়োগ করবেন এটা নির্ধারণ করবেন।

অনলাইন থেকে টাকা আয়ের উপায়। বাড়িতে বসে আয় করুন

৫. মিচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ: প্রতিটি মিউচুয়াল ফান্ড-ই প্রফেশনালি সামাল দেয়া হয়। তবে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করার আগে অবশ্যই সে মিউচুয়াল ফান্ড সম্পর্কে ভালোভাবে জ্ঞানার্জন করে জেনে নিন। কারণ অনেক মিচুয়াল ফান্ড মানুষের টাকা মেরে দিয়ে চলে যায় এবং গেছে। তাই মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করার আগে অবশ্যই সেটা সম্পর্কে লোকজন থেকে বিভিন্ন ধরনের মতামত বা সেই মিউচুয়াল ফান্ড সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জেনে নিতে পারেন তাহলে আপনার ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।। অবশ্যই সেই তথ্যগুলো বিভিন্ন থার্ড পার্টি লোকজন থেকে জানার চেষ্টা করে থাকবেন । কারণ কোন কোম্পানির লোকজন কখনোই আপনাকে তাদের মূল উদ্দেশ্য বা সত্য বলতে চাইবে না অবশ্যই । কিন্তু আপনি বিশ্বস্ত লোকজন থেকে জানার চেষ্টা করবেন।

৬. ঝামেলা মুক্ত বিনিয়োগ: মূল কথা হচ্ছে যে, বিভিন্ন ঋণ বা ধার করে কখনো বিনিয়োগ করবেন না। কারণ যদি কোন কারনে আপনার বিনিয়োগের টাকার সমস্যা হযয়ে যায় তাবে আপনি যার থেকে ধার নিয়েছেন তার টাকাও পরিশোধ করতে হবে । এটি একটি বাড়তি ঝামেলার বা ঝুঁকির সৃষ্টি হয়ে দাঁড়াবে।

সফল উদ্যোক্তা হওয়ার ৮টি উপায়

৭. রিভিউ বা মতামত: আপনি যেখানে বিনিয়োগ করতে চাচ্ছেন অবশ্যই সেটার সম্পর্কে লোকজনের থেকে মতামত গ্রহণ করবেন এবং নিজে যাচাই বাছাই ও পরামর্শ করবেন অনেকের সাথে। আপনি যেখানে বিনিয়োগ করতে যাচ্ছেন সেটার রিভিউ যদি পজিটিভ হয় তাহলে আপনি সামনে এগিয়ে যেতে থাকবেন এবং সফলতার সাথে কাজ করবেন। কিন্তু যদি সেটার রিভিউ খারাপ হয় সে ক্ষেত্রে সেখানে না যাওয়াই অনেক উত্তম।

৮. নিজের ব্যবসায় বিনিয়োগ: আপনি যদি আপনার টাকা দিয়ে নিজের একটি ব্যবসা খুলতে চান বা দাঁড় করা তে চান তবে অবশ্যই আপনি যেই পণ্য নিয়ে ব্যবসা করতে চান বা চাচ্ছেন , তা সেই পণ্যের চাহিদা আপনার এলাকায় কেমন বা আপনি যেখানে বিক্রি করবেন সেখানে কেমন চাহিদা হতে পারে সেটা আগে জেনে ফেলবেন। আপনি যে এলাকায় পণ্য বিক্রি করবেন সেই এলাকার চাহিদা অনুসারে পণ্য নির্বাচন করে ব্যবসায় আসতে পারেন। অযথা কিংবা চলনশীল নয় এমন কোন পণ্য নিয়ে কখনো ব্যবসাতে জড়াবেন না। তাহলে আপনার টাকা সম্পূর্ণ চলে যাবে এবং আপনি লসে ভুগবেন।

দর্শকবৃন্দরা আশা করি আজকের পোষ্টের মাধ্যমে আপনাদেরকে বিনিয়োগের আগে যা যা করনীয় তা সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয়বস্তুর ধারণা দিতে পেরেছি। আপনাদের যদি কোন সাহায্যের প্রয়োজন হয় তাহলে আমার বা আমাদের ফেসবুক প্রোফাইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন আমাদের সাথে । এছাড়া আপনারা আমার ফেসবুক পেজটিও ফলো করে রাখতে পারেন, সেখানে আমি বিভিন্ন ধরনের টেকনোলজি সামঞ্জস্যপূর্ণ পোস্ট এবং টিপস শেয়ার করে থাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.