বাংলাদেশের দুর্গম সব স্থানে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে ‘কানেক্টেড বাংলাদেশ’ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে বিসিসি (বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল)। ২০১৮ সালের অক্টোবর মাস থেকে এই প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয় এবং এই প্রকল্পটির কার্যক্রম আগামী বছর( ২০২৩ ) এর ডিসেম্বর পর্যন্ত চলমান থাকবে। গত ১৮ ই ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) বিসিসি থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। Read in English

উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের দুর্গম ৬১৭ টি ইউনিয়নে ইন্টারনেটের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করণের কার্যক্রম গ্রহণ করবে বিসিসি। টেলিযোগাযোগ সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় উচ্চ নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে এই প্রকল্পটি ব্যাকবোন নেটওয়ার্কে সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের ইন্টারঅপারেবিলিটি, এফিশিয়েন্সি, ট্রান্সপারেন্সি, কোয়ালিটি অফ সার্ভিস (এস ও এস) বৃদ্ধি করার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে বিবিসির কানেক্টেড বাংলাদেশ প্রকল্প টি।

দুর্গম ইউনিয়নে ইন্টারনেট সেবা

টেলিযোগাযোগ সুবিধাবঞ্চিত প্রত্যন্ত এলাকায় নেটওয়ার্ক কানেক্টিভিটি স্থাপনের কাজ করে যাচ্ছে বিসিসির কানেক্টেড বাংলাদেশ প্রকল্প টি। এর ফলে ওই অঞ্চলের সাধারণ জনগণ ইন্টারনেটের সকল সুযোগ-সুবিধা সম্পূর্ণরূপে ভোগ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন বিসিসির নির্বাহী পরিচালক ড: মোঃ আব্দুল মান্নান।

কানেক্টেড বাংলাদেশ নামের এই প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে টেলিযোগাযোগ সুবিধাবঞ্চিত প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরকারি বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদান এবং ৬১৭ টি ইউনিয়নের সব স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, সেন্টার টেলিকম অপারেটর ইত্যাদি স্থানে নেটওয়ার্ক সংযোগ প্রদান করা। এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। এছাড়াও এ প্রকল্পের মাধ্যমে উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার ইকোমার্স সার্ভিস টেলি মেডিসিন এর প্রচার ও প্রসার করার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এবং এর ফলে দেশের অতি দুর্গম পাহাড়ি এবং প্রত্যন্ত ৬১৭ টি ইউনিয়নের ডিজিটাল বিভাজন বৈষম্য দূর হবে বলে মনে করেন তারা।

ইন্টারনেট সহজিকরন

টেলিযোগাযোগ সুবিধা বৃস্তিত করতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এর আওতায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) পরিচালিত সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের অর্থায়নে কানেক্টেড বাংলাদেশ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ প্রকল্পটির আওতাধীন ইউনিয়ন পর্যায়ে ৮ হাজার ১০৬ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপন এর কাজ চলছে এবং ইউনিয়নে ব্যাকবোন রাউটার ও ডিসি পাওয়ার সিস্টেম স্থাপন এবং রুম সংস্কার করার কাজ চলছে। খুলনা থেকে ৮ হাজার ১০৬ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল ও ৫ হাজার কিলোমিটার ডাক্ট ক্রয় করা হয়েছে গত মাস পর্যন্ত। এবং এক তথ্য মতে জানা যায় পপরুম  রেনোভেশন এর কার্যক্রমে প্রায় ৫১ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং অপটিক্যাল ফাইবার কেবল স্থাপনের কার্যক্রম প্রায় ৪০ দশমিক ২২ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৬৬ জন দক্ষ জনবলের সমন্বয়ে গঠিত একটি টিম কাজ করছে।

প্রকল্পটির পরিচালক ডঃ মোঃ আব্দুল মান্নান জানান ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় দুর্গম ও পার্বত্য অঞ্চল যেমন বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি এই তিনটি এলাকার ৫৯ টি ইউনিয়নে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে তিনি জানান দুর্গম এলাকার পাশাপাশি সাগরের তলদেশ দিয়ে অপটিক্যাল ফাইবার এর মাধ্যমে সন্দ্বীপে ১৩ টি ইউনিয়নকে ব্রডব্যান্ড কানেক্টিভিটির আওতায় নেওয়া হবে। দেশের দুর্গম ৬১৭ টি ইউনিয়নে ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করণের এ কার্যক্রমে কানেক্টেড বাংলাদেশ প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় এর পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার ৪৪৩ দশমিক ৩০ লাখ টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.