কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার: কিডনি রোগ খুবই মারাত্মক একটি রোগ। একজন মানুষকে মৃত্যুর দূর করা পর্যন্ত পৌঁছে নিতে পারে কিডনি রোগ। তাই আমাদের সব সময় কিডনি রোগের লক্ষণ থেকে বেঁচে থাকতে হবে। আগে থেকেই জানো কিডনি রোগ থেকে বেঁচে থাকা যায় সে সকল পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। কিডনি রোগের লক্ষণ যদি দেখা দেয় তাহলে আমাদের খুব দ্রুত সহ করে তার চিকিৎসা গ্রহণ শুরু করতে হবে। Read in English

যদি একবার এই রোগ হয়ে যায় তবে দূরে থাকা প্রায় অসম্ভব। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে অনেক সময় কিডনি রোগের প্রতিকার করা যায়। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে কিডনি রোগ সনাক্ত করতে গেলে অবশ্যই কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে। আমাদের আজকের এই নিবন্ধের মাধ্যমে কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে।

আমি আজকে এই পোষ্টের মাধ্যমে আপনাকে জানাবো কিভাবে আপনারা কিডনি রোগের লক্ষণ বুঝতে পারবেন এবং সহজে তার প্রতিকার করতে পারবেন। তাই সকলকে অনুরোধ করা হলো কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের আজকের এই পোস্টটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

কিডনি রোগের লক্ষণ

একজন মানুষের দেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হল কিডনি। প্রতিটি মানুষের দেহে দুইটি কিডনি থাকে। এই কিডনি দুইটি দূরকে সাধারণ 9 থেকে 12 সেন্টিমিটার হয় এবং প্রস্থ 5 থেকে 6 সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। মানুষের দেহে দুইটি কিডনি মেরুদন্ডের দুই পাশে অবস্থান করে। কোমর থেকে একটু উপরে এদের অবস্থান।

কিডনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। কিডনি সুস্থ না থাকলে একজন মানুষ মারা যেতে পারে। কিডনির বিভিন্ন ধরনের রোগ হতে পারে তবে এই রোগ শুরুতেই চিহ্নিত করা না গেলে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা থাকে। কিডনি রোগের লক্ষণ গুলো জানা থাকলে আমরা সহজেই কিডনি রোগ ধরতে পারি। কিডনি রোগের লক্ষণ গুলো নিচে বর্ণনা করা হলো।

  • রোগীর সারা শরীর ও মুখমন্ডল ফুলে যায়।
  • প্রস্রাবের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যায়।
  • উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা যায়।
  • কোমরের দুই পাশে ব্যথা হয়।
  • দেহে রক্তশূন্যতা দেখা যায়।
  • বমি বমি ভাব হয় এবং খাবারের অরুচি ভাব দেখা যায়।
  • প্রস্রাব লাল হয় প্রসাবের সাথে রক্ত যায়।
  • ঝুকি বেড়ে গেলে শরীর ফ্যাকাশে হয় এবং শরীরের রং পরিবর্তন হতে শুরু করে।
  • ঘুম থেকে উঠলে চোখ মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায়।

কিডনি রোগ দেখা দিলে সাধারণত এই সকল লক্ষণগুলো দেখা যায়। তবে এসব লক্ষণ ছাড়াও যাদের উচ্চ রক্তচাপ ডায়াবেটিস ইত্যাদি সমস্যা রয়েছে তাদের নিয়মিত আকারে কিডনি পরীক্ষা করানো।

কিডনি রোগের কারণ

বিভিন্ন কারণে একজন রোগীর কিডনি সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় কিডনি বিকল হয়ে যেতে পারে। কিডনি রোগের বিভিন্ন কারণসমূহ নিম্নোক্ত উল্লেখ করা হলো।

নেফ্রাইটিস

বিশ্বের প্রায় 46 শতাংশ মানুষই নেফ্রাইটিস এর কারণে কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়। যেকোনো বয়সের মানুষই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে নিরাময়যোগ্য হলেও বড়দের ক্ষেত্রে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয়।

ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস হলে অবশ্যই সকল নিয়ম কানুন মেনে চলা উচিত। যদি একজন ডায়াবেটিস রোগী নিয়ম কানুন গুলো মেনে চলেন তাহলে কোন ক্ষতি করতে পারে না। নিয়মকানুন না মানলে কিডনিতে সংক্রমণ করতে পারে। বিশ্বের প্রায় 36 শতাংশ মানুষ ডায়াবেটিসের কারণে কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়।

উচ্চ রক্তচাপ

প্রায় 11 শতাংশ মানুষ উচ্চ রক্তচাপে কারণে কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে যেন কিডনি রোগ তাদের আক্রমণ করতে না পারে।

বংশগত

অনেক সময় বংশগত কারণেও কিডনি রোগ হতে পারে। পরিবারের কেউ পূর্বে কিডনি রোগে আক্রান্ত হলে তার কারণে বংশের অন্য কেউ আক্রান্ত হতে পারে।

Symptoms-and-Treatment-of-Kidney-Disease

কিডনি রোগের প্রতিকার বা প্রতিরোধ

বাংলাদেশেও দিনে দিনে কিডনি রোগ প্রকট হয়ে আসছে। বাংলাদেশ একটি নিম্নআয়ের দেশ যার ফলে অধিকাংশ রোগীরাই এই রোগের সঠিক চিকিৎসা করাতে পারেন না। তাই এই রোগ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ এর দিকে বেশি নজর দেয়া উচিত। কিডনি রোগ প্রতিরোধের কিছু উপায় নিচে উল্লেখ করা হলো

  • নিয়মিত ব্যায়াম ও দৈহিক পরিশ্রম করা
  • নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা
  • ধূমপান থেকে বিরত থাকা
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খাওয়া
  • নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খাওয়া
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত কোন ধরনের ওষুধ সেবন না করা।

এই সকল পরামর্শ গুলো অনুসরণ করলে অনেকাংশেই এই রোগ থেকে বেঁচে থাকা যায়।

আমরা অবশ্যই সকলে এই ধরনের রোগ থেকে বেচে থাকার চেষ্টা করব। সকলে যেন কিডনি রোগ থেকে বেঁচে থাকতে পারেন তাই এর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গুলো সকলকে জানানোর চেষ্টা করব। আমাদের পরিবারের আত্মীয়-স্বজন যেন কেউ কিডনি রোগে আক্রান্ত হয় না হয় সেদিকে বিশেষ নজর দেব। তাদেরকে জানাবো কিডনি রোগ থেকে বাঁচতে কি ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

আলোচনার কোন অংশে বুঝতে সমস্যা হলে অবশ্যই আমাদের কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন। আমাদের সাথে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.