শবে বরাতের ফজিলত দোয়া ও আমল

শবে বরাতের ফজিলত দোয়া ও আমল:ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের নিকট শবে বরাত বা লাইলাতুল বরাতের গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলামী শরীয়তে ও শবে বরাতের গুরুত্ব অনেক। আল্লাহতালা যেসকল বরকতময় রাতে তাঁর বান্দাদের নিকট ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টি প্রদান করেন এবং সকলকে ক্ষমা করতে চান তার মধ্যে শবে বরাত এর রাত অন্যতম।  শবে বরাতের রাতের ফজিলত রয়েছে। বিভিন্ন ওলামায়ে কেরামগণ এই রাতের ফজিলত ও গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন। বিজ্ঞ আলেমদের পরিভাষায় শবে বরাতের রাতে শাবানের মধ্যরজনী বলে অভিহিত করা হয়। এবং এই রাতটি হলো শাবান মাসের ১৫ তারিখ দিবাগত রাত। পবিত্র শবে বরাত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সমূহ এবং শবে বরাতের গুরুত্ব ও ফজিলত এবং বিভিন্ন আমল সম্পর্কে আমার না এই আলোচনায় উল্লেখ করেছি। আপনারা সকলে শবে বরাত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সমূহ আজকের এই আলোচনায় থেকে জেনে নিতে পারবেন। তাই আপনারা যারা পবিত্র শবে বরাতের ফজিলত, দোয়া ও আমল সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান তারা আমাদের আজকের এই আলোচনার শেষ পর্যন্ত ভাল করে পড়ুন। Read in English

শবে বরাত কি এবং কেন?

শবেবরাত মূলত ফারসি শব্দ। যেহেতু এটি আরবি শব্দ নয় তাই অবশ্যই কুরআনে হুবহু শবেবরাত শব্দটি উল্লেখ নেই। নামাজ-রোজা ফেরেশতা ইত্যাদির মতো শবে বরাত ও ফারসি শব্দ। যেমনিভাবে কোরআনে নামাজ-রোজা ইত্যাদি শব্দ উল্লেখ করা হয়নি তেমনি ভাবে শবেবরাত শব্দটি ও কুরআনে নেই। আল্লাহ তাআলা কুরআনে সালাত এবং ছাড়া যেমন নামাজ ও রোজা বুঝিয়েছেন ঠিক তেমনিভাবে সূরা দুখানের একটি আয়াতে ‘লাইলাতুল মুবারাকা’ শব্দ দিয়ে শবে বরাত বুঝিয়েছেন বলে মোফাসসিরে কুরআন এবং বিজ্ঞ আলেমগণ জানিয়েছেন।

শব অর্থ রাত এবং বরাত অর্থ মুক্তি বা ভাগ্য। অর্থাৎ শবে বরাত এর আভিধানিক অর্থ মুক্তি ও ভাগ্য পরিবর্তনের রাত। আল্লাহ এই রাতে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করে থাকে। তাই সকলের উচিত এই রাতে অধিক আমল করা।

শবে বরাতের গুরুত্ব ও ফজিলত

সর্বপ্রথম আহমেদ শবে বরাতের গুরুত্ব সম্পর্কে বর্ণনা করব। আল্লাহতালা শবে বরাতের রজনীতে রাতের শেষ তৃতীয়াংশে পৃথিবীর নিকটতম আসমানে আসেন এবং বান্দাদেরকে বলেন তোমরা ক্ষমা চাও আমি ক্ষমা করব। এই রাতে বান্দা আল্লাহর কাছে যা চাই আল্লাহ সেটা পূরণ করে। তাই এই রাতের গুরুত্ব অপরিসীম।

পবিত্র শবে বরাতের রাতে মুসলিমার নাজাত লাভের অন্যতম একটি মাধ্যম। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম থেকে এই পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার বছরের ইতিহাসে মুসলিম উম্মাহর পবিত্র এবং নাজাত রাত হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। যুগে যুগে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ এই রাতকে পবিত্র শবেবরাত তথা সৌভাগ্যের রচনা হিসেবে ইবাদত বন্দেগির মাধ্যমে কাটিয়ে থাকে।

শবেবরাত উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা সিয়াম পালন করে। এবং শবে বরাতের রাতে ইবাদত বন্দেগির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করে। একটি শবে বরাতের রাত মানুষের সকল পাপ মুছে দিয়ে জান্নাত লাভের পথ সুগম করে দিতে পারে।

শবে বরাতের আমল সমূহ

শবে বরাতে মুসলিমরা বিভিন্ন ধরনের আমল করতে পারেন। শবে বরাতের জন্য ১৪ এবং ১৫ শাবান ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা সিয়াম পালন করে থাকেন। এছাড়াও মুসলিমরা শবে বরাতের রাতে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন আমল পালন করে। শবে বরাতের রাতে নামাজ পড়া বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত করা বা জিকির-আজকার করা যেতে পারে।

শবেবরাতে মুসলিমরা তাদের প্রিয়জনদের অথবা আত্মীয় স্বজনদের কবর জিয়ারত করতে পারেন। এবং এই রাতে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনার জন্য নামাজ পড়তে পারেন। শবে বরাতের রাতের নামাজের নির্দিষ্ট রাকাত সংখ্যা নেই। একজন মুসলিম তার সাধ্যমত নামাজ পড়তে পারেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের নিয়ম অনুযায়ী সকলে নামাজ পড়বে। এবং দুই বা চার রাকাত নামাজ পর আল্লাহর নিকট দোয়া দরুদ পাঠ করবে।

শবে বরাতের রোজা কয়টি?

হাদীছ শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে শবে বরাতের রোজার বিশেষ গুরুত্ব বিদ্যমান। রাসূল সাল্লাহু সাল্লাম বলেন কোনো সাবানের রাতে তোমরা নফল ইবাদত করো এবং পরদিন রোজা রাখো। অর্থাৎ এই হাদীস দ্বারা শবে বরাতের একটি নফল রোজা রাখা প্রমাণিত হয়। তবে বিভিন্ন হাদিসে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স) প্রত্যেক আরবি মাসের ১৩,১৪ ও ১৫ তারিখ এই তিন দিন রোযা রাখবেন এবং নফল রোজা রাখতে উৎসাহিত করেছেন সে হিসেবে শাবান মাসে তিনটি রোজা রাখা যেতে পারে।

শাবান মাসে মহানবী (স) অধিকহারে রোজা রাখতেন। রমজান মাস ব্যতীত তিনি সর্বাধিক রোজা রাখতে এই শাবান মাসের। অর্থাৎ শাবান মাসে অধিকহারে নফল রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।

শবে বরাতের নামাজের নিয়ম

শবে বরাত মানে মুক্তি লাভ। শবে বরাতের নামাজের নিয়ম হলো অন্য নফল নামাজের মতই দুই রাকাত করে নামাজ পড়া। প্রতি রাকাতে সুরা ফাতেহার পর পবিত্র কোরআনের যে কোন সূরা পড়া। অন্যান্য সালাতে মত যথানিয়মে রুকু সেজদা করা এবং নামাযের অন্যান্য মাসলা মাসায়েল গুলো আদায় করা। এভাবে দুই রাকাত নামাজ শেষ করা।

Shab-e-barat-er-Doya

এইভাবে দুই বা চার রাকাত নামাজ পড়ার পর কিছু সময় দোয়া দুরুদ, তসবি তাহলীল পড়া, জিকির করা অথবা কোরআন তেলাওয়াত করা। এরপর আবারও নামাজে দাঁড়ানো এবং একই নিয়মে নামাজ পড়ার পর আবারও দোয়া দরুদ পাঠ করা। শবে বরাতের রাতে প্রত্যেক মুসলিম তার সাধ্য অনুযায়ী নামাজ পড়তে পারেন। এই রাতের নির্দিষ্ট পরিমাণ নামাজ নেই। রাকাতের ও নির্দিষ্ট কোন সংখ্যা নেই। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা যথাসাধ্য নফল ইবাদত করার প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

শবে বরাতের দোয়া সমূহ

শবে বরাতের রাতে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বিশেষ কিছু দোয়া উল্লেখ করেছেন। শবে বরাতের রাতে আল্লাহ তা’আলা সকল দোয়া কবুল করেন। তাই এই রাতে বেশি বেশি দোয়া করা উত্তম। হাদিসে উল্লেখ রয়েছে পাঁচটি এমন রাত হয়েছে যে রাতে বান্দার কোন দোয়া ফেরত দেয়া হয় না। সে পাঁচটি রাত হলো

  • জুমার রাতের দোয়া
  • রজব মাসের প্রথম রাতের দোয়া
  • শাবানের রাতের দোয়া
  • ঈদুল ফিতর তাতা রোজার ঈদের রাতের দোয়া
  • ঈদুল আজহা কুরবানীর ঈদের রাতের দোয়া

এই রাতগুলোতে আল্লাহর নৈকট্য এবং অনুগ্রহ লাভের আশায় নিম্নোক্ত দোয়াটি বেশি বেশি পড়া যেতে পারে।

shob-e-borater-doya-1

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফিরলি জামবি, ওয়া ওয়াসসী লি ফি দারি, ওয়া বারিক লি রিজকি। (নাসাঈ)

অর্থ: হে আল্লাহ! আমার গুনাহ মাফ করে দাও। আমার জন্য আমার বাসস্থান প্রশস্ত করে। এবং আমার রিজিকে বরকত দিয়ে দাও।

কেন শবে বরাত পালন করব?

শবে বরাতের রাত হল আল্লাহতালা দ্বারা প্রদত্ত বিশেষ বরকতের রাত। এই রাতে আল্লাহ তা’আলা তাঁর বান্দাদের দোয়া কবুল করেন এবং তাদেরকে ক্ষমা করেন। আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় মুসলিম উম্মাহ এই রাতে আল্লাহর নিকট বেশি বেশি দোয়া পাঠ করেন এবং রোজা থাকেন। এইদিন রাত্রিবেলা আল্লাহর তাআলার নিকট ইবাদত করলে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের পূর্বক সকল পাপ ক্ষমা করে দেয়।

তাই আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে এবং আল্লাহর ক্ষমা পেতে আমরা শবে বরাত পালন করে থাকি।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *