পরকীয়া সম্পর্ক বাড়ার কারণ: যুগ পরিবর্তন হচ্ছে। আর যুগ পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষও নিজেদের পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। তবে এই যুগের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বর্তমান সময় যে সমস্যাটি খুব বেশি দেখা যায় সেটি হল পরকীয়া। বর্তমান সমাজে পরকীয়া প্রেমের ঘটনা বা পরকীয়া সম্পর্ক বেড়েই চলেছে। বিভিন্ন কারণে এই পরকীয়া সম্পর্ক গুলো তৈরি হয়। পরকীয়া সম্পর্ক তৈরির কারণ গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে আমাদের অবশ্যই প্রথমে জানতে হবে পরকীয়া সম্পর্কটি কি। Read in English

বৃষ্টির আগমুহূর্তে আকাশের রং কালো দেখায় কেন?

বৈবাহিক জীবন থাকা সত্ত্বেও একজন নারী অথবা পুরুষ অন্য কোন নারী অথবা পুরুষের সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লে সেটাকেই পরকীয়া বলা হয়। আমাদের দেশ তথা বিশ্বে বর্তমানে এটি অন্যতম একটি সমস্যা। শুধুমাত্র সমস্যায় নয় পরকীয়া সম্পর্কের কারণে সমাজে নানা রকম সমস্যার তৈরি হয়। বেশিরভাগ পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে নারী ও পুরুষের শারীরিক অথবা মানসিক চাহিদা মেটানোর জন্য। এই পরকীয়া সম্পর্কের কারণে দিনে দিনে মানুষ বিভিন্ন রকম অপরাধ কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ছে।

পরকীয়া সম্পর্ক কি, পরকীয়া সম্পর্ক কেন হয় এবং এই পরকীয়ার ফলে সমাজে কিরূপ প্রভাব ফেলছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যই আজকের এই নিবন্ধের মূল আলোচ্য বিষয়।

SEE MORE

পরকীয়া সম্পর্ক কি এবং কেন হয়?

নারী ও পুরুষগণ তাদের শারীরিক ও মানসিক চাহিদা মেটানোর জন্য অথবা শারীরিক ও মানসিক শান্তির লক্ষ্যে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলে। বর্তমানে সম্পূর্ণ বিশ্বের অন্যতম প্রধান একটি সমস্যা এটি। পরকীয়া সম্পর্ক বাড়ার কারণ কম নয়। বিভিন্ন রকমের কারণে বর্তমান সমাজে মানুষের মধ্যে পরকীয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।

হিউম্যান সাইকোলজি তাদের আত্মিক তুষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন রকম সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। যার ফলে মানুষ শারীরিক ও মানসিক শান্তির জন্য এই পথ বেছে নেয়। এবং এর ফলে সমাজে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। পরকীয়া সম্পর্ক লুকানোর জন্য অনেক সময় কন্যাকে হত্যা করছেন বাবা। কখনো কখনো মায়ের হাতে নিহত হচ্ছে শিশুসন্তান।পরকীয়া সম্পর্ক বাড়ার কারণ ও দূর করার উপায়

পরকীয়া সম্পর্ক বাড়ার কারণ

বর্তমান সমাজে পরকীয়া সম্পর্ক বাড়ার কারণ কম নয়। বিভিন্ন কারণে মানুষ এই অপরাধের দিকে ঝুকিয়ে পড়ছে। স্বামী স্ত্রী কে, অথবা স্ত্রী স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে খুন করছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই হত্যাকাণ্ড বা খুনগুলো আবেগবশত বা হঠাৎ করে ঘটিয়ে ফেলা হত্যা নয়, রীতিমতো পরিকল্পনা করে এবং সব দিকে খেয়াল রেখে এই হত্যা কান্ড গুলো ঘটানো হচ্ছে।

বর্তমান সমাজে পরকীয়া সম্পর্ক বাড়ার অনেকগুলো কারণ দেখা যায়। পরকীয়া সম্পর্ক এর মধ্যে জড়িয়ে পড়ার জন্য যে প্রধান কয়েকটি কারণ দেখা যায় সেগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো।

বিয়ের ক্ষেত্রে ভুল মানুষকে নির্বাচন

বিয়ের ক্ষেত্রে ভুল মানুষকে নির্বাচন করায় পরকীয়া সম্পর্ক তৈরীর প্রধান কারণ। অনেক সময় অভিভাবকরা তাদের নিজেদের কথাই ভাবেন এবং ছেলেমেয়েদের ভালো-মন্দ কিছু না দেখে শুনে অনেক তাড়াহুড়া করেই তাদের সন্তানদের বিয়ে দিয়ে দেন। ছেলে ও মেয়েদের মতামতকে প্রাধান্য না দিয়ে তাড়াহুড়ো করে বিয়ে দেয়ার ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ছেলে মেয়েদের বিবাহিত জীবন সুখের হয় না। 

অনলাইনে টাকা ইনকাম করার উপায় ( Online Earning Way)

সেই ক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন প্রকার মানসিক সমস্যায় ভোগে এবং ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে বিভিন্ন প্রকার পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে।

শারীরিক সমস্যা

বিবাহিত জীবনে শারীরিক সমস্যা অন্যতম একটি প্রধান সমস্যা। এই সমস্যাটি মূলত তখন বেশি দেখা যায় যখন ছেলে ও মেয়ে সমবয়সী হয় বা তাদের বয়সের ডিফারেন্স অনেক বেশি হয়ে থাকে।

যার ফলে স্বামী ও স্ত্রীর কাছ থেকে তারা পরিপূর্ণ তৃপ্তি পায় না এবং শারীরিক সন্তুষ্টির জন্য বিভিন্ন প্রকার পরকীয়া সম্পর্কে আসক্ত হয়ে পড়ে।

SEE MORE

ক্যারিয়ার এডভান্সমেন্ট

ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়ার জন্য এবং প্রমোশনের লোভে অনেক সময় নারী ও পুরুষ তাদের তাদের কর্মস্থল এর ম্যানেজার কিংবা উপরে লেবলের বসদের সাথে পরকীয়া সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে যান। দুঃখজনক হলেও এটি একটি সত্যি বিষয়। এই সকল পরকীয়ায় লিপ্ত মানুষজন মনে করেন এই সম্পর্ক তাদের চাকরির ক্ষেত্রে বা কেরিয়ারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রদান করবে।

তবে এটি সম্পূর্ণ ভুল একটি ধারণা। এই সম্পর্কের ফলে মানুষের ব্যক্তিসত্তা এবং তার চরিত্র সত্ত্বাকে ধ্বংসের মুখে পড়তে হয়। মানুষ আস্তে আস্তে তাদের নিজেদেরকেই অপছন্দ করতে শুরু করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই পরকীয়া সম্পর্ক বেশিদিন টিকে না আবার সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার ফলে চাকরি হারানোর ভয় থাকে।

এবং এই পরকীয়া সম্পর্ক প্রভাব ফেলে উক্ত ব্যক্তি অথবা নারীর পারিবারিক জীবনে ও সন্তানদের ওপর। এই সাময়িক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার ফলে, বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং সম্মান সবকিছুই নষ্ট হয়ে যায়। এবং এই বস্তুগুলো জীবন থেকে একবার হারিয়ে গেলে খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসে না। এ সমস্যাগুলোর জন্য মানুষ জীবনে অনেক ভুল সিদ্ধান্ত নেয়। অনেক সময় তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।পরকীয়া সম্পর্ক বাড়ার কারণ

বিয়ের অল্প কিছুদিন পরই অভিভাবক হওয়া

কথাটি অনেক জটিল হলেও এটি একদম বাস্তব। বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মধু সম্পর্কে তখন ব্যাপক পরিবর্তন আসে যখন তারা পিতা-মাতা বা অভিভাবক হয়ে যান। কোন পরিবারের একটি সন্তান জন্মগ্রহণ করার পরে সকলের অধিক গুরুত্ব প্রদান করা হয় সন্তানের ওপর। যার ফলে সন্তান নিয়ে ব্যস্ত থাকায় স্বামী স্ত্রী কেউই একে অপরকে সময় দিতে পারেন না।

এবং এই সময় দেওয়ার অভাবে পূর্বের সে মায়া বা ভালবাসা কোনটি থাকে না। তখন সেই নারী অথবা পুরুষের মন চলে যায় বাইরে এবং বিভিন্ন প্রকার পরকে সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে পড়েন।

SEE MORE

সমাধান

সাধারণভাবে দেখা চাই যে, পেশাগত জীবনে যে সকল ব্যক্তি অথবা নারীরা নৈতিকতার চর্চা করে তিনি পারিবারিক জীবন ও অনেক বিশ্বস্ত থাকে। আবার পেশাগত দিকে অসৎ মানুষজনই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছেন। তাই এই সকল অনৈতিক কাছ থেকে বিরত থাকার জন্য অবশ্যই পেশাগত জীবনে নৈতিক থাকা জরুরী। পরকীয়া সম্পর্ক বাড়ার কারণ গুলো হিসেবে যেগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে সেগুলো থেকে অবশ্যই সকলকে বেঁচে থাকতে হবে।

পরকীয়া সম্পর্ক দূর করার জন্য প্রচার মাধ্যম মিডিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। পরকীয়ার কারণে যে সকল খুনগুলো অপরাধগুলো সংঘটিত হয় সেগুলো এমন ভাবে পরিবেশন করতে হবে যাতে কোন মানুষ এই ধরনের সম্পর্কের জড়িয়ে পড়ার আগে অন্তত দুইবার ভাবে। এই নৃশংস আচরণ দূর করতে হলে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কোন লুকোচুরি রাখা চলবে না।

সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য যেমন সামাজিক আচরণ প্রয়োজন তেমনি নিয়ম মেনে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসা ও সমাজসিদ্ধ আচরণ। স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে কোন সমস্যা তৈরি হলে অবশ্যই নিজেদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে সেই সমস্যা দূর করে ফেলতে হবে। স্বামী এবং স্ত্রী একে অপরকে প্রয়োজন মত সময় দিতে হবে। পরিবারের সহনশীলতা এবং একে অপরের সাথে মিলেমিশে থাকতে হবে। অন্যের মতকে ও গুরুত্ব দেখানো অত্যন্ত জরুরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published.