গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর একটি মার্কেটে জুয়েলার্সের দোকান ভেঙে প্রায় ৩০০ ভরি স্বর্ণ চুরি করে দুর্বৃত্তরা। আর এর মূল হোতা আছে দেশের বাইরে।চুরির ঘটনা যেন বাস্তব সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর কচুক্ষেতের রজনীগন্ধা টাওয়ারের রাঙ্গাপরী জুয়েলার্স এ। Read in English

এ যেন হার মানায় সিনেমার ঘটনা কে স্বর্ণের দোকানে চুরির পরিকল্পনা করা হয় ফ্রান্সে বসে যার বাস্তব রূপ দেয়া হয়েছে ঢাকায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী চোর চক্রের ২ সদস্য রজনীগন্ধা মার্কেটে নিরাপত্তা প্রহরী ও সুইপার পদে চাকরি নেয়। এরপর ভিন্ন একটি দোকান ভাড়া করে কৌশলে রাখা হয় চুরি করার সরঞ্জামাদি। এবং অপেক্ষা করা হয় সঠিক সময় এবং নির্দেশনার। এভাবেই রাঙ্গাপরী জুয়েলার্সের দুটি দোকান হতে ৩০০ ভরি স্বর্ণ নগদ অর্থ এবং দোকানের ডিসপ্লেতে সাজানো নকল সোনাও চুরি করা হয়।

সিনেমা স্টাইলে চুরি

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের ফলে চোর চক্রের এক সদস্য ধরা পড়ে এবং তার পরেই বেরিয়ে আসে এসকল চাঞ্চল্যকর তথ্য।

ঢাকা মহানগরের গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত কমিশনার হাফিজ আক্তার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান মাসুদ এবং ইলিয়াস নামের দুইজন উক্ত মার্কেটের সিকিউরিটি গার্ড ও সুইপার ছিল। তারা সুযোগ বুঝে তাদের অন্যান্য সদস্যদের সঠিক সময়ে আসতে বলে। পরবর্তীতে আরও দু’জন সদস্য শ্রীকান্ত এবং তালা ভাঙ্গার মিস্ত্রি রাজা মিয়া প্রবেশ করে। এভাবে চারজন মিলে সমস্ত চুরির ঘটনাটি শেষ রুপ দান করে বেরিয়ে যায়। এর মধ্যে একজনের কাছ থেকে নগদ নয় লক্ষ টাকা জব্দ করা হয়।

রাজধানীতে জুয়েলার্স চুরি

তিনি আরো জানান কাজের ভিত্তিতে টাকা বন্টন করা হয় যেমন তালা ভাঙার মিস্ত্রি একটু বেশি টাকা পায় এবং অন্যান্য সদস্যরা একটু কম টাকা পায়। তিনি বলেন মার্কেটে সিকিউরিটি গার্ড ও সুইপার নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে বেরিয়ে আসে চোর চক্রের মূল হোতা নাসির নামের একজন ফ্রান্স থেকে সমস্ত চুরির ঘটনাটির নীল নকশা আকেন। এবং চোর চক্রের সদস্যদের আর্থিক যোগান দাতা ও তিনি। তার বিরুদ্ধে কতটি মামলা আছে এটি এখন বর্তমানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চোর চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার কার্য অব্যাহত আছে বলে জানান হাফিজ আক্তার।

Leave a Reply

Your email address will not be published.