কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে দফায় দফায় ইয়াবার বড় বড় সব চালান  উদ্ধার হচ্ছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী কর্তৃক বিতাড়িত হওয়ার পর রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পাড়ি জমান এবং কক্সবাজারের উখিয়ায় তারা আবাসস্থল স্থাপন করেন। দফায় দফায় অনেক আন্তর্জাতিক বৈঠকের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ফেরত নেয়ার কথা বললেও মিয়ানমার সরকার এখন পর্যন্ত তা আমলে নেয়নি। কিন্তু বর্তমানে এই রোহিঙ্গাদের জন্য  বাংলাদেশ সরকার বড় হুমকির মুখে পড়ছে। প্রতিনিয়ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প হতে দফায় দফায় ইয়াবার বড় চালান জব্দ করা হচ্ছে। যে সকল ইয়াবা তারা মিয়ানমার হতে নিয়ে এসে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের তরুণ সমাজ একটি হুমকির মুখে এগিয়ে যাচ্ছে। Read in English

এরইমধ্যে কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প হতে ১ লক্ষ ৬৯ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে (এপিবিএ)  আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এর সদস্যরা। ধারণা করা হচ্ছে জব্দকৃত ইয়াবার দাম প্রায় ৫ কোটি ৭ লাখ টাকার সমান। এপিবিএন পুলিশ উক্ত ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা ক্যাম্প হতে এক তরুণকে গ্রেফতার করে যার নাম মোহাম্মদ সাদেক হোসেন বয়স (২৫) বছর। তিনি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জি ১৬ ব্লকের বালুখালী ১০ ক্যাম্পের একজন বাসিন্দা।

বিপুল সংখ্যক ইয়াবা উদ্ধার

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ কামরান হোসেন জানান-“গোপন সূত্রের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মধ্যে ইয়াবার একটি বড় চালান সংরক্ষিত আছে এরই ধারাবাহিকতায় তারা অভিযান পরিচালনা করেন এবং উক্ত যুবককে ১ লাখ ৬৯ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক করেন, তিনি আরো জানান- সেই যুবকের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা করা হয়েছে.। তাকে আদালতে প্রেরণ করার পর তার রিমান্ড আবেদন করা হবে। গত মাসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশে অন্য একটি ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে একটি অটোরিকশা হতে বিপুলসংখ্যক ইয়াবার চালান উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসার পর থেকে ইয়াবার বড় বড় চালান বাংলাদেশের ডুকছে যার পরিপেক্ষিতে বাংলাদেশের তরুণ সমাজ ব্যাপক ভাবে বিনষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

কক্সবাজার এখন ইয়াবার রাজ্য

বর্তমানে বিভিন্ন অপরাধ সংগঠনের পেছনে মাদকাসক্তি একটি বড় অন্তরায়। মাদক সেবনের হার যত বৃদ্ধি পাবে অপরাধ-এর হার  আরো ঠিক ততটাই বৃদ্ধি পাবে। যার ফলস্বরূপ আমরা বলতে পারি রোহিঙ্গা আসার পর থেকে বাংলাদেশ অপরাধ সৃষ্টির ঘটনা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে স্থানীয়রা জানান বর্ডারের  মাধ্যমে বিভিন্ন মাদক চোরাকারবারি অল্প পরিসরে মাদকদ্রব্য চোরাচালান করত। কিন্তু বর্তমানে রোহিঙ্গারা এই পরিমাণ বিশদ আকারে বাড়িয়ে তুলেছে। কক্সবাজার পুলিশ দফায় দফায় অনেক অভিযান চালিয়ে বড় বড় মাত্রায় ইয়াবা সহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে আসছে।

সেসকল অভিযান চালানোর সময় অনেক সময় বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন শত শত মাদক চোরাকারবারি গত ৩ থেকে ৪ বছরে শুধু কক্সবাজারে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন প্রায় তিন শতাধিক মানুষ। আত্মসমর্পণের হার খুব একটা কম নয় অনেকে তাদের জীবন বাঁচাতে বেছে নিয়েছেন সুস্থ জীবনের পথ এবং করেছেন আত্মসমর্পণ। তাই যত দ্রুত সম্ভব আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে পুরোপুরি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এর ব্যবস্থা করতে হবে নইলে সেদিনটা দূরে নয় যেদিন ইয়াবার ভয়াল থাবায় আমাদের যুব সমাজ পুরোপুরি নষ্ট হতে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.