বাংলা একটি প্রবাদ আছে এ পৃথিবীতে যাহার সৃষ্টি চির কল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর। অর্থাৎ একটা সুন্দর জীবনের জন্য একটা নারীর ভূমিকা অপরিসীম। Read in English

একজন পুরুষের জীবন সুন্দর করে সাজাতে একজন নারীর অবদান অপরিসীম বিবাহবন্ধনের দ্বারা তারা একজন নারী পুরুষ স্বামী-স্ত্রীতে রূপান্তরিত হয় শুরু করে তাদের বৈবাহিক জীবন। বৈবাহিক জীবন বলতে বোঝায় স্বামী স্ত্রীর প্রতি অত্যাধিক ভালোবাসা প্রেম আবেগ ইত্যাদি। একজন নারী এবং পুরুষ তাদের জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করে বিবাহ নামক সম্পর্কের হাত ধরে। এ সম্পর্কে সবার জীবনে যে সুন্দর একটি মুহূর্ত বয়ে আনে তেমনটা কিন্তু নয় কিছু সময় এর বিপরীতটাও ঘটে। যেমনটি ঘটেছে আলামিন এর ক্ষেত্রে আলামিন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দিগলকান্দি ইউনিয়ন এর একজন বাসিন্দা। তার বাবা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের একজন সভাপতি। পারিবারিক অশান্তির জেরে তিনি আত্মহত্যা করেন আত্মহত্যার পূর্বে তিনি একটি সুইসাইড নোট ছোট ভাই কে লিখেন। সুইসাইড নোটটি এখন সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে কি ছিল সে সুইসাইড-নোটে?

সুইসাইড নোট

“ভাই আমার জীবন আর চালাই নিতে পারছি নারে ভাই। প্রতিটি মুহূর্ত যন্ত্রণার। মাহমুদ, অনেক ভালোবাসি ভাই তোকে। আমাকে মাফ করে দিস। আমার সংসারটা শিলার বাবা, মা আর ওর ভাই নাহিদ নষ্ট করে দিছে। আমার কলিজার টুকরাকেও নিয়ে গেছে ওরা। ভাই, প্রতিদিনের এই যন্ত্রণা কষ্ট থেকে এটা ছাড়া উপায় ছিল না। ভাই, আমার অসহায়ত্ব আর চোখের পানিও ওদের কাছে হাসি-তামাশার মনে হয়েছে। ভাই, বাবুকে দেখে রাখিস। আর পারলাম না ভাই। একটু একটু করে মরার চেয়ে একেবারেই মরে যাওয়া ভালো। তা-ও যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাব। আমার আব্বা-মাকে মাফ করে দিতে বইলো ভাই।“

টাঙ্গাইলে যুবকের আত্মহত্যা

একটি মানুষ কতটা অসহায় হলে এমন একটি সুইসাইড নোট রেখে ওপারে চলে যেতে পারে। সুইসাইড নোটটি তার ছোটভাই মাহমুদ তার নিজ ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করেছেন। মৃতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আলামিন একই উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের তালতলা গ্রামের ইউসুফ আলীর মেয়ে শীলাকে বিয়ে করেন। পারিবারিক কলহের জেরে সম্প্রতি তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয় তাদের ২ বছরের ছেলে সন্তান রয়েছে। বিবাহ বিচ্ছেদের পর ছেলে সন্তান থেকে তার মা নিজের কাছে রেখে দেয় এই নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন তিনি। উক্ত সুইসাইড নোট লেখার একদিন পরেই বিষপান করে আত্মহত্যা করেন তিনি। ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম বলেন প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যা ময়না তদন্তের পরে লাশ পরিবারকে হস্তান্তর করা হবে।

একটা মানুষ কতটা বিষণ্ণতায় ভোগে এমন একটি কাজ করতে পারে যে ব্যক্তি হয়তো বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিল একটু সুখের আশায় হয়তো নতুন কোন স্বপ্ন নিয়ে বাঁচার আশায় কিন্তু তার এই স্বপ্ন তার স্ত্রী শ্বশুর-শাশুড়ি স্ত্রীর ভাইয়ের জন্য এক নিমিষে শেষ হয়ে গেল। একটা বাবা কতটা অসহায় হলে এমন একটি সুইসাইড রেখে যেতে পারে তার সন্তানের জন্য পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁর মাথায় শুধু একটা চিন্তায় ছিল সন্তানকে যেন তার ছোটভাই আগলে রাখে। একটা বাবা কতটা অসহায় হলে তার সন্তানকে এমন করে রেখে চলে যেতে পারে প্রতিবেশীরা জানান এটি একটি আত্মহত্যা হলেও এটি কোন অংশে খুন এর থেকে কম না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.