স্মার্টফোন বর্তমান সময়ের একটি উন্নত বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি যন্ত্র। যা সময়ের ব্যবধানে নিমিষেই অনেক কিছু করে ফেলতে সাহায্য করে। আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অনেকটা নির্ভরশীল বস্তু হলো স্মার্টফোন। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠার জন্য স্মার্টফোনে অ্যালার্ম থেকে শুরু করে দিনের প্রতিটি মুহূর্তের জন্য স্মার্টফোন ব্যবহার করে থাকে মানুষ। তবে স্মার্টফোনের যেমন সুবিধা তেমন অসুবিধারও রয়েছে। আসলে এর প্রয়োজনীয়তার ভিড়ে  আমরা এর ক্ষতিকর দিক গুলো উপেক্ষা করে ফেলছি। স্মার্টফোন এখন এতই সহজলভ্য যন্ত্র হয়েছে যা ছোট, বড়, মধ্য বয়স্ক সবাই ই ব্যবহার করে কারন সবার হাতের নাগালেই থাকে। কিন্তু এই যন্ত্র যে অনেক সুবিধা তা না। এই যন্ত্রে অনেক অসুবিধাও আছে। বড়দের জন্য পুরোপুরি সুবিধার তা না। বড়দের ভুল ব্যবহারেও অনেক দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। বাচ্চাদের জন্য এটা একদমই সুবিধার না। Read in English

তবুও আজকাল বাবা-মায়ের হাতে সময় না থাকায় আসলে তারা সময় বের করতে না পারায় বাচ্চাদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে স্মার্টফোন নামক যন্ত্রের দিয়ে। যা বাচ্চাদের জন্য আসলেও সুবিধার না। বাচ্চাদের একটু আধুনিক,  একটু বুদ্ধির বিকাশ ঘটানোর জন্য বাবা-মা স্মার্টফোন নামক যন্ত্রের দিকে ঝুকিয়ে দিচ্ছে। এই স্মার্টফোন কিন্তু বাচ্চাদের জন্য একদমই ক্ষতিকর। যুক্তরাজ্যের রয়েল কলেজ অফ সাইক্রাটিস্টের ডা. বেনার্দকা ডুবিকা বলেছেন যে,  ”  স্মার্টফোন এবং মানসিক সমস্যার যোগসূত্র এক কি না তা এখনো প্রমান করে জানা যায়নি। তবে গবেষণায় পাওয়া গিয়েছে যে নিজের রাগ, আত্মহত্যা এবং নিজের ক্ষতি করার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ উপাদান রয়েছে। যেটা নিজের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করেন”।

স্মার্টফোনের কারনে বাচ্চাদের যে সকল সমস্যা হতে পারে

১) বাচ্চারা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হচ্ছে। কারন অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারে বাচ্চারা শুধু ফোনে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে তাদের বুদ্ধি বাড়ছে না তারা ফোন পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে। এতে তারা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হচ্ছে। অনেক বাচ্চারা কার্টুন দেখে দেখে কার্টুনের মতই আচরণ করে, কার্টুনের মতই কথা বলে। নিজেদেরকে কার্টুনের মত করে ফেলে।

২) মোবাইলের যে আলো তা চোখের ক্ষতি করে। এমনকি চোখও নষ্ট করে ফেলে। এখনকার কম বয়সী  বেশিরভাগ বাচ্চাদের চোখেই চশমা। এর কারনও কিন্তু স্মার্টফোন। কারন স্মার্টফোনের আলো এতই তীব্র যা বাচ্চাদের সহনীয় নয়।

৩) ব্রিটিশ চিকিৎসক দল বলেন  -“খাওয়ানোর সময় বাচ্চাদের হাতে স্মার্টফোন দেয়া উচিত নয়।”স্বাস্থ্যকর ভাবে খাবার এবং ঘুমানোর সময় বাচ্চাদের হাতে স্মার্টফোন দেয়া উচিত নয় বলে মনে করেন যুক্তরাজ্যের শীর্ষ প্রধান ৪ জন চিকিৎসক কর্মকর্তারা। তারা আরো বলেন যে শিশুদের ফোন থেকে আসক্তি ছোটানো উচিত এবং অবশ্যই তাদেরকে ফোনের স্ক্রিন থেকে দূরে রাখা উচিত তাদের নিরাপদ রাখার জন্য।

৪) “নিজের ক্ষতি এবং আত্মহত্যার মতো বড় প্রবণতা রুখতে স্মার্টফোনের ব্যবহার কম করানো উচিত বাচ্চাদের-বলে মনে করেন ব্রিটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক।

৫) চিকিৎসা কর্মকর্তা ডেমি স্যালী বলেন,  ” যাদের মানসিক সমস্যা হয়ে থাকে তারা  স্মার্টফোনের উপর আসক্ত হয়ে পড়ে। এতে তারা আরো মানসিক রোগী হয়ে পড়েন।

৬) বিভিন্ন অনলাইন গেম এবং ভিডিও গেম খেলে তারা তাদের চিন্তা- চেতনার মনকে আচ্ছন্ন করে ফেলছে। তাই বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা ২০১৮ সালে বাচ্চাদের এই স্মার্টফোন ব্যবহারের ওপর গবেষণা করে জানান যে international classification of disease- এর মনোস্বাস্থ্য সমস্যা বলে  ১১তম সংস্করণে GAMING ADDICTION কে অভিহিত করেছেন।

৭) বাচ্চাদের স্নায়ু দূর্বল করে ফেলে এই স্মার্টফোন। অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারে বাচ্চাদের স্নায়ুশক্তি হ্রাস পেয়ে থাকে।

৮) রক্তের চাপ বাড়ে,নিদ্রাহীনতা হয়, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। কারন তারা ফোন থেকে বের হতে পারে না সারাক্ষণ ফোনেই ঢুকে থাকে। যেখানে তাদের খেলার বয়স সেখানে তারা রুমে থাকতে থাকতে ফোনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

৯) বাচ্চারা অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারে ব্রেন টিউমারও হতে পারে

১০) স্মার্টফোনের Switch Centre  Base  Station  And Screen Radiation তাদের মস্তিষ্ক এর বিকাশ কে ব্যাহত করে। এই সম্পর্কে Sunset School Of Public  health এর ডিন ডেভিড কারপেইন্টার বলেন যে আমরা বাচ্চাদের মহামারির শিকার হবো হয়ত খুব  শীঘ্রই আর সেটাও হবে ব্রেইন টিউমার বা ক্যান্সার।

১১) গবেষণায় এই ও জানা গেছে যে স্মার্টফোন  বাচ্চাদের শ্রবণশক্তি হ্রাস করে দেয়।

১২) আবার অনেক সময় দেখা যায় বাচ্চারা গেম বা ভিডিও দেখতে এমন কিছু ভিডিও দেখে যা তাদের মোটেও দেখা উচিত নয় কিন্তু তাদের সামনে পড়ে যায়। এতে তারা বিভিন্ন অশ্লীল ভিডিও দেখার প্রতিও আসক্ত হয়ে যা ভবিষ্যতে নেশার চেয়েও খারাপ আকার ধারণ করে বসবে।

এছাড়াও আরো অনেক অনেক ক্ষতিকর দিক আছে যা বাচ্চাদের জন্য খুবই ভয়ানক। প্রখ্যাত রেডিয়েশন গবেষক কোরি-ক্রফটক বলেন, “১৮ বছর কম বয়সী বাচ্চাদের স্মার্টফোন ব্যবহার করতে দেয়া  উচিত নয়।”  বাচ্চারা দিন দিন অলস, পড়াশোনায় অমনোযোগী, দূর্বল, মানসিক রোগী হয়ে যাবে। বাচ্চাদেরকে ভালো রাখতে যে স্মার্টফোন আমরা হাতে তুলে দি সে স্মার্টফোন একটা বাচ্চার মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াতে কতটা সাহায্য করে তা আমরা কল্পনাও করতে পারি না। বাচ্চাদের এই স্মার্টফোন ছেড়ে বাইরের বিনোদন দেয়া উচিত, খেলতে দেয়া উচিত, বাচ্চাদের মানবিক বিকাশ বাড়াতে স্মার্টফোন ছাড়া অনেক উপায় আছে সেগুলো দেয়া উচিত। বাবা-মা ই একটা বাচ্চার ভালোর জন্য দায়ী আবার সেই বাবা-মা ই বাচ্চাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়ার জন্যেও দায়ী এমন সব স্মার্টফোন ব্যবহার করতে।

তাই যত কাজই থাকুক বাচ্চাকে সময় দিন আর এই সব ডিভাইস থেকে বাচ্চাকে দূরে রেখে বাচ্চার সুন্দর ভবিষ্যত তৈরী করুন।

আপনার বাচ্চা যতক্ষন জীবিত ততক্ষন আপনার প্রাণ, আপনার সম্পদ।বাচ্চাকে ভাল রাখুন বাচ্চার সুন্দর ভবিষ্যত গড়তে বাচ্চাকে সাহায্য করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.