ছয় ঋতুর দেশ বাংলাদেশে প্রথম ঋতু হচ্ছে গ্রীষ্মকাল। যদিও গ্রীষ্মকালে খুব একটা গরম শুরু হয় না কারন গরমের শুরুই হয় গ্রীষ্মকাল দিয়ে। তবুও গ্রীষ্মকালে খুব একটা গরম হয়না তবে আসল গরমের শুরু হয় জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে। Read in English

জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরু থেকেই প্রচুর পরিমাণে গরমের ভাব পাওয়া যায়। যা অসহ্যকর সৃষ্টি করে। এখন গরমের শুরু যদিও এটা ফাল্গুন মাস চলছে। তবে গরমের আভাস পাওয়া যায় এই মাস থেকেই। এখনো তাপমাত্রা খুব একটা বাড়ে নি। তবে রাজধানীসহ সারাদেশে প্রায় ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর কাছাকাছি আছে। এটা আরো প্রখর হয়ে যাবে তখন এই তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি বা তার চেয়েও বেশি পর্যন্তও বেড়ে যাবে। আবহাওয়া অফিস থেকে প্রায় প্রতিদিন যেমন আবহাওয়ার সম্ভাব্য খবর দেয় ঠিক সামনের ৫ দিন অব্দি পর্যন্তও অনেক সময় সম্ভাব্য আবহাওয়া জানিয়ে দেয়। তবে বৃষ্টির সম্ভাবনা খুব একটা থাকে না গরমকালে সেটাও অগ্রিম জানা যায় আবহাওয়া বার্তা থেকেই। পূর্বাভাস এটাও জানিয়ে থাকে কেমন কি থাকবে না থাকবে। তবে অতিরিক্ত কোন জিনিস যেমন ভালো না ঠিক তেমনি অতিরিক্ত গরমও ভাল না। কারন গরমের কারনে মানুষ বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এমনকি এই সময়টাও বাচ্চা ও বয়স্কদের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের বেশি সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।গরমে খুব সাধারণ একটা রোগে অসুস্থ হয় বাচ্চা ও বয়স্করা। সেটা হলো হিটস্ট্রোক (heat stroke) যাকে বাংলায় সর্দিগর্মি। গরম থেকে স্বস্তি পাওয়ার উপায় জানার আগে আসুন আগে হিটস্ট্রোক সম্পর্কে জেনে নিই।

আসুন জেনে নিই হিটস্ট্রোক কি

হিটস্ট্রোক হচ্ছে এমন এক পরিস্থিতি, যখন শরীরের তাপমাত্রা পরিবেশের অত্যধিক তাপমাত্রার কারণে বেড়ে যায়। কখনও কখনও বা এই তাপমাত্রা বেড়ে ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট ও তার কাছাকাছিও যেতে পারে। এটা একটা জটিল পরিস্থিতি, যা হঠাৎ হঠাৎই ঘটে থাকে। এই বিষয়ে একেকজনের মন্তব্য একেকরকম তবে। ঢাকায় অবস্থিত একটি পরিচিত হাসপাতাল আইসিডিডিআরবি (ICDDR’B) এর একজন চিকিৎসক ড. আলিয়া নাহিদ বলেন, বাইরের তাপমাত্রা যাই হোক না কেন আমাদের শরীর ঠিকঠাক রাখতে তাপমাত্রা প্রায় স্থির রাখতে সক্ষম।তবে প্রচুর গরমে শরীরের তাপমাত্রা যদি নিয়ন্ত্রণ করা বন্ধ করে দেয়ার কারনে যে স্ট্রোক হয় তাকে হিটস্ট্রোক বলে। হিটস্ট্রোকের কারনে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ে এবং ঘামও বন্ধ হয়ে যায়।

লক্ষন

  • অতিরিক্ত গরম সহ্য না করতে পারায় অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।
  • প্রখর গরমের সাথে শরীরের তাপমাত্রায় বেড়ে যাওয়া।
  • গরমে মাথায় ব্যথা করা, মাথা ঘোরা হওয়া।
  • গরম সহ্য করতে না পারায় অজ্ঞান হয়ে পড়া।
  • গরমে শরীরে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে ঘাম না হওয়া।
  • গরমে ত্বক গরম ও শুষ্ক হয়ে যাওয়া।গরমে শরীরের হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া।
  • বমি হওয়া।
  • মাঝে মাঝে পেশিতে টান অনুভব করা ও শারীরিক দূর্বলতার সৃষ্টি হওয়া।
  • গরমের জন্য শ্বাসকষ্ট, মানসিক বিভ্রম ও খিচুনি হওয়া।

প্রাথমিক চিকিৎসা

হিটস্ট্রোকের কারনে যদি অজ্ঞান হয়ে যায় আর সেটা যদি কেউ না ধরতে পারে।অর্থাৎ যদি কেউ হটাৎ গরমে অজ্ঞান হয়ে যায় তবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিকটস্থীয় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এইসময়ে যে কাজ গুলো করা উচিত তা হলো

প্রথম অবস্থায় রোগীকে আগে কোন এক জায়গায় শুয়িয়ে তারপর পুরো শরীরে বাতাস করতে হবে বিশেষ করে মাথায়। যত দ্রুত সম্ভব কাপড় ভিজিয়ে পুরো শরীর মুছে ফেলতে হবে।

শরীরের তাপমাত্রা কমাতে হবে। তাই যত দ্রুত সম্ভব তাপমাত্রা কমাতে ঘাড়,পিঠ,বগল ও কুচকিতে আইসপ্যাক ব্যবহার করতে হবে।

আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় কাপড় খুলে ফেলতে হবে। কারন হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিকে যতটা সম্ভব ভিতরে বাতাস প্রবেশের রাস্থা দিতে হবে। এমনকি সম্ভব হলে হিটস্ট্রোক ব্যক্তিকে ঠান্ডা বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুমে রাখতে হবে।

হিটস্ট্রোক থেকে সাবধান থাকতে হবে। এবার উপায় গুলো জানা যাক।

অসহ্য গরম থেকে বাচতে হলে যা করা প্রয়োজন

  • প্রথমেই পোশাকের কথায় আসি। এই সময়ে পোশাক নির্বাচন করে পড়া অনেক দরকার। যেমন এই সময় নরম, পাতলা ও হালকা রঙের কাপড় পড়লে বেশ ভালো হয়। আরামদায়কও হয় আবার গরমের প্রভাব থেকে একটু স্বস্তি পাওয়া যায়।তাই এমন পোশাক পরুন যা নরম সরম হবে পড়েও শান্তি পাওয়া যাবে।
  • বাসা থেকে বের হওয়ার সময় অবশ্য রোদ থেকে বাচতে সানস্ক্রিন লাগান বা ছাতা ব্যবহার করেন বাইরে যাওয়ার সময়। কারন প্রখর রোদ কে এড়াতে হবে। আর রোদ এড়াতে আপনাকে ভালো কোয়ালিটি সম্পন্ন সানস্ক্রিন আপনাকে রোদ এর ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে বাবাচাবে।
  • ফলের শরবত খান। কারন ফলের রসে অনেক ভিটামিন থাকে এবং টক জাতীয় ফলে ভিটামিনসি থাকে। যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে যা মানব দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয়। আর গ্রীষ্মকালীনে অনেক ধরনের ফল পাওয়া যায় যা শরীরের জন্যও অনেক উপকারী।
  • গ্রীষ্মকালে মাংস বেশি খাওয়া উচিত না। বিশেষকরে গরুর মাংস, কারন গরুর মাংসে কোলেস্টেরল বেশি থাকে।অতিরিক্ত গরুর মাংস স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কারণ গরুর মাংসে থাকে কোলেস্টেরল, ফ্যাট ও সোডিয়াম। কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই যাদের রক্তে কোলেস্টেরল বেশি, তাঁদের অতিরিক্ত গরুর মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।গরম কালে এই গরুর মাংস প্রেসারের মানুষদের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।তাই মাংস না খেয়ে বেশি বেশি সবুজ সবজি খাওয়া ভাল হয় এবং সবজির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ফল খাওয়া আরো ভাল হয়।
  • শরীরের পানিশূন্যতা এড়াতে হবে। তাই বিভিন্ন ধরনের ফলের শরবত এবং পানি অতিরিক্ত পরিমানে খেতে থাকেন। যাতে শরীর পানির অভাবে শুষ্ক হয়ে না যায়।
  • অনেক্ষন গরমে থাকলে অবশ্যই অবশ্যই স্যালাইন পানি খেতে থাকেন। কারন স্যালাইন থাকে সোডিয়াম, পটাসিয়াম সহ আরো অনেক উপাদান। যা শরীর সতেজ রাখতে সাহায্য করে অনেক।
  • গরমে শরীরের কমতি নজর দিন। অবশ্যই প্রস্রাবে নজর দিন। প্রস্রাব এর রঙ গাঢ় কিন্তু পানি স্বল্পতারই কারন। তাই প্রস্রাবের রঙের দিকে নজর দিবেন অবশ্যই।
  • গরমে যেকোন সময় বৃষ্টির ঘটনা ঘটতে পারে তাই অবশ্যই ব্যাগে ছাতা বা টুপি ধরনের কিছু রাখুন এবং পলেথিন তো অবশ্যই রাখা প্রয়োজন।
  • বাইরে যাওয়ার সময় ছায়া দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। সূর্যের প্রখর তাপ থেকে ছায়া একটু হলেও বাচায় তাই রোদ থেকে বাচতে সরাসরি রোদকে এড়িয়ে ছায়া দিয়ে চলুন।
  • সর্বশেষ উপায় হচ্ছে প্রচুর গরমে বাসা থেকে না বের হওয়ায় ভালো। খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার প্রয়োজন নেই। যেমনই হোক বাসায় থাকা ভাল অতিরিক্ত গরমেও তাহলে একটু স্বস্তিবোধ আসে।

আর হ্যাঁ গরমে ডাবের পানি খুব উপকারী শরীর সতেজ রাখতে।এইভাবে গরমে নিজেকে বাচানো সম্ভব। আসুন তবে অসহ্য গরম থেকে নিজে বাচি এবং অন্যকে বাচতে সাহায্য করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.