চুল ঝরা বা চুল পড়া নারী এবং পুরুষের খুব বড় একটা সমস্যা। চুল পড়ার সমস্যায় নারীদের থেকে পুরুষের হার অনেক বেশি। কেননা পুরুষরা চুলের যত্ন কখনোই নেয় না শুধুমাত্র তারা সপ্তাহে দুই বা তিন দিন শ্যাম্পু করলে সেটাইতো চুলের যত্ন। Read in English

কিন্তু মেয়েরা এ ক্ষেত্রে ভিন্ন। তারা তাদের চুলের যে পরিমান যত্ন নেয় পুরুষরা তার ১০% ও নেয় না.। তাছাড়া পুরুষরা মেয়েদের তুলনায় বাইরে থাকে বেশি। সুতরাং তাদের চুল রোদ বৃষ্টি, ঘাম, ধুলোবালি ইত্যাদি সহ্য করে। তাই চুল পড়ার ক্ষেত্রে নারীদের থেকে পুরুষরা অনেক গুণ এগিয়ে। অনেক পুরুষের ক্ষেত্রে দেখা যায় অল্প বয়সে তাদের চুল পড়ে গেছে কিন্তু মেয়েদের ক্ষেত্রে তেমনটি হয়না। এর জন্য অনেক পুরুষ আছেন যারা চুল পড়ার সমস্যা টাকে অনেক দুশ্চিন্তার মনে করেন। কেননা এটি মানুষের সৌন্দর্য প্রকাশের বড় একটি কারণ। কিন্তু এটা দুশ্চিন্তার কিছু নয় ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি এবং সাধারণ কিছু নিয়ম মেনে চললেই এই সমস্যা থেকে পরিত্রান পাওয়া সম্ভব।

ভিটামিন ই ব্যবহার করুন 

চুলের যত্নে ব্যবহার করুন ভিটামিন ই। চুল পড়ার সমস্যা সমাধানে ভিটামিন ই চুলের গোড়ায় ব্যবহার করুন। ভিটামিন ই মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয়। ফলে চুলের ফলিকল উৎপাদনশীল থাকে। এছাড়াও ভিটামিন ই চুলের স্বাস্থ্যকর রং বজায় রাখে।

খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করুন

খাদ্যাভ্যাস চুল পড়া একটি অন্যতম কারণ। অনেক সময় খাদ্যাভাসে পরিবর্তন হলে বা শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি হলে চুল পড়ে। সুতরাং প্রোটিনের ঘাটতি মেটাতে প্রোটিনযুক্ত খাবার খান। তাই খাদ্যতালিকায় চর্বিযুক্ত, মাংস, মাছ, সয়াসহ প্রোটিন রাখুন। এগুলো চুলের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে ও চুল পড়া বন্ধ করে।

চুল পরিষ্কার রাখুন

শরীরকে যেমন পরিষ্কার রাখতে হবে তেমনি চুলকে পরিষ্কার রাখতে হবে। কেননা অপরিষ্কার চুল, চুল পড়ার একটি প্রধান কারণ। নিয়মিত চুল পরিষ্কার রাখা জরুরি। এতে চুলের গোড়ায় জমে থাকা ময়লা সহজেই দূর হয়। ফলে চুল পড়া বন্ধ হয়। মনে রাখবেন, চুল অপরিষ্কার থাকলে খুশকি ও মাথার ত্বকে সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়ে যায়।

ভেজা চুল আঁচড়াবেন না

আমরা হয়তো অনেকেই জানি না গোসলের পর পরই চুল আঁচড়ানো যাবে না। তাই এই ভুলটা আমরা সকলেই করে থাকি কখনও ভেজা চুল আঁচড়াবেন না। অনেক পুরুষই হয়তো এ বিষয়টি মানেন না। ভেজা অবস্থায় চুলের গোড়া নরম থাকে। ফলে চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ানোর সময় চুল পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। প্রতিদিন অল্প অল্প করে এভাবে চললে একটা সময় মাথার চুল অনেকটাই কমে আসে। সুতরাং আমাদের উক্ত বিষয়টি ভালোভাবে খেয়াল রাখা উচিত।

ঘরোয়া উপায়ে চুলের যত্ন নিন

বাড়িতে বসেই আপনি আপনার চুলের বাড়তি যত্ন নিতে পারেন। চুলের যত্ন নিতে পারেন প্রাকৃতিক কিছু উপায়ে। ঘরোয়া উপায়ে চুল পড়া বন্ধ করতে ব্যবহার করতে পারেন রসুন, পেঁয়াজ বা আদার রস। এই উপাদানগুলোর রস রাতে মাথার ত্বকে ব্যবহার করুন। সারারাত রেখে সকালে চুল পরিষ্কার করে ফেলুন। এক সপ্তাহ নিয়মিত এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে ফলাফল পাবেন হাতেনাতে। তাছাড়া মেহেদি পাতার রস মাথায় লাগিয়ে আধা ঘন্টা রেখে শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। আশাকরি সুফল পাবেন।

পরিমিত পরিমান পানি খান

আমরা আগেই জেনেছি অতিরিক্ত ঘাম ও গরমের জন্য আমাদের চুল পড়তে পারে। সুতরাং আমরা বলতে পারি শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলে এই সমস্যাটি হতে পারে। শরীরে পানিশূন্যতার সৃষ্টি হলেও চুল পড়ার পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই চুল পড়ার সমস্যা বেড়ে গেলে বুঝবেন আপনার শরীরে হয়তো পানিশূন্যতা হয়েছে। তাই দৈনিক অন্তত ২-৩ লিটার পানি অবশ্যই পান করুন।

চুলের যত্নে গ্রিন টি ব্যবহার করুন

চুলের যত্নে আমরা অনেক সময় চা পাতা ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু অনেকেই জানি না আসলে কোন যা পাতাটি আমাদের চুলের জন্য কার্যকরী। গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রিন টি ব্যবহারে চুল পড়ার সমস্যা কমে। এজন্য এক কাপ পানিতে দু’টি গ্রিন টি ব্যাগ মিশিয়ে নিন। তারপর তা ঠান্ডা করে চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত ব্যবহার করুন। ঘণ্টাখানেক পর ধুয়ে ফেলুন। ৭-১০ দিন একটানা ব্যবহারে চুল পড়ার সমস্যা সমাধান হবে।

মাথা তৈলাক্ত হতে দিবেন না

অনেক ব্যক্তি আছে যারা নিয়মিত বাইক রাইড করে সে সকল ব্যক্তিদের মাথার ত্বক অনেক তৈলাক্ত হয় যেটি চুল পড়ার একটি প্রধান কারণ। সব সময় খেয়াল রাখুন মাথার ত্বক যেন বেশি তৈলাক্ত না থাকে। অনেকেরই মাথার ত্বক বেশি ঘামে। ঘামের কারণে মাথার ত্বকে বেশি ময়লা জমে। ফলে পুরুষের চুল পড়ার পরিমাণ বাড়ে। এজন্য অ্যালোভেরা ও নিম যুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। তাহলে মাথা ঠান্ডা থাকবে ও চুল কম ঘামবে। বাজারে এসকল অনেক শ্যাম্পু পাবেন যেগুলো যেকোনো কসমেটিকসের দোকানে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায়।

ধূমপান ত্যাগ করুন

ধূমপান ছেড়ে বলে আমাদের হূদরোগ ফুসফুসের ক্ষতি করে তেমনটা নয়। ধূমপানের ফলে আমাদের চুল পড়তে পারে। ধূমপান ও মদ্যপানের কারণেও চুল পড়তে পারে। ধূমপান করলে মাথার ত্বকে প্রবাহিত রক্তের পরিমাণ কমে যায়। ফলে চুলের বৃদ্ধি বাঁধাগ্রস্ত হয়। তাই ধূমপান এড়িয়ে চলুন। সুতরাং ধূমপান এবং মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে সেটা এখনো ছেড়ে দিন।

নিয়মিত শরীরচর্চা করুন

নিয়মিত শরীরচর্চার ফলে আমাদের দেহে রক্ত চলাচল অব্যাহত থাকে এবং আমাদের দেহের কোন রোগ প্রতিরোধ বাসা বাঁধতে পারে না। দৈনিক শরীরচর্চা করুন। দিনে অন্তত ৪০ মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন। পাশাপাশি সাঁতার কাটা বা সাইকেলও চালাতে পারেন। এতে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকবে ও স্ট্রেসের মাত্রা কমবে। ফলে চুল পড়ার সমস্যাও কমবে। শরীরচর্চার পাশাপাশি কাঁচা শাকসবজি খেতে পারেন।

উক্ত পদ্ধতি গুলো ১৫ দিন মেনে চলতে পারেন। এবং পরিবর্তনটা নিজেই বুঝতে পারবেন। এরপরেও যদি আশানুরূপ ফলাফল না পান তবে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.