শীতের শেষ হতে না হতেই গরমের উত্তাপ অল্প পরিমাণে বাড়তে আছে। আর গরম বাড়ার সাথে সাথেই শুরু হচ্ছে ঘামের সমস্যা। ঘামের ব্যাপারটা আসলে সমস্যা বলা যাবে না। কারণ গরমের মধ্যে ছোট থেকে বড়, শিশু থেকে বয়স্ক সবাই প্রচুর পরিমাণে ঘামতে থাকে। Read in English

গরমের সাথে ঘামের সম্পর্ক যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। যে ব্যক্তি ঘামেন সেই ব্যক্তি কিন্তু ঘামের দুর্গন্ধ সম্পর্কে তেমন টের পান না। কিন্তু তার আশেপাশের মানুষজন এটার দ্বারা যথেষ্ট অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন। গরমকালে যার শরীর প্রচন্ড ঘামে তাকে হয়তো ঘামের দুর্গন্ধ টা তেমন পোহাতে হয় না কিন্তু সবথেকে বেশি বিপাকে যারা পড়েন তারা হচ্ছেন তার আশেপাশের মানুষজন। এমন একটা অবস্থা সৃষ্টি হয় যে তাকে তেমন করে কিছু বলা যায় না। আবার খুব একটা গন্ধটা সহ্য করাও যায় না। আপনার শরীরে যদি অতিরিক্ত ঘামের গন্ধ বের হয় তাহলে অবশ্যই সে সমস্যার সমাধান করুন। আমাদের আজকের এই আলোচনায় আমরা তেমনি কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি আপনাদের জানাবো। সেগুলো সঠিক নিয়ম মেনে চললে আপনি ঘামের গন্ধ থেকে পুরোপুরি মুক্তি পেতে পারেন।

খাবার

আমরা হয়তো অনেকেই জানি না শরীরের দুর্গন্ধ অনেক খাবারের  কারণেও হয়ে থাকে। এমন কিছু খাবার আছে যেগুলো খেলে আমাদের শরীরে ঘামের দুর্গন্ধ বের হয় তাই গরমকালে এমন কিছু খাবার আছে যেগুলো আপনার শরীরের দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে। সুতরাং আপনাকে আপনার শরীরের দুর্গন্ধ দূর করার আগে প্রথমে যেটা করতে হবে আপনার খাদ্য তালিকার দিকে আপনাকে একটু নজর দিতে হবে। গরমকালে আপনি পেঁয়াজ রসুন এসব জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন কেননা পেঁয়াজ-রসুন জাতীয় খাবার এর ফলে আপনার শরীরে দুর্গন্ধের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এসকল খাবারের পরিবর্তে আপনি বেশি করে সালাদ ও জলীয় খাবার গ্রহণ করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে আপনার শরীরে দুর্গন্ধ কমবে এবং আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে।

অনেকে আছেন দেখা যায় গরমের মধ্যেও ব্যস্ততা বা অন্য কোনো কারণবশত ঠিকমত গোসল করতে পারেন না। আপনার শরীরে ঘামের দুর্গন্ধ বের হওয়ার পেছনে এটি একটি প্রধান কারণ। আপনাকে দিনে অবশ্যই অন্ততপক্ষে দুইবার গোসল করতে হবে এবং প্রতিবার গোসলের সময় আপনাকে সাবান বা অন্যান্য সমজাতীয় বডি ওয়াশ ব্যবহার করতে হবে তাহলে দেখা যাবে আপনি উক্ত সমস্যা থেকে অনেকটাই মুক্তি পেয়েছেন।

গ্রিন টি তৈরিতে রোজমেরি সেলেরি পার্সলি পাতার হার্বস ব্যবহৃত হয়। তো এখন থেকে প্রতিদিনের জিনিসের সাথে এগুলো রাখুন। আপনার শরীরে ল্যাভেন্ডার অয়েল এর নির্যাস ব্যবহার করুন। ল্যাভেন্ডার এর চা পান করুন। ল্যাভেন্ডার মিষ্টি গন্ধের জন্য খুব বেশি বিখ্যাত। আপনার দৈনন্দিন এবং নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের সাথে ল্যাভেন্ডার অয়েল ব্যবহার আপনার শরীরে মিষ্টি গন্ধের একটি চাদর সৃষ্টি করবে।

কর্পূর

আপনার শরীরের ঘামের দুর্গন্ধ দূর করতে আপনার নিয়মিত খাবার তালিকায় রাখুন দুধ। তবে শুধু দুধ খেলে হবেনা তার সাথে সামান্য পরিমাণ কর্পূর মিশিয়ে পান করুন। কর্পূর এবং দুধ একসাথে মিশিয়ে খেলে আপনার শরীরের দুর্গন্ধ কমানোর জন্য একটি উপাদান শরীর মধ্যে তৈরি হতে থাকে যার ফলে আপনার ঘামের দুর্গন্ধ অনেক পরিমাণে কমে আসে। সুতরাং কর্পূর ও দুধ একসাথে খেতে থাকুন আশাকরি আশানুরূপ ফল পাবেন

ভিনেগার

প্রতিদিন গোসলের সময় গোসলের পানিতে ব্যবহার করুন ভিনেগার। ভিনেগার শরীরের দুর্গন্ধ দূর করতে অত্যন্ত উপকারী। এখন আপনার মনে হতে পারে তাহলে তো শরীর থেকে ভিনেগারের গন্ধ বের হবে? চিন্তার কোন বিষয় নেই কেননা ভিনেগার উদ্বায়ী পদার্থ। আপনার শরীর পরিষ্কার করার পরে সেটি আপনাআপনি বিলীন হয়ে যাবে। ভিনেগার  শুধু খাবার সংরক্ষণে ব্যবহার হয় না আপনার শরীরের গন্ধ গন্ধ দূর করতেও যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারে।

ঘামের দুর্গন্ধের জন্য যে সকল মানুষজন নিজেকে কোন স্থানে নিয়ে যেত  বিব্রত বোধ করেন আজকের পোস্ট মূলত তাদের জন্যই। আশা করি এই পোষ্টের মাধ্যমে আপনাদের সমস্যা একটু হলেও কম হবে উপরের নিয়ম গুলো সঠিক উপায়ে মানতে পারলে আপনার ঘামের দুর্গন্ধ থেকে আপনি পর্যাপ্ত মুক্তি  পাবেন। এবং যেকোন স্থানে আপনার ব্যক্তিত্ব বোধের কোনো ঘাটতি হবে না। কেননা শরীর থেকে কোন বাজে গন্ধ বের হলে যেকোনো স্থানে অনেকটাই অপমানিত  হতে পারেন আপনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.