প্রত্যেকটি জীবেরই বৃদ্ধি ঘটে থাকে। একটি শিশু ধীরে ধীরে একজন বৃদ্ধ মানুষে পরিণত হয়। শরীরের বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের মস্তিষ্কের বয়স ও বৃদ্ধি পেতে থাকে। প্রাকৃতিক নিয়মেই বয়স বাড়ার সাথে সাথে মস্তিষ্কের ক্ষয় হতে থাকে। এবং এটি অবশ্যই ঘটবে। তবে এমন কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো নিয়ম অনুযায়ী খেলে এই ক্ষয় প্রক্রিয়া ধীর করা সম্ভব। আমাদের আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা আপনাদের সেই সকল খাবার এবং প্রক্রিয়া সম্পর্কিত তথ্য জানাবো। Read in English

এমন কিছু খাবার এবং এমন কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে যা আমাদের মস্তিষ্কের বয়স ভিত্তিক পরিবর্তন রুখতে পারে। পাশাপাশি আমাদের মস্তিষ্কের ক্ষয় এর কারনে হওয়া বিভিন্ন রোগ থেকে বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করে।

নিয়মিত শরীর চর্চা, নতুন কিছু চেষ্টা করা, নতুন নতুন কৌশল অনুসরণ করা, নিয়মিত ঘুমানো ইত্যাদি আমাদের মস্তিষ্ককে ক্ষয় হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে। এগুলো বৃদ্ধ বয়সে মস্তিষ্ককে প্রখর রাখতে পারে।

রিয়েল সিম্পল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয় আমাদের মস্তিস্ক বিরতিহীন ভাবে কাজ করে থাকে। জ্ঞানী ও কার্যক্রম ব্যতীত শ্বাস-প্রশ্বাস, নড়াচড়া, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ সহ সকল কাজেই মস্তিষ্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অর্থাৎ মস্তিষ্ক অনবরত কাজ করতে থাকে। যার ফলে খাদ্য হয় স্বাস্থ্যকর হতে হবে এবং এই কার্যক্রমগুলো নিয়ন্ত্রণ করলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা দীর্ঘদিন পর্যন্ত প্রখর রাখা সম্ভব।

মস্তিষ্কের খাবার কোনগুলো?

আমাদের মনে সবার প্রথমে প্রশ্ন আসতে পারে তাহলে মস্তিষ্কের খাবার কোনগুলো? যে খাবারগুলো খেলে মস্তিষ্কের ক্ষয় রোধ করা সম্ভব হয় বা মস্তিষ্ককে প্রখর রাখতে সাহায্য করে সেগুলো মস্তিষ্কের খাবার। আমরা নিয়মিত ভাবে ফল, সবজি, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এ, সি এবং কে সম্পন্ন খাবার খেতে পারি। খাদ্যাভাসে অবশ্যই এই খাবারগুলো রাখতে হবে। আরেকটি কথা অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে আমরা যে খাবার খায় না কেন সেটা অবশ্যই তাজা এবং টাটকা হতে হবে। কোন প্রকার বাসি খাবার খাওয়া যাবেনা।

মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে হলে আমাদের অবশ্যই কিছু ধরনের খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে। যেমন প্রক্রিয়াজাত খাবার, জাঙ্ক ফুড, বাড়তি লবণ ও চিনি যুক্ত খাবার। এই খাবারগুলো বাদ দিলে মস্তিস্ক ভালো থাকবে।

মস্তিষ্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু খাবার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নিচে সেগুলো উল্লেখ করা হলো।

সবুজ শাকসবজি

sobuj-shaksobji
সবুজ শাকসবজি

পাতাযুক্ত সবুজ শাকসবজি মস্তিষ্কের জন্য বিশেষভাবে উপকারী। যেমন কপি, পালংশাক ও ব্রোকলি অন্যতম। এই সবজি গুলো যেমন পুষ্টিগুণে ভরপুর তেমনি মস্তিষ্ককে কর্মক্ষম রাখার জন্য সাহায্য করে। এই সকল খাবার গুলোতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ রয়েছে যা নিউরনের নতুন কিছু শিখতে বা স্মৃতিশক্তি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ভিটামিন সি এবং ভিটামিন কে আমাদের শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কার্যকারিতা বাড়ায়।

অক্সিডেটিভ স্ট্রেস আর প্রদাহ মস্তিষ্কের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এগুলো হতাশা, মানসিক অস্বস্তি সহ বিভিন্ন রোগের কারণ হতে পারে। সবুজ শাকসবজি আমাদের এই সকল প্রদাহ এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে।

জাম জাতীয় ফল

জাম জাতীয় ফলে প্রচুর পরিমাণে ফ্লাভানয়েভ থাকে। যা স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে তিনবার আধাকাপ যেকোনো ধরনের জাম জাতীয় ফল খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। ব্লুবেরি আর স্ট্রবেরি এক্ষেত্রে বিশেষ উপকারী। এই ফলগুলো যেমন কাঁচা খাওয়া যায় আবার অন্যান্য সকল খাবারের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন।

বাদাম

নিয়মিত বাদাম খেলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়। নিরবিচ্ছিন্ন রক্তপ্রবাহ ধরে রাখার জন্য বাদামে থাকা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সপ্তাহে কমপক্ষে ১ আউন্স পরিমাণ বাদাম খাওয়া উচিত, তবে অবশ্যই লবন ছাড়া। যা প্রায় একমুঠ বাদাম কিংবা ২ টেবিল-চামচ বাদামের মাখন এর সমতুল্য। সব ধরনের বাদাম থেকে উপকার পাওয়া যাবে। বাদামের ভিটামিন ই, দস্তা, সেলেনিয়াম প্রতিটি উপাদান অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর।

ডার্ক চকোলেট

dark-chocolate
ডার্ক চকোলেট

জাম জাতীয় ফলের মতো ডার্ক চকলেটেও ফ্লাভানয়েভ থাকে। ডাক চকলেট হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। অবশ্যই ৭০% কোকো আছে এমন ডাক চকলেট বেছে নিতে হবে। বাড়তি কোনো চিনি যোগ করা আছে কিনা সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। আগেই বলা হয়েছে বাড়তি চিনিযুক্ত খাবার কখনোই খাওয়া যাবেনা।

চর্বিযুক্ত মাছ

ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিডের জন্য আদর্শ উৎস হল চর্বিযুক্ত মাছ। মাছ মস্তিষ্কের জ্ঞানীয় ক্ষমতা ধরে রাখতে বিশেষ উপকারী। সপ্তাহে কমপক্ষে দুইবার চর্বিযুক্ত মাছ খেতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে মার্কারি কম আছে এমন মাছ বেছে নেওয়ার। স্যামন, তেলাপিয়া সার্ডিনস ইত্যাদি মাছ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

চা

ব্যক্তি ও গ্রিন টি মস্তিষ্কের জন্য বিশেষভাবে উপকারী। সব চা য়ে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা মস্তিষ্কের জন্য ভালো। চাই থাকে এল থিয়ামিন নামক এক অ্যামাইনো এসিড যা মনোযোগ ক্ষিপ্রতা বাড়ায়। প্রতিদিন 2 অথবা তিন কাপ চা পান করা যথেষ্ট। এর বেশি চা পান করলে অফ সেটি ক্ষতির কারণও হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.