হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রা:) সম্পর্কে অজানা কিছু কথা

হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রা:) : বহুপির সাধকের পূণ্যভূমি রাজশাহী মহানগরী। যখন এই জনপদের মানুষ কুসংস্কার আর অপপ্রচারের নিবিড় অন্ধকারে অতলে ডুবে ছিল এবং তারা নানা কুকর্মে লিপ্ত ছিল দেবদেবীর নামে নরবলি দেওয়া হতো মানুষ মানুষের ভেদাভেদ ছিল তখন থেকেই এ সকল পীর সাধকের আগমন ঘটতে থাকে সুর মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য অঞ্চল থেকে। তারা অবোধ মানুষের মাঝে জ্ঞানের শিক্ষা ছড়ানোর মহৎ উদ্দেশ্য এবং বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের প্রতিজ্ঞায় জীবনের সবটুকু সময় ক্ষয় করে দেন। এমনকি প্রাণ বিসর্জন দিতে হয় কাউকে কাউকে। এসকল মহৎপ্রাণ এর অন্যতম পদ্মাপাড়ে চিরশায়িত হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহ🙂Read in English

হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহ🙂 এর রাজশাহী আগমনের অন্তরালে রয়েছে বিরাট ইতিহাস। ১২৫৯ খ্রিস্টাব্দে মোঘল বিয়ের হালাকু খান বাগদাদ আক্রমণ করলে বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী বংশধর বাংলা থেকে কাবুল কান্দাহার পারস্য ও ভারতের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় গ্রহণ করে। হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহ🙂 এর পিতা আযযালযালাহ দিল্লিতে আশ্রয় গ্রহণ করেন তার উন্নত চরিত্র ও গুণাবলী প্রতি মুগ্ধ হয়ে দিল্লির সম্রাট তার কাছে বায়াত হন পিতার সহচার্যে তিন পুত্র আধ্যাত্মিক সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন। হালাকু খানের মৃত্যুর পর সাহায্য লাগবে ফিরে গেলেও তার পুত্রগণ ইসলামের বাণী প্রচারের জন্য বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েন। তখন রাজশাহী নগরীর নাম ছিল মহাকালগড়। এখানে মহাকাল দেও এর বিখ্যাত মন্দিরে নরবলি দেওয়া হতো। তার স্মৃতি এখনো শাহ মখদুম রুপোশ এর পবিত্র দরগা শরীফের রক্ষিত আছে। মহাকাল গড়ে সে সময় বহু রকমের প্রতিমূর্তি ও মন্দিরে পূর্ণ ছিল।

হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রা:)
হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রা:) এর দরগা

হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রা:)

হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহ🙂 রাজশাহী আগমনের ১০ বছর পূর্বে হযরত মুসা ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে মহাকাল ঘরে আসেন। সে সময়ে রাজ্য শাসন করতেন অংশুদেও চাত্তভন্ডী বর্মভোজ ও অংশুদেও খেজ্জুর চান্দ খড়গ বর্মগুজ্জুভোজ। মুসলিম বিরোধী এই রাজ আগুনের দ্বারা তুরকান শাহ ও তাঁর অনুসারীগণ শহীদ হন তার মাজার দরগাপাড়ায় রয়েছে। তুরকান শাহ এর পূর্বেও অনেক মুসলিম ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে মহাসাগরে আগমন করেন এবং শহীদ হন। এসকল হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ বই ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহ🙂 ১২৮৯ খ্রিস্টাব্দে এদেশে আগমন করে বাঘা নামের স্থানটিতে উপস্থিত হন।

হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রা:)

শাহ মখদুম রুপোশ (রহ🙂 কর্তিক মহাকালগড় দখল সম্পর্কে বিশেষ লোমহর্ষক ও রহস্যময় ঘটনা শোনা যায়। লোকমুখে কথিত আছে মহাকালগড় এক নাপিতের তিন পুত্র সন্তান ছিল। এর মধ্যে দুটি বুদ্ধি সন্ধান নরবলি হ‌ওয়ার ফর্সেস পুত্রটিকে নরবলি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই একথা জানার পর নাপিত দম্পতি দুঃখে ব্যাকুল হয়ে পড়েন এবং গোপনে মখদুম নগরে শাহ মখদুম রুপোশ (রহ🙂 এর কাছে উপস্থিত হন। তিনি নাভির দম্পতির সকল কথা শুনেন এবং তাদেরকে বলেন যাও তোমার সন্তানসহ নদীর ধারে অপেক্ষা করো আমার সাক্ষাৎ পাবে।

নাভিত দম্পত্তি এই নির্দেশ পাওয়ার পর বেশ কয়দিন নাপিত দম্পতি নদীর তীরে অপেক্ষা করে যখন হযরত শাহ মখদুম রুপোশ এর সাক্ষাৎ না পেয়ে বলি হবার পূর্ব রাতে ডুবে মরার ইচ্ছায় পদ্মা নদীতে নামতেই হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহ🙂 পদ্মায় কুমিরে চড়ে আবির্ভূত হন। তিনি নাপিত দম্পত্তিকে পুত্র বলি না হওয়ার এবং দেওরাজ ধ্বংস হবার কথা জানিয়ে কুমিরে চড়েই অন্ত‌র্ধান হন। হযরত শাহ মখদুম রুপোশ এর জীবনী তারিখে উল্লেখ আছে মহাকাল ঘরের মন্দির প্রাঙ্গণে প্রাচীর বেষ্টিত জাদুকুন্ড কুপ ছিল। দেওড়া যা দেয় তা দ্বারা যাদুবিদ্যা পরিচালনা করে অসম্ভব অলৌকিক আর্য সফল করে নিজেকে ঈশ্বর হিসেবে দাবি করত। হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহ🙂 নাপিতের কাছে এ কথা শুনে যাবার কালে ওই স্থানে গিয়ে সকল যাদুটোনা নষ্ট করে দিয়ে যান। পরে ওই জাদুই স্থান উৎপাদন করা হয় এবং তার তলদেশ দিয়ে বিভিন্ন দিয়েও পুতুল নানাপ্রকার জিনিস অস্থায়ী এবং একটি বৃক্ষ বের করা হয় বর্তমানে ওই স্থান পুকুর রুপে রয়েছে।

হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রা:)
হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রা:) এর সাপ্তাহিক দেওয়ানবাগ

সেই রাতের পর সকালে নাপিত পুত্রকে বলি দেওয়ার জন্য দেওবন্দীরা না হলে খাড়ার ঘা তে নাপিতের পুত্র বলি হওয়া তো দুরের কথা বিন্দুমাত্র কষ্ট অনুভব করেনি বরং মহাকাল প্রতিমা পড়ে যাওয়ার মত লেতে শুরু করেন। দেবরাজ এর নিকটে সংবাদ পৌঁছালে তিনি ছুটে এসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এই নরের দোষ আছে বলে নাবিক পুত্রকে ছেড়ে দেয়। কিছুদিন পরে হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহ🙂 দেবরাজের বিরুদ্ধে মহাকালগড় জয়ের উদ্দেশ্যে মাওলানা ফকির দরবেশ গাজীর দল পাঠিয়েছিলেন। পরপর তিনবার যুদ্ধ করার পর হযরত শাহ মখদুম রুপোশ মহাকালগড়ে নরবলি প্রথা পরিবর্তে ইসলামের ঝান্ডা উড়িয়েছিলেন। প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল বর্তমান ঘোড়ামারায় দেও ধর্মাবলম্বীসহ অনেক পীর ফকিরগন মারা পড়েছিল এবং এদের ঘোড়া শহীদ হয়েছিল বলে এখানকার নামকরণ করা হয়েছিল ঘোড়ামারা। দ্বিতীয় যুদ্ধে হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহ🙂 মাওলাং ফকির দরবেশ ও গাজী প্রেরণ করেছিলেন এবং তিনি স্বয়ং বহু মাওলাং ফকির সঙ্গে করে মহাকালগড়ে উপস্থিত হয়েছিলেন। এ যুদ্ধে দৈব ধর্মালম্বী ধরাশায়ী হয়েছিল।

পরবর্তীতে বনবাসী দৈত্য দৈত্য ধর্মালম্বীরা পুনরায় সমবেত হয়ে তীর্থস্থান উদ্ধারের জন্য মহাকাল করে উপস্থিত হয়েছিল এই সংবাদে হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহ🙂 পুনরায় মহাকালগড়ে আগমন করেন এবং প্রতিপক্ষ দল কে পাক পায়ের মাত্র ১ টি খড়ম ছুড়ে ধরাসা‌ই করেছিলেন। অবশেষে পরিজনসহ দেওরাজ তার পায়ে পড়ে আত্মসমর্পণ করেছিলেন এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন।

হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহ🙂 বাংলায় দেওরাজ জাতিকে ইসলাম এর মহান আদর্শ দীক্ষিত করে ১৩৩১ খ্রিস্টাব্দে পরলোকগমন করেন। তাঁর মৃত্যুর পরও দরগা শরীফ কেন্দ্র করে ইসলাম প্রচারের কাজ চলতে থাকে।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *