কোন ফল খেলে ওজন কমে: বাড়তি ওজন একটা ব্যক্তির জন্য কতটা সমস্যা করে সেটা যার ওজন বেশি শুধুমাত্র সেই ব্যক্তি উপলব্ধি করতে পারে। ওজন কমানোর জন্য আমরা অনেকেই নানান পন্থা অবলম্বন করে থাকে কিন্তু আপনি জানেন কি এই গ্রীষ্মকালে এমন একটি ফল আছে যেটা খেলে আপনার ওজন কমতে সচেষ্ট ভূমিকা রাখবে। ঘরের বাইরে বেরোলেই মাথার উপর চড়া রোদ। বাড়ছে অস্বস্তিও। কাজের প্রয়োজনে বাইরে বেরোনো ছাড়া গতি নেই। Read in English

গরম থেকে স্বস্তি পেতে তাই অনেকেই চুমুক দিচ্ছেন বিভিন্ন ঠান্ডা পানীয়তে। বাজারে বেরোল যেন ঠাণ্ডা পানির বিশাল সব দোকানে বসে আছে ঠেলাগাড়িতে অসংখ্য মানুষজন। আর আমরা হুমরি খেয়ে গিয়ে সে পানিয় পান করছি। স্বাদ নিচ্ছি আইসক্রিমের। নরম পানীয় এবং আইসক্রিমে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরি থাকে। সাময়িক ভাবে স্বস্তি দিলেও এগুলি শরীরের জন্য স্বাস্থ্যকর নয়। ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে। এগুলো খেলে আমাদের শরীরের ঠান্ডা দূর হওয়াতো দূরের কথা বরং ওজন বাড়িয়ে দিতে পারে কয়েক গুণ। কোন ফল খেলে ওজন কমে। 

কোন ফল খেলে ওজন কমে

গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে এই ধরণের ঠান্ডা পানীয়ের পরিবর্তে বেছে নিতে পারেন গ্রীষ্মকালীন ফল। গ্রীষ্মকাল আমাদের দেশে অনেক রকমের দেশীয় ফল পাওয়া যায়। যেগুলো সফল বাজারে পর্যাপ্ততার সাথে বেচা বিক্রি করা হয় আম, আঙুর, শশা, আনারস, তরমুজ— গরমে নানা রকম পানি জাতীয় ফলে বাজায় ছেয়ে যায়। আমরা শসা আম ইত্যাদি খেলেও  গ্রীষ্মে তরমুজের কদর খানিক বেশি। আপনি জানেন কি আপনার শরীরের বাড়তি ওজন কমানোর জন্য যথেষ্ট ভূমিকা পালন করতে পারে। তরমুজ শরীর ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সমান ভাবে সাহায্য করে তরমুজ।কোন ফল খেলে ওজন কমে

তরমুজের পুষ্টিগুণ

আমরা যে সকাল  তরমুজ খেয়ে থাকি মূলত সেটাই আমাদের ওজন কমানোর ক্ষেত্রে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে। সারাবছর যেসকল তরমুজ আমরা দেখতে পাই সেগুলো হিমাগারে সংরক্ষণ করে রাখা হয় সেগুলোর মধ্যে খাদ্য উপাদান গুলো সঠিক মাত্রায় থাকে না। এবং যেগুলো খেলে আমাদের ওজন কমাতেও সাহায্য করে না। তাই শুধুমাত্র আমরা চেষ্টা করব গৃষ্ম কালে খাবার তালিকায় তরমুজ  রাখার। এটি একদিকে যেমন আমাদের শরীরের পানির ঘাটতি পূরন  করবে অন্যদিকে আমাদের বাড়তি ওজন কমাতে সাহায্য করবে। চলুন দেখে নেই তরমুজের খাদ্যগুণাগুণ সম্পর্কে। কোন ফল খেলে ওজন কমে। 

প্রতি ১০০ গ্রাম তরমুজে রয়েছে ০.৬ গ্রাম প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট আছে ৭.৬ গ্রাম, ফাইবারের পরিমাণ ০.৪ গ্রাম, তরমুজে জলের পরিমাণ প্রায় ৯১ শতাংশ। এ ছাড়াও এতে রয়েছে ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, কপার, ভিটামিন বি৫, সাইট্রুলিন ও লাইকোপেনের মতো উপকারী সব উপাদান। যে সকল উপাদান গুলো আপনার বাড়তি ওজন কমানোর জন্য যথেষ্ট উপকারী।

তরমুজ

তরমুজ কিভাবে আপনার বাড়তি ওজন কমায়

ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে হলে আমাদের এমন কিছু খাবার খেতে হবে যেগুলোতে প্রোটিনের পরিমাণ থাকে খুবই কম এবং ফাইবারে পরিমাণ থাকে খুবই বেশি। এই সকল খাবার খেলে আমাদের ক্ষুধা নিবারণ হবে ঠিকই কিন্তু শরীরের বাড়তি মেদ বা চর্বি কমবে না। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রক্রিয়ায় এমন খাবার রাখা প্রয়োজন যেগুলিতে ক্যালোরির পরিমাণ কম থাকবে। কিন্তু ফাইবার বেশি থাকবে। তরমুজ তেমনই একটি ফল যার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে কিন্তু প্রোটিনের পরিমান খুবই নগন্য। প্রতি ১০০ গ্রাম তরমুজে ক্যালোরির পরিমাণ মাত্র তিন গ্রাম। কোন ফল খেলে ওজন কমে। 

এ থেকে আমরা বলতেই পারি তরমুজ খেলে একটি মানুষের শরীরে বাড়তি কোনো ওজনের পরিবর্তন ঘটবে না। তরমুজ খাওয়ার সবচেয়ে বেশি সুফল হল এতে পানির পরিমাণ অনেক বেশি। ওজন কমাতে জলের ভূমিকা বলাই বাহুল্য। গরমে স্বাস্থ্য কমাতে চাইলে রোজের খাদ্যতালিকায় অনায়াসে রাখতে পারেন তরমুজ। এ ছাড়াও তরমুজে থাকা সাইট্রুলিন শরীরের বা়ড়তি মেদ ঝরাতে সাহায্য করে। ওজন কমানোর পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ তরমুজ কোলেস্টেরল ও রত্তচাপের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখে।

আমাদের আজকের আলোচনার মাধ্যমে আপনি হয়তো জানতে পেরেছেন তরমুজ কিভাবে আমাদের শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে সাহায্য করে এবং আমাদের সুস্বাস্থ ধরে রাখতে তরমুজ এর কোন বিকল্প নেই। তাই আমরা এই কৃষ্ণ কালো বেশি বেশি করে তরমুজ খাওয়ার চেষ্টা করব।

Leave a Reply

Your email address will not be published.