স্বাভাবিকভাবে আমরা কেউই পায়ের যত্ন নেয়া টাকে গুরুত্ব সহকারে দেখি না। কিন্তু একজন ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে এ বিষয়টি মোটেও সহজ নয়। কেননা একজন স্বাভাবিক মানুষের থেকে একজন ডায়াবেটিস রোগীর পায়ের যত্ন নেয়ার পরিমাণটা অনেক বেশি। আজকের এই আলোচনায় কিভাবে পায়ের যত্ন নিবেন এবং কোন সময় ডাক্তারের কাছে যেতে হবে সেই বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। Read in Bangla

একজন ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে তার পায়ে রক্ত চলাচল কমে যেতে পারে এবং তিনি শক্তি হারিয়ে ফেলতে পারেন । একে বলা হয় পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি (Peripheral neuropathy)। এর অর্থ হল, আপনি পায়ে কোনোভাবে আঘাত পেলে তা হয়তো সহজে সারবে না, এমনকি পরবর্তীতে একই স্থানে আঘাত পেলে আপনার তো সেটা আঁচ করতে পারবেন না বা বুঝতে পারবেন না।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

ডায়াবেটিস বলতে আমরা সাধারণত যে জিনিসটাকে বুঝি সেটা হচ্ছে রক্তে সুগারের পরিমাণ কমবেশি হওয়া। অর্থাৎ আমরা যেটাকে ব্লাড সুগার বলি সেটাই হচ্ছে ডায়াবেটিস। আমরা যদি সঠিক নিয়ম অনুসরণ করে বা যেকোন ভাবে রক্তের সুগারের পরিমাণ ঠিক রাখতে পারি তবে এসব জটিলতা ঝুঁকি একদমই কমে আসবে। এখন এর পাশাপাশি যে দিকে খেয়াল রাখতে হবে সেটা হচ্ছে আপনার ব্লাড প্রেসার এবং রক্তের অন্যান্য গুনাগুনগুলো।  এগুলো যদি ঠিকঠাক থাকে তাহলে ব্লাড সুগারের পরিমাণ সঠিক থাকবে এর পরও যদি কাজ না হয় তাহলে অবশ্যই ওষুধের সাহায্যে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

ডায়াবেটিস রোগীর সুস্থ পা রাখার ৭ টি সহজ এবং ভালো উপায় নিম্নে দেওয়া হল

১। আপনি যদি একজন ডায়াবেটিসের রোগী হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই বছরে অন্ততপক্ষে একবার একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার কাছে আপনার পায়ের চিকিৎসা করান।

২। আপনার পা সব পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করুন যেন সেটা তে কোনো ভাবেই ইনফেকশন সৃষ্টি হতে না পারে।

৩। অবশ্যই সব সময় আপনার পায়ের সাথে মানানসই জুতা পরুন। কখনোই ছোট পরতে যাবেন না কেননা ছোট জুতা পরতে গেলে আপনার পায়ে ঘষা লেগে ফোস্কা উঠতে পারে এবং কড়া বা ঘা এর মত দেখা যেতে পারে যেখান থেকে বড় ঘা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

৪। যথাযথ চেষ্টা করবেন কখনোই খালি পায় না হাটার কেননা খালিপায়ে হাটতে গেলে আপনার পায়ে কোন কিছু লেগে ক্ষত সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই যখনই বাইরে বের হবেন তখনই চেষ্টা করবেন খালি পায়ে বের না হওয়ার জন্য। যদি আপনি ডায়াবেটিসের রোগী হন এবং কোন কারণে সমুদ্র সৈকত বা বালুময় কোন স্থানে যান। তাহলে অবশ্যই খালি পায়ে হাঁটার চেষ্টা করবেন না। কেননা সমুদ্র সৈকতে অনেক ছোট ছোট শামুক থাকে যেগুলো খুব অনায়াসেই আপনার পায়ে ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে।

৫। আপনি যখন কোথাও বসবেন পায়ের উপর পা তোলা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করবেন। কেননা পায়ের উপরে পা তুলে বসলেন রক্ত চলাচল বিঘ্নিত হয় এবং সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৬। অনেকেই নিয়মিত পায়ের নখ কাটেন না। যার জন্য নখ বড় হওয়ার ফলে আপনি হোঁচট খেতে পারেন এবং আপনার পায়ে ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে। তাই নিয়মিত পায়ের নখ কাটা চেষ্টা করুন।

৭। আপনার পায়ে যদি কড়া পড়ে তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। কেননা একজন ডায়াবেটিস রোগীর পায়ের কড়া দেখা দিলে সেটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

আপনার পা বাঁচাতে ধূমপান ছেড়ে দিন

আমরা সকলেই জানি ধূমপানের ফলে আমাদের শরীরে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং আমাদের স্ট্রোক দেখা দেয়। তাই আমরা বলতে পারি একজন ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে তার শরীরে রক্ত চলাচল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তাই আপনি যদি একজন ডায়াবেটিস রোগী হয়ে থাকেন এবং আপনার ধূমপানের অভ্যাস থাকে থাকে অবশ্যই সেটাকে বর্জন করুন।

একজন ডায়াবেটিস রোগীকে অবশ্যই একটি নিয়ম তান্ত্রিক খাবারের তালিকা মেনে চলতে হবে। কেননা আপনার শরীরে রক্ত চলাচল অব্যাহত রাখতে সুষম খাবারের দ্বিতীয় কোনো জুড়ি নেই।  সুতরাং আপনার রক্ত চলাচল সচল রাখতে এবং ব্লাড সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে কি ধরনের খাবার খেতে হবে সেটা আপনাকে অবশ্যই মেনে চলতে হবে।

কখন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে?

একজন ডায়াবেটিস রোগী যদি কোন কারণে পায়ে আঘাত খায় বা তার পা পুড়ে যায়। তার পায়ে যদি ফোস্কা হয় বা এমন জাতীয় কিছু দেখা দেয় তবে তাকে অবশ্যই যতো দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। কেননা একজন ডায়াবেটিস রোগীর জন্য এই লক্ষণগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং বিপদজনক।

যেসকল লক্ষণগুলো দেখা দিলে আপনাকে অতি দ্রুত ডাক্তারের কাছে যেতে হবে সেগুলো নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

১। আপনার পা থেকে যদি রক্ত পুঁজ বা কসানী এ জাতীয় কোনো কিছু বের হয়। অথবা পায়ের চামড়া কেটে যায় বা ফেটে যায় তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

২। পায়ের চামড়া রং যদি কোনো কারণে পরিবর্তিত হতে থাকে। যেমন লালচে হয়ে যাওয়া কালো হয়ে যাওয়া বা হলুদ বর্ণ এমনকি ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া তবে আপনাকে সচেতন হতে হবে।

৩। যেখানে পূর্বে কোন ক্ষত বা ফোসকা ছিল এমন জায়গা যদি আরো বেশি ফুলে যায় বা ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে থাকে।

৪। ডায়াবেটিস হওয়া কালীন সময়ে যে সকল জায়গায় সমস্যা হতে পারে বলে ধরা হয় সে সকল জায়গায় যদি কোন প্রকার সমস্যা দেখা দেয় যেমন আলসার বা সমজাতীয় কিছু তবে অবশ্যই সেটা কে গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে।

উপরের সকল আলোচনা থেকে আমরা খুব সহজে বলতে পারে যে একজন ডায়াবেটিস রোগীর জন্য তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ যদিও প্রতিটা মানুষের জন্যেই তার প্রত্যন্ত মূল্যবান কিন্তু একজন স্বাভাবিক মানুষের তুলনায় একজন ডায়াবেটিস রোগীর পা খুব বেশি পরিমাণে লাজুক হয়ে থাকে তাই একজন স্বাভাবিক মানুষ তার পায়ের যত্ন সঠিক ভাবে না নিলেও একজন ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে তার পায়ের যত্ন নিয়ে আড্ডা যে কতটুকু জরুরী এবং গুরুত্বপূর্ণ সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না

Leave a Reply

Your email address will not be published.