করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশে প্রবাসী আয় কমে যাচ্ছে এবং রেমিট্যান্স নির্ভর জনগোষ্ঠীর ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। ফলে দেশের অর্থনীতিও আগের অবস্থায় থাকবে না। এ নিয়ে দেশের অর্থনীতিবিদরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। Read in English

এটা আমাদের দেশের জন্য নেতিবাচক ও বিপজ্জনক বার্তা। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতমবৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান খাত প্রবাসী আয়ে ভাটির টান দেশের উন্নয়ন এর জন্য উদ্বেগজনক ঘটনা। ২০২০ সালের জুলাই থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহে অস্থিরতার বিষয়টি আমাদের দেশের গণমাধ্যম এসেছে। রেমিট্যান্সের নিম্নগতি অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা বড় ধরনের চাপ কমবে। রেমিট্যান্স কমার ফলে ইতোমধ্যে রিজার্ভে চাপ বাড়ায় ডলারের দাম বৃদ্ধি পেয়ে টাকার মান কমে গেছে। এ চাপ আরও বাড়লে মানুষের ক্রয় ক্ষমতার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা অর্থনীতির সূচকগুলোকে এলোমেলো করে দিতে পারে।

বাংলাদেশ রেমিটেন্স সেক্টর

এ অবস্থায় রেমিট্যান্স বাড়ানোর জন্য নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বৈধপথে ব্যাংকিং চ্যানেলে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের ১৭ দিনে ৬৮ কোটি ৫৪ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলারের ৮৬ টাকা ধরে) যার পরিমাণ ৫ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা । এ অংক আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৮ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিল ১২৭ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার। দেশীয় মুদ্রায় (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ধরে) যার পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৮৬০ কোটি টাকা।

করোনাভাইরাসের কারণে প্রবাসীরা এক ধরনের অনিশ্চয়তা থেকে অনেকে জমানো টাকা দেশে পাঠিয়েছেন। কেউ চাকরি হারিয়ে, অনেকে ব্যবসা বন্ধ করে সব অর্থ পাঠিয়ে দেশে ফিরেছেন। করোনার প্রাদুর্ভাবের ওই সময় অবৈধ চ্যানেলগুলো বন্ধ ছিল তাই বাধ্য হয়ে সবাই ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠিয়েছে। ফলে গত বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহ বেশি ছিল। এখন ব্যবসা বাণিজ্য সচল হয়েছে। শিক্ষা, চিকিৎসা ভ্রমণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বহির্বিশ্বের সঙ্গে যাতায়াত বাড়ছে । ফলে ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে চাহিদা বেড়েছে। | ছাড়া জমানো টাকা না পাঠিয়ে অনেকে আবার জমাতে শুরু করেছেন।

রেমিটেন্স সেক্টরের ক্ষতি

আবার সশরীরে যাওয়া-আসাশুরু হওয়ায় অনেকে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে আসছেন। ফলে চলতি অর্থ বছরে বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে। এ কথা কোনোভাবেই অস্বীকারের উপায় নেই, অভিবাসীরা আমাদের জাতীয় উন্নয়নের প্রথম সারির সৈনিক। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সে দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বেড়েছে। করোনাভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি এবং সময়ের দাবি। এটি সত্য, করোনাভাইরাস মহামারি বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘ মেয়াদে, বিশেষ নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে । খরচের বিষয়টি বিবেচনা করে অনেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠান না; ওই সব রেমিট্যান্স আসে হুন্ডিতে । এতে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাহ কমে যাচ্ছে। অনেক প্রবাসী ব্যাংকিং ব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত নন, যে কারণে তারা ব্যাংকে না গিয়ে হুন্ডিতে রেমিট্যান্স পাঠান। বিদেশে বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় হুন্ডিবাজদের তৎপরতা বেশি, যে কারণে অনেক প্রবাসী তাদের মাধ্যমেই রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহী হন। জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমানোর বিষয়টি আলোচনায় থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। রেমিট্যান্স আয় যাতে ব্যাংকিং খাতের মাধ্যমে দেশে আসে সে বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.