বৈশ্বিক বায়ু পরিস্থিতি-২০২০: বায়ুদূষণ কীভাবে সারাবিশ্বে আয়ুষ্কালকে প্রভাবিত করে। শিরোনামে একটি প্রতিবেদন বলছে, বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশের মানুষের আয়ুষ্কাল গড়ে তিন বছর কমছে। Read in English

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হেলথ ইফেক্ট্রস ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিকস অ্যান্ড ইভাল্যুশনের যৌথভাবে তৈরি বিশেষ প্রতিবেদনটি ২০১৯ সালে বিশ্বের বায়ুর মানের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে । প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে বিশ্বে মানুষের মৃত্যুর চতুর্থ প্রধান কারণ বায়ুদূষণ। বায়ুদূষণে বিশ্বে প্রতিবছর ৭০ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু হয়।বায়ুদূষণের বর্তমান (২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী) মাত্রা বিশ্বে মানুষের গড় আয়ুষ্কাল এক বছর আট মাস কমিয়েছে। বিভিন্ন শহর ভেদে গড় আয়ু কম হবার মান টাও ভিন্নরকম। অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু কম হবার মান অনেক বেশি পরিবেশ দূষণ এবং বায়ু দূষণের ফলে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু প্রায় তিন বছর পর্যন্ত কমে যাচ্ছে। যেটা সত্যিই অনেক বড় সমস্যা হতে যাচ্ছে।

বায়ু দূষণ ও বাংলাদেশ

বৈশ্বিক প্রতিবেদনটি আরও বলছে, বিশ্বের স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মানুষের আয়ুষ্কালের ওপর বায়ুদূষণের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। এসব দেশে অনেকেই উচ্চমাত্রার বাহ্যিক (আউটডোর) ও অভ্যন্তরীণ (ইনডোর) বায়ুদূষণের দ্বিগুণ ভোগান্তির শিকার হন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওশেনিয়া, দক্ষিণ এশিয়া ও সাবসাহারান আফ্রিকা অঞ্চলে বায়ুদূষণের জন্য মানুষের আয়ুষ্কাল সবচেয়ে বেশি কমছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশের মানুষের আয়ুষ্কাল গড়ে কমছে ২ দশমিক ৯ বছর। এর মধ্যে ১ দশমিক ১৬ বছর কমে বাইরের (আউটডোর) বায়ুদূষণে। আর ১ দশমিক ৫৩ বছর কমে ঘরের (ইনডোর) বায়ুদূষণে। ২০২০ সালের জরিপের ওপর ভিত্তি করে ২০২১ সালের জুনে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জানায়, দেশের মানুষের গড় আয়ু ৭২ দশমিক আট বছর। এর মধ্যে পুরুষের গড় আয়ু ৭১ দশমিক দুই বছর । নারীর গড় আয়ু ৭৪ দশমিক পাঁচ বছর।

বাংলাদেশের ঢাকা শহর পৃথিবীর বসবাস অযোগ্য শহরের মধ্যে অন্যতম একটি শহর। এই শহরে বসবাস করাটা কতটা কঠিন যারা এই শহরে বসবাস করে শুধুমাত্র তারাই বলতে পারবে। যারা ঢাকা শহরে বাস করে তাদের বেশিরভাগ মানুষেরই বিভিন্ন স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকে। পৃথিবীর সবথেকে বড় এবং ঘনবসতিপূর্ণ শহর হিসেবে ঢাকার একটি খ্যাতি আছে। ঢাকা শহরে ছোট ছোট পাখির বাসার মত অনেক বস্তি গড়ে উঠেছে। যেসকল বস্তিতে ছোট একটি ঘরের মধ্যে অনেক মানুষ একসাথে থাকার জন্য তারা সঠিক পরিমাণে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারে না। এবং প্রায়ই তারা বিভিন্ন স্বাস্থ্য ঝুঁকি সহ নানান রোগে আক্রান্ত হন।

বায়ু দূষণের সাথে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা

চীন, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, মিয়ানমার ও ভুটানের চেয়ে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ুষ্কাল বায়ুদূষণের কারণে বেশি কমছে। অর্থাৎ, আয়ুষ্কালের ওপর বায়ুদূষণের প্রভাব এই দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের ওপর বেশি। বাংলাদেশ এমনিতেও দিনদিন পরিবেশ বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে এর প্রধান কারণ আমরা নিজেরাই। কেননা পরিবেশ বিপর্যয় যে সকল কারণের জন্য সৃষ্টি হয় তার সবটাই সাধিত হচ্ছে আমাদের দ্বারাই। যত্রতত্র ময়লা আবর্জনার স্তুপ যেখানে সেখানে পচা সবজি বাসি খাবার দাবার ছেড়ে ছেড়ে রাখা ইত্যাদি।

বায়ু দূষণের ফলে আমরা জানি প্রতিটা দেশেরই গড়ায় কমতে থাকে যে দেশে বায়ু দূষণের হার যতটা বেশি সেই দেশের গড় আয়ু ততটাই কম। বায়ু দূষণের বৃদ্ধির হার যে হারে বাড়তে থাকবে গড় আয়ুর হার ততটাই কমতে থাকবে বিভিন্ন সমীক্ষা অনুযায়ী চীন, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্থান ও  মিয়ানমার সহ বিভিন্ন দেশে নিম্নের হারে হড় আয়ু  কমতে থাকে। যেমন ভারতে ২.৬৯ বছর।  মিয়ানমারে ২.৬,  চীনে ১.৮৫ বছর। ভুটানে ২ দশমিক শূন্য ৯ বছর। বায়ুদূষণের কারণে এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয়ুষ্কাল কমে নেপালে। দেশটির মানুষের আয়ুষ্কাল গড়ে কমে ৩ দশমিক শূন্য ৫ বছর। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি আয়ুষ্কাল কমা দেশ পাপুয়া নিউগিনি। দেশটির মানুষের আয়ুষ্কাল গড়ে কমছে ৩ দশমিক ২ বছর। তারপর রয়েছে নাইজেরিয়া (৩ দশমিক ১ বছর) ও সোমালিয়া (৩ দশমিক শূন্য ৪ বছর)। প্রতিবেদনে বলা হয়, তামাক ব্যবহারের কারণে মানুষের গড় আয়ুষ্কাল যতটা কমে, বায়ুদূষণের কারণেও প্রায় ততটাই কমে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.