লবণ খাওয়ার উপকারিতা : লবণ কে আমরা স্বাদ বর্ধনকারী খাদ্য উপাদান হিসেবে জানি। তবে দেহে লবণের গুরুত্ব অনেক। হৃদযন্ত্র থেকে শুরু করে কিডনি অ্যাড্রিনাল গ্ল্যান্ড এর মত শরীরের বিশেষ অঙ্গগুলোর কার্যক্রম পরিচালনায় লবণের ভূমিকা অপরিসীম। লবন ছাড়া খাবারের কোন প্রকার স্বাদ পাওয়া যায় না। লবণ খাবারের স্বাদ কে বাড়িয়ে তোলে স্বাদ কে বের করে আনে। লবণ শরীরের জন্য উপকারী। Read in English

লবণ খাওয়ার অনেকগুলো প্রকার রয়েছে। আমাদের আজকের এই পোস্টের মাধ্যমে আমরা লবণ খাওয়ার উপকারিতা এবং এর কিছু ক্ষতিকর দিক সমূহ নিয়ে আলোচনা করব। আপনারা যারা লবণ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে ইচ্ছুক তারা আজকের এই আলোচনায় তিনি সর্বশেষ পর্যন্ত পড়ুন। আশাকরি আমাদের আজকের এই নিবন্ধ থেকে আপনারা অনেক অজানা তথ্য জানতে পারবেন।

লবণ খাওয়ার উপকারিতা

আমরা যখন কোন খাবার খাই সেই খাবারের যদি কোন স্বাদ না থাকে তাহলে সেই খাবার খেতে ইচ্ছে করেনা। লবণ খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করে থাকে। যদি কোন খাবারে লবণের পরিমাণ কম হয় তাহলে আমরা অতিরিক্ত লবণ দিয়ে সুস্বাদু করে নিতে পারি। লবণ খাওয়ার উপকারিতা 

লবণ খাওয়ার উপকারিতা

লবণ এমন এক ধরনের খনিজ পদার্থ যা কম খেলেও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর আবার বেশি খেলে স্বাস্থ্যের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আমাদের সবার উচিত পরিমিত পরিমাণে লবণ খাওয়া। এবং অতিরিক্ত লবণ থেকে বেঁচে থাকা। কাঁচা লবণ খাওয়া অভ্যাস থেকে দূরে থাকা। লবণ খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কিত অনেকগুলো তথ্য নিচে উল্লেখ করা হলো।

আয়োডিনের অভাব পূরণ করে

আয়োডিন আমাদের দেহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। আমাদের দেহ নিজে থেকে আর্ন উৎপন্ন করতে পারে না এবং এর অভাবে শারীরিক গঠন ও বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। আয়োডিনের অভাবে গলগন্ড রোগ হতে পারে। শরীরে আয়রনের অভাব পূরণ করার জন্য সবথেকে উৎকৃষ্ট উপাদান হলো লবণ। লবণ থেকেই আমাদের দেহের আয়োডিনের অভাব পূরণ হয়ে থাকে। লবণ খাওয়ার উপকারিতা 

ওজন কমাতে সাহায্য করে

অতিরিক্ত মোটা হয়ে যাওয়া বা স্থূলতা আমাদের বর্তমান সমাজের নিকট একটি বড় সমস্যা। আমাদের দৈহিক যতোটুকু লবণ প্রয়োজন ততটুকুই খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত লবণ দ্রুত ওজন বাড়াতে পারে। তবে পরিমিত পরিমাণে লবণ খেলে কোন সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

হজমে সাহায্য করে

হজম শক্তি বাড়াতে হাইড্রোক্লোরিক এসিড প্রয়োজন। এইএসসি ক্লোরিন এবং হাইড্রোজেন এর সমন্বয়ে তৈরি হয়, যা লবণে বিদ্যমান। খাবার আগে সামান্য পরিমাণ লবণ জিহ্বায় লাগিয়ে নিলে সেটি খাবার হজম করতে সাহায্য করে।

মুখের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে

লবণ ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার সাথে লড়াই করতে পারে। অনেকে মাড়ির ব্যথা ও দাঁতের ব্যথায় ভুগে থাকেন যা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। নিয়মিত লবণ জলের গার্গল করলে মুখের ব্যাকটেরিয়া থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে

পরিমিত পরিমাণ লবণ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। লবণ রক্তের চিনির পরিমাণ কে প্রভাবিত করে না। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে লবণ গ্রহণ করা উচিত। পরিমিত পরিমাণে লবণ খাওয়ার মাধ্যমে শরীরের তরলকে স্বাভাবিক রাখা যায়। যেসকল ডায়াবেটিস রোগী কোন ইনসুলিন গ্রহণ করেন লবণ খাওয়া সম্পর্কে অবশ্যই চিকিৎসকের নিকট পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। লবণ খাওয়ার উপকারিতা 

সর্দি কাশি কমাতে উপকারী

সর্দি কাশি কমাতে ও লবণ বিশেষ উপকারী। কাশি ক্ষেত্রে মুখে সামান্য লবণ রাখলে ঘন ঘন কাশি হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ব্লাড ভেসেল ও সেলগুলোকে লবণ অনেকটা সংকুচিত করে যার ফলে আমাদের শরীর গরম থাকে।

লবণের ক্ষতিকর দিক

অতিরিক্ত লবণ খেলে রক্তচাপ এর পাশাপাশি বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা সম্ভাবনা থাকে। লবণের মধ্যে থাকা খনিজ পদার্থ সমূহ কম বা বেশি দুটোই আমাদের শরীরের জন্য অপকারী। লবণ যেমন কম খেলে সমস্যা হতে পারে তেমনি লবণ বেশি খেলে সমস্যা হতে পারে। আমাদের উচিত আলাদাভাবে লবণ না খেয়ে রান্নার সময় পরিমাণ মতো ব্যবহার করা।

Benefits-of-Eating-Salt

বেশি লবণ খেলে কি হয়?

বেশি লবণ দেহের কোষে তরলের ভারসাম্য রক্ষায় সমস্যা তৈরি করে। যার ফলে বেশি বেশি পানি পিপাসা পায় এবং পানির ইচ্ছে হয়। আপনারা জেনে থাকবেন অতিরিক্ত পরিমাণ পানি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত পরিমাণে লবণের ব্যবহারে হাড়ের ক্যালসিয়াম প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়ে যায় যার ফলে অতিরিক্ত দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়।

কাঁচা লবণ খেলে কি হয়?

কাঁচা লবণ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি তৈরি করে। এর ফলে হূদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম তৈরি হতে পারে। অতিরিক্ত পরিমাণে কাঁচা লবণ খেলে ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি রোগ হতে পারে। তাই আমাদের সবসময় অতিরিক্ত লবন খাওয়া থেকে যেমন বেঁচে থাকতে হবে তেমনি কাঁচা লবণ খাওয়া থেকে দূরে থাকতে হবে। যতটুকু প্রয়োজন বা পরিমান মত লবন রান্নায় ব্যবহার করে খেতে হবে। লবণ খাওয়ার উপকারিতা 

আলোচনার কোন অংশ বুঝতে সমস্যা হলে অথবা আলোচনা সম্পর্কিত যে কোন প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিস্তারিত যে কোন তথ্য জানতে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। আমাদের সাথে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.