ব্লাড প্রেসার বিষয়টি সবার কাছে অত সহজ মনে হলেও আসলে একজন প্রেসার রোগীর কাছে এ বিষয়টি অনেকটা মারাত্মক। ব্লাড প্রেসার এর ফলে একটা রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ব্লাড প্রেসার দুই ধরনের হয়ে থাকে হাই ব্লাড প্রেসার এবং লো ব্লাড প্রেসার।  সব ক্ষেত্রেই একজন রোগীর মৃত্যুঝুঁকি পর্যন্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাই প্রেসার মাপার ক্ষেত্রে একজন রোগীকে সর্বদাই সঠিক মাপ নির্ধারণ করতে হয় একজন মানুষ সুস্থ থাকার ক্ষেত্রে প্রেসার সবসময় স্বাভাবিক এর মধ্যে থাকাটা অত্যন্ত জরুরি তাই একজন হাই ব্লাড প্রেসার লো ব্লাড প্রেসার রোগীর ক্ষেত্রে দিনে অন্তত কয়েকবার  ব্লাড প্রেসার মাপার প্রয়োজন হয়ে থাকে। Read in English

ব্লাড প্রেসার মাপতে গেলে আমরা অনেক রকমের ভুল করি। প্রেসার কম বা বেশি দেখায়, আসল অবস্থা জানা যায় না, অতিরিক্ত বা অল্প চিকিৎসা হয়।আসুন দেখে নেই বা জেনে নেই কিভাবে প্রেসার মাপলে প্রেশারটা একদম ঠিক মত পাবেন??

প্রেসার মাপার পূর্ব প্রস্তুতি প্রেসার মাপার আগে দুইটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে

১. ব্লাড প্রেসার মাপার আগে ৩০মিনিট কিছু নির্দিষ্ট কাজ করা যাবে না। একাজগুলো কিছু সময়ের জন্য প্রেসার বাড়িয়ে দিতে পারে। যার ফলে প্রেসার মাপার পরে নির্দিষ্ট সেটা বোঝা যায়। আসুন জেনে নেই কাজ গুলো কি কি? চা-কফি, কোমল পানীয় পান বা ধূমপান এবং ব্যায়াম। চা-কফি ও কোমল পানীয়তে আছে ক্যাফিন। ব্লাড প্রেসার কে বাড়িয়ে দেয় এবং সিগারেটে থাকার নিকোটিন ও ব্যায়াম করলেও ব্লাড প্রেসার বেড়ে যায়।

২. প্রেসার মাপার সময় নিজেকে স্বস্তিতে রাখবেন। প্রেসার মাপার আগে ৫ মিনিট চুপ করে বসে থাকবেন নিজেকে রিল্যাক্স করার জন্য। ৫ মিনিটে আপনার কারো সাথে কথা বলা যাবে না। প্রেসার মাপার আগে আপনারা বাথরুমের কাজ সেরে নেবেন। কারণ বাথরুম থাকা অবস্থায় পেটে এক ধরনের চাপ সৃষ্টি হয় যেটা ব্লাড প্রেসার বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই যেকোনো ধরনের চাপ ছাড়াই নিজেকে রিল্যাক্স রাখার চেষ্টা করুন প্রেসার মাপার সময়।

এখন আসুন জেনে নেই প্রেসার মাপার সঠিক নিয়ম সম্পর্কেঃ

১. প্রেসার কি দাঁড়িয়ে মাপবেন, বসে মাপবেন, নাকি শুয়ে মাপবেন? উত্তর হচ্ছে- বসে মাপবে। তবে বসার কিছু নিয়ম আছে। যেখানে বসেন আপনাকে দুইটা জিনিস খেয়াল রাখতে হবে পিট কিছুতে হেলান দিয়ে আছেন আর সোজা ভাবে বসে আছেন।

২. প্রেসার মাপার সময় পা কিভাবে রাখবেন? পায়ের পাতাদুটো মেঝের ওপর সমানভাবে রাখবে, একটা ছোট টুলের ওপরে রাখতে পারেন। পায়ের পাতার নিচে কিছু না রেখে পা ঝুলিয়ে রেখে প্রেসার মাপলেও প্রেসার বেশি আসতে পারে  আবার একটা পায়ের উপর আরেকটা পা রেখে প্রেসার মাপা যাবে না এত প্রেসার বেশি আসার সম্ভাবনা আছে।

৩. প্রেসার মাপার সময় হাত কোথায় এবং কিভাবে রাখবেন? আপনার হাত থাকতে হবে হার্ড লেভেল বরাবর। হার্টের লেভেল হচ্ছে বুকের হাড়ের মাঝ বরাবর আর হাতটা এক জায়গায় বসিয়ে রাখতে হবে একটা চেয়ারের হাতলে ওপর বা টেবিলের ওপর রাখতে পারেন।

৪. হাতের উপর জামা কাপড় থাকলে সে ক্ষেত্রে কি করবেন? প্রেসার মাপার সময় হাতের উপর থেকে জামা কাপড় সরিয়ে নিতে হবে তাই এ সময় ছোট হাতের গেঞ্জি, শার্ট পরবেন যেন সহজে হাতের উপর থেকে কাপড়টা সরানো সম্ভব হয়।

৫.প্রেশার মাপার মেশিন কিভাবে নির্বাচন করবেন? হাত, হাতে কব্জিতে, এমনকি আঙ্গুলের প্রেসার মাপার মেশিন আছে। তবে আপনারা হাতে প্রেসার মাপার মেশিন টা ইউজ করবেন। এখন পর্যন্ত হাতে প্রেসার মাপার মেশিন তাই বেশি গ্রহনযোগ্য। তবে মেশিন কেনার সময় খেয়াল রাখবেন মেশিনটা আপনার হাতের সাইজের হচ্ছে কিনা। একটা ফিতা দিয়ে প্রথমে আপনার হাতের সাইজ মেপে নেবেন তারপরে সেই সাইজের উপর নির্ভর করে প্যাকেটের গায়ে দেওয়া সাইজ অনুযায়ী প্রেসার মাপার মেশিনটা কিনে নেবেন।

প্রেসার মাপার সঠিক নিয়ম

৬. প্রেসার কিভাবে মাপবেন? ডানহাতি হলে বাম হাতে মাপবেন এবং বামহাতি হলে ডান হাতে মাপবেন অথবা দুই হাতের ব্লাড প্রেসারে যদি পার্থক্য থাকে তাহলে যে হাতে ব্লাড প্রেসার বেশি হবে সে হাতে প্রেশারটা মেপে নেবেন। একবার প্রেশার মেপে শেষ করবেন না এক মিনিট পর আবার মাপবেন। দুটো ব্লাড প্রেসার একটা কাগজে লিখে রাখবেন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করার জন্য।

৭. প্রেসার মাপার আগেও যেমন কথা বলা যাবে না তেমনি প্রেসার মাপার সময় কথা বলবেন না। এমন কি কথা শোনা যাবে না তাই আশেপাশে যারা আছেন তাদেরকে কথা না বলতে অনুরোধ করুন। কারণ প্রেসার মাপার সময় আপনি কথা বললে এমনকি কারো কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলেও প্রেসার বেশি আসতে পারে। তাই ডাক্তারের চেম্বারে প্রেসার মাপার সময় কথা বলা থেকে বিরত থাকবেন।

আশাকরি উপরে বর্ণিত নিয়মগুলো মেনে আপনারা যদি প্রেশার মেপে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনি সঠিক মাপ টি পেয়ে যাবেন। অন্যথায় আপনার ভুল মাপের জন্য আপনার রোগীর অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। তাই অবশ্যই যারা ব্লাড প্রেসার মাপার সঠিক নিয়ম কি তা জানেন না আমাদের এই নিয়ম গুলো ভালো করে আয়ত্ত করে নিবেন। সেইজন্য আপনাকে অবশ্যই পোস্টটি পুনরায় পড়ার অনুরোধ রইল। আপনার বাসায় যদি একজন প্রেসারের রোগী থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই আজকের পোস্টটি আপনার জন্য অনেক সুফলদায়ক হবে। তাই উক্ত নিয়ম মেনে ব্লাড প্রেসার মাপার চেষ্টা করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.