গুগল ক্রোম এখন কার সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ইন্টারনেট ব্রাউজার। উইন্ডোস হোক কিংবা অ্যান্ড্রয়েড অথবা যে কোন প্ল্যাটফর্ম সব জায়গাতেই আমরা গুগল ক্রোম ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু গুগল ক্রোমের ফুল ফিচার গুলো আমরা সবাই ব্যবহার করতে পারিনা। কেননা গুগল ক্রোমের অনেক ফিচার এবং হিডেন কিছু ট্রিকস রয়েছে যেগুলো সম্পর্কে আমরা সবাই অবগত না। আজকে আমরা আপনাদের সাথে গুগল ক্রোমের ০৫ টি হিডেন ট্রিকস এন্ড টিপস শেয়ার করব। যেগুলো জানার পরে আপনার ইন্টারনেট ব্রাউজিং টা আরো বেশি সহজ এবং মজাদার হয়ে উঠবে। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক গুগল ক্রোমের ০৫ টি ফিচার সম্পর্কে Read in English

১। ট্যাব গ্রুপিং :

আমাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছে যারা একসাথে ২০-৩০ টি ট্যাব ওপেন করে ইন্টার্নেট ব্রাউজিং করে থাকেন। ব্রাউজিং এর সময় ট্যাব গুলো অনেক বেশি ছোট হয়ে যায় এবং ট্যাব সুইচ করতে গিয়ে অনেক রকমের সমস্যা হয়, ট্যাব ক্লোজ হয়ে যায় দেখতেও খুব একটা ভালো লাগে না এবং ট্যাব খুঁজে পেতে অনেকটা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এরকম পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট ব্রাউজিং খুব সমস্যার মনে হয়। আপনি চাইলে টপ গ্রুপিং ফিচারটি ব্যবহার করে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।1st-for-done

ধরুণ আপনি সোশ্যাল মিডিয়ার পাঁচটি ট্যাব খুলে রেখেছেন আপনি চাইলে এই পাঁচটি ট্যাব কে সোশ্যাল মিডিয়া নাম দিয়ে একটি গ্রুপের মধ্যে রাখতে পারেন। এতে করে আপনার ট্যাবের পরিমাণ কমে যাবে এবং ইন্টার্নেট ব্রাউজিং এ অনেক সুবিধা হবে। গ্রুপ করার জন্য আপনি যেকোনো একটি ট্যাবে কার্সর রেখে রাইট বাটনে ক্লিক করে দেখতে পাবেন Add tab to a new group। গ্রুপ তৈরি করার সময় গ্রুপের নাম দিয়ে আপনি চাইলে গ্রুপ একটি নতুন কালার‌ও দিতে পারবেন যেন আপনি পরবর্তীতে সহজেই চিনতে পারেন। কালার এবং নাম দিয়ে দিলেই হয়ে যাবে এই গ্রুপ এখন আপনি চাইলে আরো ট্যাব এই গ্রুপে এড করতে পারেন এর জন্য আপনাকে ওই ট্যাবে গিয়ে রাইট ক্লিক করে Add tab to group এ ক্লিক করে আপনি যে গ্রুপটা ক্রিয়েট করেছেন সেটি সিলেক্ট করতে পারেন। অথবা আপনি চাইলে নতুন গ্রুপ তৈরি করতে পারেন। ট্যাব গুলোকে আপনি চাইলে একসঙ্গে মিনিমাইজ করতে পারেন এর জন্যে শুধু ওই গ্রুপে ক্লিক করলেই সব ট্যাবগুলো মিনিমাইজ হয়ে যাবে। আপনি চাইলে একটা গ্রুপের সবগুলো ট্যাবকে আলাদাভাবে নতুন উইন্ডোতে নিয়ে আসতে পারবেন আবার সেটাকে প্রিভিয়াস উইন্ডোতে ও নিয়ে আসতে পারবেন। গ্রুপিং টা অনেক বেশি ইউজফুল এবং অনেক বেশি টাইম সেভিং। আপনারা এই ফিচার টা ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

২। হাইলাইট টেক্সট :

দ্বিতীয় ফিচারটি হলো কোন একটা স্পেসিফিক টেক্সট হাইলাইট করে কারো কাছে লিঙ্ক পাঠানো। ধরুন আপনি একটা আর্টিকেলের স্পেসিফিক একটা পার্ট কাউকে পড়তে বলছেন কিন্তু আপনি তাকে আসলে বুঝাতে পারছেন না সে আর্টিকেলে কোন পার্টটি পড়বে। আপনি চাইলে সেটা হাইলাইট করে তার কাছে লিংক পাঠাতে পারেন।2nd-ok

সেটা করার জন্য আর্টিকেলটির স্পেসিফিক পার্ট মার্ক করবেন। মার্ক করার পরে রাইট বাটন ক্লিক করে Copy link to highlight নামের একটা অপশন আছে সেটাতে প্রেস করবেন। তাহলে একটা নতুন লিংক ক্লিপবোর্ডে কপি হয়ে যাবে। এবার যেকোনো জায়গায় পেস্ট করে আপনি এই লিংকটা পাঠাতে পারবেন এবং যাকে পাঠাবেন সে যখন এই লিংকটা ওপেন করবে তখন স্পেসিফিক যে টেক্সট আপনি পড়তে বলছেন সেটা হাইলাইটেড হয়ে থাকবে। এভাবে আপনি টেক্সট মার্ক করে কারো কাছে লিংক পাঠাতে পারবেন।

৩‌। সিনক্রোনাইজেশন :

এই ফিচার টা অনেক বেশি ইউজফুল এবং আমার মনে হয় অনেকেই ইউজ করেন। সেটা হচ্ছে সিনক্রোনাইজেশন। গুগোলের একটা খুব সুন্দর ফিচার। জিমেইল দিয়ে প্রত্যেকটা ডিভাইসে আপনি চাইলেই গুগল ক্রোমের যে হিস্ট্রি, সেভ করা পাসওয়ার্ড, লোকেশন বা অটোফিল আছে সবকিছু কিন্তু আপনি প্রত্যেকটা ডিভাইসে সিনক্রোনাইজ করতে পারেন।3no-ok

সেটা করার জন্য গুগল ক্রোমের উইন্ডোজের উপরে দেখবেন প্রোফাইলের একটি আইকন আছে সেখানে ক্লিক করবেন। ক্লিক করার পরে Turn on sync নামে একটা অপশন আছে সেটাতে প্রেস করলেই আপনার জিমেইল একাউন্ট টা চাইবে এবং আপনি একটি জিমেইল দিয়ে অ্যাকাউন্ট টা সাইন-ইন করবেন। সাইন ইন করা হয়ে গেলেই আপনার সিনক্রোনাইজেশন অন হয়ে যাবে। এরপর আপনি যত ওয়েব সাইট ব্রাউজ করেন যত বুকমার্ক সেভ করেন অথবা যত প্রেমেন্ট ইনফর্মেশন, অ্যাড্রেস বা অন্যান্য যেকোন ইনফরমেশন যা আপনি সেভ করবেন সবগুলো আপনার প্রত্যেকটা ডিভাইসে সিনক্রোনাইজ হয়ে যাবে। সুতরাং রাতের বেলা আপনি যদি কোন ওয়েবসাইট ভিজিট করেন। সকালবেলা যখন আপনি ফোন এ সেই ওয়েবসাইট টা ভিজিট করতে চাইবেন তখন আপনাকে সেই ওয়েবসাইটের নাম মনে রাখতে হবে না আপনি চাইলে আপনার ব্রাউজার হিস্ট্রি চেক করেই সেই লিংকটা বা সেই ওয়েবসাইট টা খুঁজে পেতে পারেন।

পাশাপাশি আপনার যত পেমেন্ট ইনফর্মেশন অথবা এড্রেস যেগুলো সেভ করা থাকবে সেগুলো আপনি কিন্তু সেখান থেকে মোবাইলেও অ্যাক্সেস করতে পারেন বা অন্য নতুন কোন ডিভাইস গেলেও এক্সেস করতে পারবেন। এই সিনক্রোনাইজেসন ফিচারটা যদি আপনি ইউজ না করে থাকেন এখনও। তাহলে অবস্যই ইউজ করে দেখবেন অনেক বেশি সহজ হয়ে যাবে আপনার জন্য যখন আপনি নতুন কোনো ডিভাইসে যাবেন। এখানে মজার একটি বিষয় হল আপনি যদি অন্য কারো গুগল ক্রোমে আপনার জিমেইল অ্যাড্রেস লগইন করেন এবং আপনি যদি সেখান থেকে আপনার জিমেইল একাউন্ট সাইন আউট করে দেন তাহলে কিন্তু আপনার সকল ইনফরমেশন সেখান থেকে মুছে যাবে। তাই অন্য কারো গুগল ক্রোমে গিয়ে লগইন করার পর আপনার ইনফর্মেশন থেকে যাওয়ার কোন ভয় নেই।

৪। ওয়েবসাইট ওপেন করা :

এই ফিচারটি হলো গুগল ক্রোম ওপেন করার সাথে সাথেই স্পেসিফিক কিছু ওয়েবসাইট ওপেন করা। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা কিছু ওয়েবসাইট সব সময় ভিজিট করেন যেমন ফেসবুক, ইউটিউব বা অন্যান্য যে ওয়েবসাইট গুলো আছে সেগুলো আপনি চাইলেই গুগল ক্রোম ওপেন করার সাথে সাথে অটোমেটিক্যালি শেই ওয়েবসাইট গুলো ওপেন হয়ে যাবে।4no-ok

সেটা করার জন্য গুগল ক্রোমে ডানপাশে উপরের দিকে যে তিনটা ডট আছে সেখানে প্রেস করবেন করার পর নিচের সেটিংস এ যাবেন। সেটিংস এর বাম পাশে দেখবেন On startup নামে একটা অপশন আছে। সেটাতে ক্লিক করার পর দেখবেন তিনটা অপশন আছে। এরমধ্যে 3 নাম্বার অপশন টি দেখবেন Open a specific page or set of pages এখানে প্রেস করলেই নতুন একটি অপশন আসবে add a new pages এখানে প্রেস করে আপনি আপনার পছন্দের ওয়েবসাইট লিঙ্ক দিয়ে দিন এভাবে আপনি অনেকগুলো ওয়েবসাইট অ্যাড করতে পারবেন। এরপরে যখন আপনি উইন্ডোজ ক্লোজ করে দিবেন তারপরে যখন আপনি গুগল ক্রোমে আবার ঢুকবেন তখন অটোমেটিক্যালি সেই ওয়েবসাইট গুলো খুলে যাবে। এর ফলে যে ওয়েবসাইট গুলো আপনি সবসময় ওপেন করে। সেটা আর লিখে লিখে ওপেন করতে হবে না। বা বার বার ক্লিক করে ওপেন করতে হবে না।

৫। গুগল ক্রোম ফ্লাক্স :

এটা হচ্ছে গুগল ক্রোমের এক্সপেরিমেন্টাল কিছু ফিচার বা বেটা ফিচারও বলতে পারেন। যেগুলো এখনও পর্যন্ত তারা ট্রায়ালের মধ্যে রেখেছে। এবং যদি সেটা সত্যিকার পাশ করে তবে হয়তো সেটা সবাইকে উপভোগ করতে দেবে। তো এই ফিচারটা যদি আপনি উপভোগ করতে চান তাহলে গুগল ক্রোমের যে অ্যাড্রেস বার আছে সেখানে গিয়ে লিখতে হবে chrome://flags তারপর এন্টার প্রেস করতে হবে5no-ok

তাহলে আপনি এক্সপেরিমেন্টাল ফিচারগুলোর লিস্ট দেখতে পাবেন। যেখানে অনেকগুলো এক্সপেরিমেন্টাল ফিচার রয়েছে। এখান থেকে আপনি আপনার পছন্দ মত ফিচারগুলি ইউজ করতে পারেন। তবে এখানে একটি সতর্কতামুলক কথা বলছি আর সেটা হল যে অপশন টা সম্পর্কে আপনি খুব বেশি শিওর না যে এটা করলে কি হয় সেটা ব্যবহার না করাই উচিত। তবে এখানে আমি একটি অপশনের কথা বলে দিতে পারি আর তা হলো paralel Downloading। এই ফিচারটা যদি আপনি অন করে রাখেন তাহলে আপনার ফাইল ডাউনলোড স্পিড টা একটু বাড়বে। আপনারা যারা Idm বা Internet Download maneger ব্যবহার করেন তারা খেয়াল করবেন সেখানে ডাউনলোড স্পিড একটু বেশি পাওয়া যায় কারণ হচ্ছে Idm একটি ফাইলকে টুকরো টুকরো করে ভাগ করে এবং আলাদা আলাদা ভাবে ডাউনলোড করে যার ফলে স্প্রিড টা একটু বেশি হয়। Paralel Downloading ফিচারটি গুগল ক্রোমে একই ভাবে কাজ করবে। ফাইল গুলোকে টুকরো টুকরো করে আলাদাভাবে ডাউনলোড করবে। তো আপনারা চাইলে এই ফিচারটি উপভোগ করতে পারেন। গুগল ক্রোমের এই এক্সপেরিমেন্টাল ফিচারগুলো অনেকেরই কাজে আসতে পারে।

গুগল ক্রোমের আরও পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার সম্পর্কে অন্য একটি পোস্টে আলোচনা করা হয়েছে পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.