প্রিয় বন্ধুরা চুলকে আমরা কে না ভালোবাসি!!! মানুষ চেহারার চেয়ে চুলই বেশি পছন্দ করে!!! অনেকের কাছে চুল অনেক মূল্যবান কিছু। কিন্তু এই চুল কয়জন ধরে রাখতে পারে? তাই আজ আমরা এইখানে আলোচনা করব যে ছেলেদের চুলের যে অনেক ধরনের সমস্যা হয় তা থেকে বাচার উপায় বা চুলের যত্নে কিছু টিপস করনীয় যা ছেলেদের চুলকে আরো আকর্ষণীয়, ঝলমলে এবং দীর্ঘস্থায়ী করে তুলতে সাহায্য করবে।

তবে এই টিপসগুলো আপনি যদি ফলো করেন, আপনি অবশ্যই অনেক উপকার পাবেন। আপনার যদি চুলের সমস্যা, চুল পড়া, চুলে জোট, চুলের যাবতীয় সমস্যা বা সমাধান ইত্যাদি থেকে থাকে তবে এই আলোচনা আপনারই জন্যে।

তাহলে আর দেরি করি কেন, আসেন শুরু করা যাক আমাদের আজকের টপিক নিয়ে বিস্তারিত ।

) চুলের যত্নে অবশ্যই পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন :

অনেক ছেলেই রয়েছেন যারা নিজেদের চুলকে আরো ঘন করতে চায়, চুল সিল্কি ও শাইনি করতে চায় । কিন্তু চুল ঘন করতে অবশ্যই আপনার শরীরকে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যামাইনো এসিড সরবরাহ করতে হবে।

অনেক ছেলেরা আছে যাদের খাবারের প্রতি খুব বেশিই অনীহা, খুতখুতে ধরনের। অনেক বাছাই করে করে খায় কিন্তু চুলের যত্নে পুষ্টিকর খাবার অনেক গুরুত্বপূর্ণ। মাছ, মাংস, পনির, দুধ, ডিম এবং আরো এই ধরনের পুষ্টিকর খাবারগুলো আপনি যদি আপনার প্রতিদিনের খাবার তালিকায় যুক্ত করতে পারেন তবে অবশ্যই এগুলো আপনার চুলের যত্নে অনেক সাহায্য করবে।

আপনার শরীর যাতে পর্যাপ্ত পরিমানের ভিটামিন পায় তা অবশ্যই আপনাকেই নিশ্চিত করতে হবে চুলের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে। মাথার ত্বক থেকে চুল পড়ে যাওয়ার প্রধান কারনগুলোর মধ্যে একটি হলো চুলে পর্যাপ্ত পরিমানের অক্সিজেনের স্বল্পতা।

তাই বলা যায় যে, চুল পড়া রোধে অবশ্যই জিঙ্ক এবং আয়োডিন যুক্ত খাবার যেমনঃ কলিজা, বাদাম, মটরশুঁটি, মাংস, দুধ ইত্যাদি বেশি বেশি করে খাবেন। আর অবশ্যই দিনে যত বেশি পারেন পানি পান করবেন। যদি ধূমপান, মদ্যপান বা এমন কোনো অভ্যাস থেকে থাকে তবে যত দ্রুত পারেন তা ত্যাগ করার চেষ্টা করবেন।

) পানি পান করা :

প্রচুর পানি পান করতে হবে হবে কারন পানি স্বল্পতাও চুল নষ্টের অন্যতম কারন। কিন্তু চাকফি, ধূমপান ত্যাগ করতে হবে। সেলুনে গেলে দেখা যায় যে অনেকে চুল কাটার পর জোরে জোরে মাথা ম্যাসেজ করিয়ে নেয়। এতে চুলের কিন্তু প্রচণ্ড ক্ষতি হয়। এইসব কিন্তু করা যাবে না। এমনকি পাঁচ মিনিটে করা যায় সহজ একদম এরকম একটি চুলের ফ্যাশন বা স্টাইল বেছে নিতে হবে।

তা যদি না হয় তবে আপনার চুলকে সবসময় দীর্ঘক্ষন ধরে আঁচড়াতে হবে এবং এর ফলে আপনার গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে আপনি তাড়াতাড়ি যে কোনো কিছুই করতে পারবেন। দৈনন্দিন জীবনে এটা অনেক বড় সমস্যার কারনও হতে পারে।

) মাথার ত্বক ম্যাসাজ করা :

মাথার ত্বক ম্যাসাজ করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ অংশ চুল সতেজ রাখতে। মাথায় তেল লাগানোর সময় বা শ্যাম্পু করার সময় যদি আঙ্গুল দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ম্যাসাজ করা হয় তবে চুল অনেক ভালো থাকে। এমনকি এতে মাথার ত্বকের রক্ত সঞ্চালন অনেক বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া দিনে কয়েকবার মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়াবেন। এর ফলে আপনার চুল ও মাথার ত্বক আরো বেশি ভালো থাকবে।

) চুলে তেল দেওয়াঃ

চুলে তেল দেয়ার বিষয়টা অনেকেই পছন্দ করেন না।অনেকেই এটিকে ঘৃনা করেন বা অনেকের কাছেই এই কাজটি খুবই পছন্দনীয় নয়। তাই তারা এই কাজটি করতেই চান না।

তবে আপনি হয়ত জানা নেই যে চুলে তেল দেওয়ার যা যা উপকারিতা রয়েছে তা চুলে শ্যাম্পু দেওয়ার থেকেও বেশি! হ্যাঁ, আপনি ঠিকই বুঝেছেন।

আপনার চুল পড়া কমানোর অত্যন্ত এবং একটি কার্যকরী টিপস হলো চুলে তেল ম্যাসাজ করা। দিনে কিছুটা সময় নিয়ে আপনার মাথায় বাদাম তেল বা অলিভ অয়েল কিংবা নারিকেল তেল হালকা ম্যাসাজ করুন। নিজেই নিজের উপকার বা পরিবর্তন লক্ষ্য করবেন।

এর ফলে আপনার মাথার ত্বকও অনেক ভালো থাকবে এবং আপনার চুল গুলো নষ্টও হবে না। এর ফলে আপনার মাথার ত্বক ও চুল দুটি অনেক স্বাস্থ্যজ্জ্বল ও সুন্দর এবং ঝলমলেও দেখাবে।

) শ্যাম্পু করার পর অবশ্যই কন্ডিশনারের ব্যবহারঃ

শ্যাম্পু করার পর যদি কন্ডিশনার ব্যবহার করা যায় তবে চুল ঝরঝরে এবং ঝলমলে হয়ে ওঠে। তাই শ্যাম্পু করার পর অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করা উচিত চুলের ঝলমলতার জন্য। যদি মনে করেন কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন না তবে কন্ডিশনারের স্থানে এক মগ পানিতে লেবুর রস দিয়েও চুল ধুয়ে নিতে পারেন। কন্ডিশনের কাজই করে এই প্রক্রিয়া।

তবে একটি দিকে অবশ্য নজর দেয়া উচিত সেটা হলো যে কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে কন্ডিশনার যেন চুলের গোঁড়া ও মাথার ত্বকে না লেগে থাকে। এতে করে চুল ঝরে যাওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি থাকে।

) জেল, হেয়ার স্প্রে ইত্যাদি দিয়ে অনেকক্ষণ না রাখা :

অধিকাংশ ছেলেরা বেশিরভাগ সময় যে ভুলটি করে থাকে তা হল চুলে অনেক সময় ধরে জেল, হেয়ার স্প্রে এগুলো ব্যবহার করে চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য। এতে চুলের উপকার না অপকারই বেশি হয়। সেটি হলো সহজেই চুলে ময়লা ধুলোবালি আটকে যায়।

এছাড়া লম্বা সময় ধরে জেল ব্যবহার করলে মাথার ত্বকের ভেতরে অনেক সমস্যা হতে পারে। তাই দিনের বেলা যখন আপনার বাইরে কাজ করার সম্ভাবনা বেশি তখন জেল অবশ্যই ব্যবহার করবেন না। আর যখনই জেল বা হেয়ার স্প্রে ব্যবহার করবেন চেষ্টা করবেন দ্রুত বাসায় ফিরে চুল ধুয়ে ফেলার তাতে কিছু হলেও কম ক্ষতি হবে চুলের ।

যদি এমনটা না করা হয় তা হলে আপনার মাথার ত্বক ও চুলের গোড়া থেকে সম্পূর্ণ চুল অতি তাড়াতাড়ি ক্ষয় হতে শুরু করবে এবং একটা সময় আপনার চুলের অনেক বড় সমস্যা দেখা দিবে যা আপনি মোটেই চাইবেন না অবশ্যই। কারন কেউই চান না যে চুলের কোন ক্ষতি হোক তাও নিজের চুলের।

) মেথির ব্যবহার :

ছেলে হোক বা মেয়ে হোক নিয়মিত চুলের যত্নের জন্যে মেথির ব্যবহার অনেক গুরুত্বপূর্ণ চাইলে ব্যবহার করতে পারেন। এটি হেয়ার প্যাক হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন কেননা হেয়ার প্যাক হিসেবে ব্যবহৃত করা হলে খুব দ্রুত কাজ করে। গবেষণায় প্রমানিত যে,মেথি চুলের জন্যে খুবই উপকারী একটি উপাদান।

আপনি সামর্থ্যের মধ্যে যা করতে পারেন তা হলোঃ বাজার জাত যে কোন নারিকেল তেল নয় যেটা আসল নারিকেল তেল সেটা নিয়ে। মানে নারিকেল তেল গরম করে নিয়ে এরপর এতে কিছু মেথির গুড়া মিশিয়ে নিবেন। এরপর এই মেথি সারারাত ভিজিয়ে নিয়ে এগুলোকে সকালে থেতিয়ে নিয়ে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে নিবেন।ঘন্টাখানেক বা ২ রাখার পর শ্যাম্পু করে সম্পূর্ণ চুল পানি দিয়ে ধুয়ে নিবেন। আপনি যদি সপ্তাহে তিন দিন এই টিপসটি ব্যবহার করেন তবে খুব তাড়াতাড়িই পরিবর্তন দেখতে পারবেন।

অথবা ২৪ ঘন্টা মেথি পানিতে ভিজিয়ে ব্লেন্ড করেও দিতে পারেন সাথে শুধু একটা ছোট পেয়াজ, ক্যাস্টর অয়েল আর ডিম একটা। সপ্তাহে ১ দিব করে ১ মাস ব্যবহার করলেই পরিবর্তন বুঝতে পারবেন অনেক। ক্যাস্টর অয়েল, পেয়াজ, মেথি,ডিম এই গুলো সবই চুলের গ্রোথ বাড়াতে বা চুলে জীবন ফেরাতে বা নতুন চুল গজাতে ১০০ ভাগ সাহায্য করে।এরপর ঘন্টাখানেক বা ২ রাখার পর শ্যাম্পু করে সম্পূর্ণ চুল পানি দিয়ে ধুয়ে নিবেন। এভাবে ব্যবহারে ইনশাআল্লাহ খুব তাড়াতাড়িই পরিবর্তন দেখতে পারবেন। এর ফলে আপনার চুল আরো সুন্দর, ঘন ও ঝলমলে দেখাবে।

) চুলের রুক্ষতা দূর করতে যা করতে পারেনঃ

সারাদিন বাইরে থাকার কারনে ছেলেদের চুল খুব দ্রুতই অনেক বেশি রুক্ষ হয়ে যেতে পারে। এই রুক্ষতা দূর করতে চাইলে আপনি পাকা কলার পেস্ট বা মধু বা লেবুর রস দিয়ে প্যাক বানিয়ে তা চুলে লাগাতে পারেন।

এছাড়াও আপনি অ্যালোভেরা জেল বা আস্ত অ্যালোভেরা ব্যবহার করতে পারেন। এটি চুলের রুক্ষতা ও খুশকির হাত থেকে চুলকে রক্ষা করে এবং চুল অনেক সিল্কি ও শাইনিও করে। এই প্যাকগুলো সপ্তাহে অন্তত দুইদিন ব্যবহারেই আপনি ব্যাপক মাত্রায় পরিবর্তন দেখতে পারেন।

আর এখানে সবকিছুই একেবারে প্রাকৃতিক এবং নিজের হাতে ব্যবহৃত। তাই এখানে কোনো ভেজাল নেই বা খারাপের আশংকা নেই। ফলে আপনার চুলের কোনো ক্ষতি হবার বিন্দুমাত্র ভয় নেই।

) ভালো শ্যাম্পু বাছাই করাঃ

বাজারে ছেলেদের চুলের জন্যে বিভিন্ন ধরনের বিভিন্ন মানের শ্যাম্পু পাওয়া যায়। কিন্তু সব শ্যাম্পুই যে কার্যকরী হয় আসলে তা না। এর মধ্যে এমনও কিছু শ্যাম্পু আছে যেগুলোতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক সম্পন্ন উপাদান যা আপনার চুলকে করবে আরো রুক্ষ কিংবা একদম নষ্টও করে দিতে পারে।

এসব রাসায়নিক সম্পন্ন উপাদান আপনার চুল ও মাথার ত্বককে নষ্ট করে বিভিন্ন ধরনের রোগ যেমন আর কি চুল পড়া জনিত বিভিন্ন সমস্যার কারন হতে পারে। সেজন্য অবশ্যই ভালো শ্যাম্পু বাছাই করা খুবই প্রয়োজনীয় চুলের জন্য।

১০) চুল ধোয়ার সঠিক নিয়ম :

চুল ধোঁয়ারও নিয়ম আছে। যেমন তেমন করে চুল ধুয়ে ফেললেই হবে না। তাই বলছি চুল ধোয়ার সময় কখনই গরম পানির ব্যবহার করবেন না। এতে আপনার চুল রুক্ষ হয়ে যেতে পারে অথবা জমাটও বেঁধে যেতে পারে। তাছাড়া গরম পানি কিন্তু চুলের ছত্রাক কে নষ্ট করে, মাথার ত্বক জালা করে এবং চুলে জট ধরায় খুবই তাড়াতাড়ি।

তাই চুলের যত্নের জন্য ক্লোরিনযুক্ত পানি এবং লবণাক্ত পানি এড়িয়ে চলুন যতটা বেশি সম্ভব। তা না হলে আপনার উপকারের থেকে অপকারই বেশি হবে। তাই সুস্থ ও সুন্দর একটি জীবন গড়ে তুলতে ও চুলের যত্ন নিতে অবশ্যই অবশ্যই এই টিপসগুলো ফলো করুন।

এখন থেকেই শুরু করে দিলে আপনি খুব অল্প সময়েই দ্রুত পরিবর্তন দেখতে পারবেন। আর হ্যাঁ অবশ্যই দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকার চেষ্টা করবেন। এর ফলে আপনার মাথার ত্বক এবং চুল দুটোই ভালো থাকবে।

অনেকেই জীবনের নানান ধরনের সমস্যা নিয়ে অনেক দুশ্চিন্তায় মগ্ন থাকেন। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা রাখলে এসব দুশ্চিন্তা খুব সহজেই দূর করা যায়। আপনি নিজের মস্তিস্ককে যতটা ভালো রাখতে পারবেন আপনার শরীর ও মন ততটাই ভালো থাকবে।

এছাড়াও নিয়মিত ব্যায়াম, শরীরচর্চা, হাটাচলা এর বিকল্প নেই। এগুলোর মাধ্যমে অবশ্য আপনার শরীর ও মন দুটোই যথেষ্ট ভালো থাকবে। নিজেকে ও নিজের কাছের মানুষের সাথে হাসিঠাট্টা করার ফলেও আপনার মন ও ব্রেইন দুটোই ভালো থাকবে যা আপনার দুশ্চিন্তা কাটাতে সাহায্য করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.